সোনার প্রতি ভারতীয়দের আকর্ষণ শুধুমাত্র অলংকার বা ঐতিহ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত সম্পদের একটি রূপে পরিণত হয়েছে। হ্যাঁ, ASSOCHAM-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতীয় পরিবারগুলোর কাছে গচ্ছিত সোনার পরিমাণ প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছে গেছে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪১৬ লক্ষ কোটি টাকার সমান। রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ সোনার মূল্য বিশ্বের শীর্ষ দশটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্মিলিত সোনার রিজার্ভের থেকেও বেশি।
পরিসংখ্যানে বিরাট চমক
World Gold Council এবং ASSOCHAM-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতের সরকারি কোষাগারে থাকা সোনার পরিমাণ আনুমানিক ৮৮০.৩ টন। অন্যদিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সোনার ভান্ডার রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে, যার পরিমাণ প্রায় ৮১৩৩.৫ টন। তবে যখন সাধারণ ভারতীয় গৃহস্থালির সঞ্চিত সোনার হিসাব ধরা হয়, তখন দেখা যায় এই পরিমাণ অনেক বড় অর্থনীতির শক্তিকেও ছাড়িয়ে যায়। শীর্ষ ১০টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে—জার্মানি (৩৩৫০.৩ টন), ইতালি (২৪৫১.৮ টন), ফ্রান্স (২৪৩৭ টন), রাশিয়া (২৩১১ টন), চীন (২৩0৮.৫ টন), সুইজারল্যান্ড (১০৩৯.৯ টন), ভারত (৮৮০.৩ টন), জাপান (৮৪৬ টন) এবং নেদারল্যান্ডস (৬১২.৫ টন। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ভারতীয় পরিবারের হাতে থাকা সোনার মোট মূল্য আমেরিকা ও চীন বাদে বিশ্বের প্রায় সব দেশের বার্ষিক জিডিপির থেকেও বেশি।
অর্থনীতির গেম চেঞ্জার হতে পারে সোনা
ASSOCHAM তাদের রিপোর্টে দাবি করেছে যে, ভারতের গৃহস্থলীতে অলংকার হিসেবে জমে থাকা সোনাকে যদি সঠিকভাবে অর্থনীতির কাজে ব্যবহার করা যায়, তাহলে দেশের আর্থিক চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতিবছর যদি গৃহস্থলীর সঞ্চিত সোনার মাত্র ২ শতাংশ ব্যাংকিং বা আর্থিক ব্যবস্থায় আনা যায়, তাহলে ২০৪৭ সালের মধ্যে মোট সোনার প্রায় ৪০ শতাংশ উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে। এতে ভারতের জিডিপিতে অতিরিক্ত প্রায় ৭.৫ ট্রিলিয়ন ডলার যোগ হওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। এর ফলে ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতের অর্থনীতির আকার প্রায় ৩৪ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে বলে রিপোর্টে অনুমান করা হয়েছে।
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -
