মার্চের আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার কারণে দিল্লি এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ফের কনকনে ঠান্ডা আছড়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। গত দুই-তিন দিন ধরে দিল্লি-এনসিআর ও উত্তর ভারতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ গত তিন বছরের রেকর্ড ভেঙেছে (Delhi NCR Weather Update)। তাপমাত্রা সাত ডিগ্রি কমেছে। আবহাওয়াবিদরা এই অসময়ে হওয়া বৃষ্টিকে অশনি সংকেত হিসেবে দেখছেন।
দিল্লিতে গত ৬ বছরের রেকর্ড ভাঙল
পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও প্রাক-বর্ষার প্রভাবে দেশজুড়ে বৃষ্টি দুর্যোগ শুরু হয়েছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ, অনেক জায়গায় ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি হচ্ছে, আবার কোথাও শিলাবৃষ্টির প্রভাব দেখা যাচ্ছে। শুক্রবার সকাল থেকেই দিল্লিতে আকাশ মেঘলা ও থেমে থেমে বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়া বইছে। যার ফলে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং গত ৬ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে। দিল্লির গুরুগ্রাম ও নয়ডার মতো জায়গায়, যেখানে সাধারণত মার্চে তীব্র গরম পড়ে, সেখানে টানা বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক গরম থেকে খানিকটা স্বস্তি মিলেছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছেছে ২১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১০ ডিগ্রি কম।
ফিরছে তুষার যুগ
আবহাওয়া দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, লাগাতার বৃষ্টির কারণে দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় তাপমাত্রা এখন ২৫-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। মার্চের প্রথম সপ্তাহে যেখানে ৩৫-৩৬ ডিগ্রির গরমে দিল্লিবাসী নাজেহাল হচ্ছিলেন। সেখানে এখন এই আচমকা ঠান্ডা তুষার যুগের প্রত্যাবর্তনের জল্পনা উস্কে দিচ্ছে পরিবেশবিদদের। মৌসম ভবনের তথ্যানুযায়ী, গত ৬ বছরের মধ্যে এটাই দিল্লির শীতলতম মার্চ মাস। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী নরেলা, বাওয়ানা, বুরারি ও রোহিনী-সহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় আজও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। তাই দিল্লি-এনসিআর এলাকায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -
অকাল বৃষ্টিতে ক্ষতি হচ্ছে কৃষিকাজের
উত্তর থেকে দক্ষিণ – গোটা দেশেই আবহাওয়া বদলে যাচ্ছে। পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও প্রাক-বর্ষার প্রভাবে রাজস্থান, কর্ণাটক ও কেরলের প্রতিটি জেলায় প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। পূর্ব ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশায় বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেল থেকেই কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে, কোথাও শিলাবৃষ্টি হয়েছে, আবার কোথাও ঝড়ের দাপটে গাছ ভেঙে পড়েছে। এদিকে আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনার কারণে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ঘূর্ণাবর্ত ও পশ্চিমী ঝঞ্ঝার জেরে অকাল বৃষ্টিতে মরসুমি সবজি ও ফুল চাষে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
