Homeদেশ ও বিদেশআন্তজাতিক খবরইরান যুদ্ধের ধাক্কা! ভারত, পাকিস্তান না চিন—সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কে?

ইরান যুদ্ধের ধাক্কা! ভারত, পাকিস্তান না চিন—সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কে?

ইরানকে ঘিরে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত যে বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দিয়েছে, তা এখন পরিষ্কার—International Monetary Fund-এর রিপোর্টেও সেই আশঙ্কাই উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের শুরুতে অর্থনীতির যে গতি ছিল, তা এখন অনেকটাই কমে গিয়েছে। IMF তাদের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩.৪% থেকে নামিয়ে ৩.১% করেছে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তা ২% পর্যন্ত নামতে পারে বলেও সতর্ক […]

- Advertisement -

ইরানকে ঘিরে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত যে বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দিয়েছে, তা এখন পরিষ্কার—International Monetary Fund-এর রিপোর্টেও সেই আশঙ্কাই উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের শুরুতে অর্থনীতির যে গতি ছিল, তা এখন অনেকটাই কমে গিয়েছে। IMF তাদের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩.৪% থেকে নামিয়ে ৩.১% করেছে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তা ২% পর্যন্ত নামতে পারে বলেও সতর্ক করেছে। এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে তেল আমদানির উপর নির্ভরশীল দেশগুলিতে—বিশেষ করে ভারত, জাপান এবং ইউরোপের অর্থনীতিতে। এই আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল বলছে, আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বিশ্বের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার 2 শতাংশ নেমে আসতে পারে। এখন প্রশ্ন, ইরান যুদ্ধের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কোন দেশের?

ইরান যুদ্ধের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কোন দেশ?

আমেরিকা, ইজরায়েল ও ইরানের টানা সংঘাত বিশ্ববাজারে বড় ধাক্কা এনে দিয়েছে—বিশেষ করে Strait of Hormuz অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি পরিবহন হয়, আর সেটাই ব্যাহত হওয়ায় বহু দেশের মতো ভারতের পতাকা লাগানো জাহাজও আটকে পড়েছে। International Monetary Fund-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ Pierre-Olivier Gourinchas স্পষ্ট জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় আঘাত—কারণ এর জেরে তেলের দাম বেড়ে যাচ্ছে, সঙ্গে বাড়ছে অন্যান্য পণ্যের দামও। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মুদ্রাস্ফীতিতে, ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ বেড়ে গিয়ে ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে সরবরাহ শৃংখল এর উপর। হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ এবং এর ফলে ওই অঞ্চলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি তেল সরবরাহকে প্রভাবিত করেছে। এর ফলে ধীরে ধীরে বেড়ে চলেছে তেলের দাম। যা প্রত্যেক দেশের মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দেবে তা বলাই যায়। বিগত দিনগুলিতে আমেরিকায় পেট্রোলের দাম ব্যাপক হারে বেড়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, তেলের এমন মূল্যবৃদ্ধির ফলে আমেরিকায় অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি বাড়ছে। এদিকে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের দাবি, 2026 সালে মার্কিন অর্থনীতি 2.3 শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে, যা আনুমানিক পরিমাণের থেকে 0.1 শতাংশ কম।

আমাদের হোয়াটসঅ্যাপটেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -

ইরানকে ঘিরে সংঘাতের প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়লেও কিছু দেশে তার প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত—International Monetary Fund-এর সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে, চিন ও কানাডার প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ০.১ শতাংশ কমতে পারে। যদিও ২০২৭ সালের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যা কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধের কারণে ভারতে সাময়িক চাপ তৈরি হলেও IMF মনে করছে দেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। বরং ২০২৬ ও ২০২৭ সালের জন্য ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ০.১ শতাংশ করে বাড়িয়ে ৬.৫ শতাংশ করা হয়েছে। শুধু ভারতই নয়, পাকিস্তানের অর্থনীতিতেও উন্নতির সম্ভাবনা দেখছে IMF, যা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবেই ধরা হচ্ছে।

--Advertisement--

বিশ্ব অর্থনীতির এই টালমাটাল পরিস্থিতির মাঝেও কিছু দেশে উল্টো ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলছে—International Monetary Fund জানিয়েছে, ব্রাজিল ও রাশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস প্রায় ০.৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। তবে G7 দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে রয়েছে United Kingdom, যেখানে ইরান যুদ্ধের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। IMF ২০২৬ সালের জন্য ব্রিটেনের প্রবৃদ্ধির হার ০.৫ শতাংশ কমিয়েছে এবং ২০২৭ সালে তা প্রায় ১.৩ শতাংশে থাকবে বলে অনুমান করছে। একইসঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের ধাক্কা লেগেছে Saudi Arabia-তেও—২০২৬ সালের জন্য তাদের প্রবৃদ্ধি ১.৪ শতাংশ কমানো হয়েছে, যদিও ২০২৭ সালে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

- Advertisement -
- Advertisement -

Breaking News

- Advertisement -

Related Stories

- Advertisement -