রেগে স্ত্রীকে থাপ্পড় মারা অপরাধ নয়? ! বড় রায় হাইকোর্টের

- Advertisement -

JKNews24 Disk: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য বা ঝগড়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু ঝগড়ার সময় একদিন স্বামী যদি স্ত্রীকে থাপ্পড় মারেন, সেই ঘটনাকেই সরাসরি গার্হস্থ হিংসা বা আত্মহত্যার প্ররোচনার কারণ হিসেবে ধরা যাবে না—এমনটাই পর্যবেক্ষণ করেছে Gujarat High Court। ১৯৯৬ সালের একটি পুরনো মামলার শুনানিতে আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয়। আদালতের মতে, একক কোনও ঘটনার ভিত্তিতে পুরো বিষয়টিকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা বা নির্যাতনের পর্যায়ে ফেলা যায় না, যদি না তার পেছনে ধারাবাহিক মানসিক বা শারীরিক নির্যাতনের প্রমাণ থাকে।

মামলার প্রেক্ষাপট

ঘটনাটি ১৯৯৬ সালের মে মাসের। গুজরাটের শাড়িগ্রাম গ্রামে স্বামীর চাষের ক্ষেত থেকে প্রমিলা নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। প্রমিলার বাবার অভিযোগ ছিল, বছরখানেক আগে তাঁর মেয়ের বিয়ে হয়েছিল দিলীপের সঙ্গে, কিন্তু বিয়ের পর থেকেই তাকে মারধর ও হেনস্থা করা হত, আর সেই পারিবারিক হিংসার জেরেই তিনি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে দিলীপের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ (বধূ নির্যাতন) ও ৩০৬ (আত্মহত্যায় প্ররোচনা) ধারায় মামলা দায়ের হয়। পরে দায়রা আদালত ২০০৩ সালে সমস্ত প্রমাণ খতিয়ে দেখে দিলীপকে দোষী সাব্যস্ত করে—গার্হস্থ্য হিংসার জন্য এক বছরের কারাদণ্ড এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার জন্য সাত বছরের সাজার নির্দেশ দেয়। তবে এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই তিনি পরবর্তীতে Gujarat High Court-এর দ্বারস্থ হন।

হাইকোর্টে শুনানির সময় প্রমিলার মা-বাবা দাবি করেন, দিলীপ ব্যাঞ্জো বাজানোর কাজ করতেন এবং প্রায়ই গভীর রাতে বাড়ি ফিরতেন, সেই কারণেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি লেগে থাকত। তাঁদের অভিযোগ ছিল, দিলীপ প্রমিলাকে মারধরও করতেন। একবার স্বামীকে না জানিয়ে বাপের বাড়িতে একদিন বেশি থেকে যাওয়ার কারণে প্রমিলাকে থাপ্পড় মারা হয়েছিল বলেও জানানো হয়। তবে মামলার শুনানিতে বিচারপতি গীতা গোপি স্পষ্ট মন্তব্য করেন, একটি নির্দিষ্ট দিনে থাপ্পড় মারার ঘটনা একা নিজে থেকে গুরুতর অপরাধ বা আত্মহত্যায় প্ররোচনার প্রমাণ হিসেবে ধরা যায় না। আদালত আরও লক্ষ্য করে যে, নিয়মিত মারধরের অভিযোগ থাকলেও সে বিষয়ে কোনও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, এমনকি কোনও চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি বা ডাক্তারের প্রমাণও পেশ করা হয়নি।

হাইকোর্ট স্পষ্ট জানায়, প্রমিলা এবং দিলীপের বিয়ে এক বছরও টেকেনি। পণের দাবিতে তাঁর বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগও ওঠেনি। দিলীপের রাত করে বাড়ি ফেরাই মূলত অশান্তির কারণ ছিল। এরকম দাম্পত্য কলহ প্রত্যেক সংসারে লেগে থাকে। দাম্পত্য অশান্তির কারণে যে প্রমিলা আত্মহত্যা করেছে, সেরকম কোনও প্রমাণ মেলেনি। তাই দিলীপের কাজকর্মকে কোনওভাবেই আত্মহত্যার কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। সেই কারণেই দিলীপকে আদালত বেকসুর খালাস করে দিয়েছে।

--Advertisement--
- Advertisement -
Rohan Khan
Rohan Khanhttps://jknews24.in
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
Latest news
- Advertisement -
Related news