Homeদেশ ও বিদেশজাতীয় খবর (India News)ইরান যুদ্ধের কারণে ভারতে বন্ধ হবে ইন্টারনেট? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ইরান যুদ্ধের কারণে ভারতে বন্ধ হবে ইন্টারনেট? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ইরান যুদ্ধকে ঘিরে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার মধ্যে লোহিত সাগরের নিচে থাকা সাবমেরিন ফাইবার অপটিক কেবলগুলি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ এগুলিই বিশ্বের বড় অংশের ইন্টারনেট ডেটা পরিবহনের প্রধান মাধ্যম। যদি এই কেবলগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট পরিষেবায় ধীরগতি, ল্যাটেন্সি বৃদ্ধি বা কিছু পরিষেবা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। তবে বাস্তব ছবিটা একটু ভিন্ন—ভারত-এ পুরোপুরি ইন্টারনেট বন্ধ […]

- Advertisement -

ইরান যুদ্ধকে ঘিরে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার মধ্যে লোহিত সাগরের নিচে থাকা সাবমেরিন ফাইবার অপটিক কেবলগুলি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ এগুলিই বিশ্বের বড় অংশের ইন্টারনেট ডেটা পরিবহনের প্রধান মাধ্যম। যদি এই কেবলগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট পরিষেবায় ধীরগতি, ল্যাটেন্সি বৃদ্ধি বা কিছু পরিষেবা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। তবে বাস্তব ছবিটা একটু ভিন্ন—ভারত-এ পুরোপুরি ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ দেশের ইন্টারনেট ব্যবস্থা একাধিক আন্তর্জাতিক কেবল রুটের মাধ্যমে যুক্ত, যেমন মুম্বই হয়ে ইউরোপের দিকে যাওয়া রুট এবং চেন্নাই হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরের রুট। ফলে একটি রুট ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অন্য রুট দিয়ে ডেটা ঘুরিয়ে দেওয়া সম্ভব। তাই ইন্টারনেট সম্পূর্ণ বন্ধ না হলেও স্পিড কমে যাওয়া, ভিডিও স্ট্রিমিং বা আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে কিছুটা সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।

ভারতে ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত যদি আরও তীব্র হয় এবং লোহিত সাগরের নিচে থাকা ফাইবার অপটিক কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাহলে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটতে পারে ঠিকই, তবে ভারত-এ সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের প্রায় ৬০ শতাংশ ইন্টারনেট ট্রাফিক মুম্বই হয়ে ইউরোপে যায়। যা লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটের উপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে, বাকি ৪০ শতাংশ ট্রাফিক চেন্নাই হয়ে সিঙ্গাপুর ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় রুট দিয়ে পরিচালিত হয়। বর্তমানে প্রায় ১৭টি আন্তর্জাতিক সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে দেশে ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছায়। ফলে একটি রুট ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অন্য রুট দিয়ে পরিষেবা চালু রাখা সম্ভব। তাই ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ না হলেও গতি কমে যাওয়া বা কিছু পরিষেবায় সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে যদি সমুদ্রের তলদেশে কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেগুলি মেরামত করতে অনেক সময়—কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত—লেগে যেতে পারে।

ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়ে ভয় না পাওয়ার পরামর্শের পাশাপাশি উদ্ধারের পথ বাঁধতে দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ভারতে 14টি ল্যান্ডিং স্টেশনে 17টি কেবলের মধ্যে দিয়ে ইন্টারনেট পরিচালিত হয়। কাজেই ইরান যুদ্ধের কারণে ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আগে ভারতকে বিকল্প সমুদ্র পথ খুঁজে বের করতে হবে। যা পশ্চিম এশিয়ার মধ্যে দিয়ে যায় না। অর্থাৎ পশ্চিম এশিয়ার অংশকে এড়িয়ে সমুদ্রের তলদেশে ইন্টারনেট কেবল সংক্রান্ত কাজ করার জন্য প্রযুক্তিগত ক্ষমতা বাড়াতে হবে ভারতকে।

আমাদের হোয়াটসঅ্যাপটেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -

- Advertisement -
- Advertisement -

Must Read

- Advertisement -

Related News

- Advertisement -