JKNews24 Disk: নাওয়াফ সালাম ঘোষণা করেছেন যে হিজবুল্লাহর সব ধরনের সামরিক ও নিরাপত্তা কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হলো এবং এখন থেকে তাদের ভূমিকা কেবল রাজনৈতিক পরিসরেই সীমাবদ্ধ থাকবে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর সঙ্গে সংঘাতের পরই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন, লেবাননর ভূখণ্ডে বৈধ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বাইরে কোনো সামরিক বা নিরাপত্তা অভিযান বরদাস্ত করা হবে না। তিনি আরও জানান, হিজবুল্লাহর সব কার্যক্রম এখন থেকে অবৈধ বলে গণ্য হবে এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে দেশের মাটি থেকে যেকোনো ধরনের হামলা প্রতিরোধে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে শত্রুতা বন্ধ করে পুনরায় আলোচনার পথে ফেরার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেছেন তিনি।
এর আগে সোমবার হিজবুল্লাহ জানায়, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে তারা ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, লেবানন ও তার জনগণের প্রতিরক্ষায় এবং ইসরায়েলের ধারাবাহিক আগ্রাসনের জবাব দিতেই এই হামলা করা হয়েছে। এর পাল্টা জবাবে ইসরায়েল রাজধানী বৈরুতসহ দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলা চালায়। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় ৩০ জনের বেশি নিহত এবং অন্তত ১৪৯ জন আহত হয়েছেন, ফলে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
লেবানন সরকারের বাইরে স্বতন্ত্রভাবে পরিচালিত হিজবুল্লাহ ২০২৪ সালের যুদ্ধে বড় ধাক্কা খায়। ওই সময় ইসরায়েল সংগঠনটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালায় বলে জানা যায়। ক্রমবর্ধমান মার্কিন ও ইসরায়েলি চাপের মুখে লেবানন সরকার হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার পরিকল্পনায় নীতিগতভাবে সম্মত হলেও গোষ্ঠীটি তা ‘মার্কিন-ইসরায়েলি চক্রান্ত’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করে। বিশেষ করে লিতানি নদীর উত্তরে অস্ত্র সমর্পণে তারা অস্বীকৃতি জানায়। হিজবুল্লাহর দাবি, ২০২৪ সালের নভেম্বরে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি কেবল লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চলে নিরস্ত্রীকরণের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, পুরো দেশের জন্য নয়—এ নিয়েই দুই পক্ষের অবস্থান স্পষ্টভাবে ভিন্ন।
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -
