JKNews24 Disk: আমরা যারা গ্রাম অঞ্চলে থাকি, নানা প্রয়োজনেই গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে যেতে হয়—ইনকাম সার্টিফিকেট, স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্র বা অন্য কোনও ছোটখাটো প্রশাসনিক কাজের জন্য (Gram Panchayat Job)। এই পঞ্চায়েত অফিসে বিভিন্ন পদে সরকারি ও স্থানীয় কর্মীরা দায়িত্ব পালন করেন। অনেকেরই প্রশ্ন থাকে, সেখানে সরকারি কর্মী হিসেবে চাকরি পেতে হলে কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, কী নিয়ে পড়াশোনা করতে হবে বা কম্পিউটার জানা কতটা জরুরি? এসব নিয়েই আজকের এই পোস্টে থাকছে সম্পূর্ণ ও সহজ ভাষায় বিস্তারিত তথ্য, যাতে আপনার প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হয়।
Table of Contents
পঞ্চায়েতের বিভিন্ন পদের যোগ্যতা ও বেতন(Gram Panchayat Job)
গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন স্তরে পঞ্চায়েত কর্মী, নির্মাণ সহায়ক, সেক্রেটারি, ক্লার্ক, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, ক্যাশিয়ার ও গ্রুপ–ডি সহ একাধিক পদে নিয়োগ করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত পদ দুটি হলো পঞ্চায়েত সেক্রেটারি (সচিব) এবং নির্বাহী সহায়ক বা এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট। যাদের ওপর অফিসের প্রশাসনিক কাজের বড় দায়িত্ব থাকে। অনেকেই জানতে চান, এই পদগুলিতে আবেদন করতে কী শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন। কম্পিউটার জ্ঞান কতটা জরুরি এবং মাসিক বেতন কত পাওয়া যায়। নিচে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পদের যোগ্যতা, নিয়োগ প্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য বেতন কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
গ্রাম পঞ্চায়েত কর্মী
পঞ্চায়েত অফিসে কেরানি বা ক্লার্ক পদে কাজের দায়িত্ব বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সমস্ত খাতা-পত্র সংরক্ষণ, খাজনার বিল জমা নেওয়া, সাধারণ বাসিন্দাদের বিভিন্ন ফর্ম পূরণে সহায়তা করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প সংক্রান্ত নথিপত্রের কাজ সামলাতে হয়। অনেক সময় নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে রিপোর্ট তৈরি বা অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজও করতে হয়। এই পদে আবেদন করার জন্য প্রার্থীকে অন্তত দশম শ্রেণী পাশ হতে হবে, বয়স ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে থাকতে হবে এবং পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া বাধ্যতামূলক। যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত হলে মাসিক বেতন প্রায় ১৭,০০০ টাকা থেকে ৪৩,৬০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
Nirman Sahayak: নির্মান সহায়ক
নির্মাণ সহায়ক মূলত গ্রাম পঞ্চায়েতের ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেন। বাড়ি বা দোকানের নকশা অনুমোদন করা, বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পের তদারকি করা, সরকারি প্রকল্পের কাজ ঠিকমতো হচ্ছে কি না তা দেখা এবং সাধারণ মানুষকে নির্মাণ সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়াই তাঁর প্রধান দায়িত্ব। এই পদে আবেদন করতে হলে প্রার্থীর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা অথবা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি থাকতে হবে। বয়স ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হওয়া আবশ্যক এবং আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। স্থায়ীভাবে নিয়োগ পেলে মাসিক বেতন প্রায় ২৮,৯০০ টাকা থেকে ৭৪,৫০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত হয়।
Gram Sahayak: গ্রাম সহায়ক কর্মী
সেক্রেটারি ও নির্বাহী সহায়ক পদে কর্মরত ব্যক্তিরা গ্রাম পঞ্চায়েতের অফিসিয়াল খাতা-পত্রের কাজ সামলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিভিন্ন প্রশাসনিক নথি প্রস্তুত করা, প্রকল্প সংক্রান্ত কাগজপত্র রক্ষণাবেক্ষণ, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করা এবং দৈনন্দিন অফিসের কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করাই তাঁদের মূল দায়িত্ব। এই পদে আবেদন করতে হলে প্রার্থীকে স্বীকৃত বোর্ড থেকে মাধ্যমিক বা সমতুল্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। বয়স ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে থাকতে হবে এবং পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া বাধ্যতামূলক। নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীরা মাসিক বেতন হিসেবে প্রায় ২২,৭০০ টাকা থেকে ৫৮,৫০০ টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন।
পঞ্চায়েত সেক্রেটারি (গ্রাম সচিব)
গ্রাম সচিব বা সেক্রেটারি হলেন গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্যতম মুখ্য পদাধিকারী। পঞ্চায়েতের যাবতীয় প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করা, সভার কার্যবিবরণী রেকর্ড রাখা, বিভিন্ন সরকারি নির্দেশ কার্যকর করা এবং অফিসের সামগ্রিক তদারকি করাই তাঁর প্রধান দায়িত্ব। এই পদে আবেদন করতে হলে প্রার্থীকে স্বীকৃত বোর্ড থেকে উচ্চ মাধ্যমিক বা সমতুল্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। পাশাপাশি কোনও স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে ন্যূনতম ৬ মাসের কম্পিউটার অপারেটিং কোর্স করা বাধ্যতামূলক। আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে থাকতে হবে এবং পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া প্রয়োজন। নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীরা মাসিক প্রায় ২৮,৯০০ টাকা থেকে ৭৪,৫০০ টাকা পর্যন্ত বেতন পেতে পারেন।
নির্বাহী সহকারি
নির্বাহী সহায়ক বা এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদটি মূলত প্রশাসনিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই পদে নিযুক্ত ব্যক্তি অফিসের বিভিন্ন সরকারি নথিপত্র সামলানো, দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করা এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের দৈনন্দিন কার্যক্রমে সরাসরি সহায়তা করার দায়িত্ব পালন করেন। এই পদে আবেদন করতে হলে প্রার্থীকে অবশ্যই স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস হতে হবে এবং একটি স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে কম্পিউটার কোর্স সম্পন্ন করা থাকতে হবে। আবেদনকারীর বয়সসীমা ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া বাধ্যতামূলক। স্থায়ীভাবে নিয়োগ পেলে মাসিক বেতন ২৮,৯০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৭৪,৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
কিভাবে এই পদগুলিতে নিয়োগ এবং চাকরি পাওয়া যায়?
উপরের পদগুলিতে চাকরি পেতে হলে পঞ্চায়েত নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে নির্ধারিত পরীক্ষা পাশ করতেই হয়। প্রতিবছর এই পরীক্ষা হয় না, তাই অনেকেই সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন। মেধা তালিকার ভিত্তিতে নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে। তাই যারা আবেদন করার কথা ভাবছো, এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করলে এগিয়ে থাকা যাবে। কোন পদটি তোমার জন্য উপযুক্ত হতে পারে, সেই বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকলে প্রস্তুতি নেওয়াও অনেক সহজ হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়োগের বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি ইতিমধ্যেই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে, চাইলে সেটি দেখে পুরো তথ্য জেনে নিতে পারো।
(অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে চোখ রাখতে পারেন: https://wbprms.in/)
