JKNews24 Disk: বাঙালির হেঁশেলে আর কিছু থাকুক বা না থাকুক, ঝুড়ি ভর্তি আলু থাকবেই। মাছের ঝোল হোক কিংবা খাসির মাংস, আলু ছাড়া আমাদের ঠিক জমে না। কিন্তু সমস্যা বাঁধে অন্য জায়গায়। প্রতিদিন সেই একই আলু-ভাতে বা আলু-চচ্চড়ি খেতে খেতে জিভে যেন চর পড়ে যায়। তখন মনে হয়, যদি সাধারণ এই আলু দিয়েই একটু রাজকীয় কিছু বানানো যেত! চিন্তা নেই, আপনার একঘেয়ে দুপুরের খাবারকে জমিয়ে তুলতে আজ আমরা নিয়ে এসেছি ‘দই আলু’ (Dahi Alu) বা আলুর এক অভিনভ রেসিপি
আলুর নতুন রেসিপি
আমরা সাধারণত আলুর দম বা কষা আলুতে টমেটো ব্যবহার করি। কিন্তু টক দই আলুর সাথে মিশলে যে ক্রিমি টেক্সচার তৈরি করে, তা টমেটো দিতে পারে না। দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিড আলুকে ভেতর থেকে নরম করে, আর রান্নায় আনে একটা সুন্দর সাদাটে বা হালকা হলুদ আভিজাত্য। এছাড়া গরমের দিনে বা হজমের সমস্যায় টক দই স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ উপকারী।
প্রয়োজনীয় উপকরণ (যা আপনার রান্নাঘরেই আছে)
রান্না শুরু করার আগে একবার মিলিয়ে নিন আপনার কাছে এই উপকরণগুলো আছে কি না। আমরা কোনো ফ্যান্সি বা দুর্লভ মশলা ব্যবহার করব না:
- আলু: ৫০০ গ্রাম (মাঝারি মাপের হলে ভালো, ডুমো করে কাটা)।
- টক দই: ১ কাপ (অবশ্যই ভালো করে ফেটানো, না হলে ঝোলে দানা দানা হয়ে থাকবে)।
- আদা বাটা: ১ টেবিল চামচ।
- কাঁচা লঙ্কা: ৩-৪টি (ঝাল নিজের সহ্যক্ষমতা অনুযায়ী)।
- ফোড়নের জন্য: ১ চা চামচ জিরে, ২টো শুকনো লঙ্কা এবং এক চিমটি হিং (হিং দিলে ফ্লেভারটা একেবারে পাল্টে যায়)।
- গুঁড়ো মশলা: হলুদ গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো এবং সামান্য কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো।
- কসৌরি মেথি: ১ চা চামচ (এটিই হলো সিক্রেট ইনগ্রেডিয়েন্ট)।
- তেল ও নুন: পরিমাণমতো।
প্রণালী:প্রথমে সেদ্ধ আলুর খোসা ছাড়িয়ে ডুমো ডুমো করে কেটে নিন। অন্যদিকে একটি ছোট পাত্রে দই ভালো করে ফেটিয়ে নিন, খেয়াল রাখবেন যেন একেবারে মসৃণ হয় এবং কোনো দলা না থাকে। এরপর সেই দইয়ের মধ্যে বেসন দিয়ে আবার ভালোভাবে মিশিয়ে রাখুন, যাতে পরে কড়াইতে দিলে কেটে না যায়। এবার কড়াইয়ে ঘি গরম করে তাতে গোটা জিরে ফোড়ন দিন। জিরে চটকাতে শুরু করলে হিং ও কাঁচালঙ্কা দিয়ে হালকা নেড়ে নিন।
এরপর সেদ্ধ করে রাখা আলু কড়াইয়ে দিয়ে অল্প আঁচে একটু ভেজে নিন। আলু হালকা সোনালি হয়ে এলে একে একে হলুদ, ধনে গুঁড়ো ও স্বাদমতো নুন দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। মশলার গন্ধ বেরোতে শুরু করলে ফেটিয়ে রাখা দই কড়াইয়ে ঢেলে দিন। এই সময় গ্যাসের আঁচ একেবারে কমিয়ে দিন এবং দই দেওয়ার পর থেকে ক্রমাগত নাড়তে থাকুন, না হলে দই ফেটে যেতে পারে।
মিশ্রণটি একটু ঘন হয়ে তেল ছাড়তে শুরু করলে সামান্য জল যোগ করুন। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ঝোল ফুটতে শুরু করবে এবং ধীরে ধীরে সুন্দর ঘন হয়ে আসবে। শেষে উপর থেকে ধনেপাতা কুচি ও সামান্য গরমমশলা ছড়িয়ে দিন। ব্যস, তৈরি আপনার দই-আলুর সুস্বাদু ঝোল—গরম ভাত বা রুটির সঙ্গে পরিবেশন করুন, স্বাদে মন ভরে যাবে।
