বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় রাজনৈতিক বার্তা দিল All India Trinamool Congress। দলের তরফে “বাংলার জন্য দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা” (TMC Manifesto)নামে নতুন ইস্তেহার প্রকাশ করে রাজ্যবাসীকে চমকে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। শুক্রবার কালীঘাট থেকে এই ইস্তেহার প্রকাশ করে তিনি জানিয়ে দেন, তৃণমূল কংগ্রেস আবার ক্ষমতায় এলে রাজ্যের প্রতিটি মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দেওয়া হবে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা। শুধু স্বাস্থ্যই নয়, এর পাশাপাশি বাংলার মানুষের জন্য আরও ৯টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিও রাখা হয়েছে এই ইস্তেহারে।
তৃণমূল এলেই দুয়ারে চিকিৎসা (TMC Manifesto)
শুক্রবার প্রকাশিত ইস্তেহারে রাজ্যবাসীর জন্য বড় প্রতিশ্রুতি হিসেবে “দুয়ারে চিকিৎসা” পরিষেবা চালুর কথা ঘোষণা করেছেন Mamata Banerjee। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, All India Trinamool Congress পুনরায় ক্ষমতায় এলে ‘দুয়ারে সরকার’-এর আদলে রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে “দুয়ারে চিকিৎসা” নামে স্বাস্থ্য শিবির চালু করা হবে। এই শিবিরগুলিতে অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা উপস্থিত থাকবেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই পরিকল্পনার পেছনে রয়েছে আগে করা উদ্যোগগুলির অভিজ্ঞতা—২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের আগে Abhishek Banerjee তাঁর ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে ‘সেবাশ্রয়’ শিবির চালু করেছিলেন। সেই মডেলকেই আরও বড় আকারে রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও সহজলভ্য হয়ে ওঠে।
তৃণমূলের ইস্তেহারে আর কী কী আছে?
ইস্তেহারে দুয়ারে চিকিৎসা পরিষেবা চালু করার কথা জানানোর পাশাপাশি রাজ্যের কয়েক হাজার সরকারি স্কুলের আধুনিকীকরণ করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই স্কুল গুলিকে মডার্ন স্কুলে রূপান্তরিত করা হবে অর্থাৎ তালিকাভুক্ত প্রতিটি স্কুলে ই লার্নিং সহ আধুনিক পঠন-পাঠন চালানো হবে। এই প্রকল্পের অধীনে নিয়োগ করা হবে প্রচুর শিক্ষক।
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -
এখানেই থেমে থাকেননি Mamata Banerjee। All India Trinamool Congress-এর ইস্তেহারে রাজ্যের প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ প্রকল্প চালুর কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলার ৭-৮টি জেলায় নতুন পৌরসভা গঠন, প্রত্যেকের জন্য পাকা বাড়ির ব্যবস্থা এবং বাড়িতে বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, বাংলাকে পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য। কৃষিক্ষেত্রে ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ ও প্রতিটি কৃষককে আর্থিক সহায়তা, বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ‘যুবসাথী’ প্রকল্প এবং মহিলাদের জন্য ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর মাধ্যমে মাসিক আর্থিক সাহায্য চালিয়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, এই ইস্তেহার রাজ্যের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জন্য একাধিক বড় প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছে।
