Homeআন্তজাতিক খবরবাংলাদেশঈদের দিন একসঙ্গে ৩ ছেলেকে হারিয়ে শোকের সাগরে মা-বাবা

ঈদের দিন একসঙ্গে ৩ ছেলেকে হারিয়ে শোকের সাগরে মা-বাবা

ঈদের দিন একসঙ্গে ৩ ছেলেকে হারিয়ে শোকের সাগরে মা-বাবা, নাসির উদ্দিন ও শিউলি আক্তার দম্পতির বাড়িতে ঈদের দিনেও চলছে আহাজারি। বাড়ির সদস্যরা তো বটেই, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশী যারা এসেছেন, তারাও চোখ মুছছেন। এই দুঃখজনক বাড়িতে তিন সন্তানকে একসঙ্গে হারিয়ে তাদের পরিবার যেন এক বিভীষিকায় ডুবে গেছে। শনিবার (৩০ মার্চ) সকাল পৌনে ৮টার দিকে বরগুনার পাথরঘাটা […]

- Advertisement -

ঈদের দিন একসঙ্গে ৩ ছেলেকে হারিয়ে শোকের সাগরে মা-বাবা, নাসির উদ্দিন ও শিউলি আক্তার দম্পতির বাড়িতে ঈদের দিনেও চলছে আহাজারি। বাড়ির সদস্যরা তো বটেই, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশী যারা এসেছেন, তারাও চোখ মুছছেন। এই দুঃখজনক বাড়িতে তিন সন্তানকে একসঙ্গে হারিয়ে তাদের পরিবার যেন এক বিভীষিকায় ডুবে গেছে। শনিবার (৩০ মার্চ) সকাল পৌনে ৮টার দিকে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার সোনার বাংলা এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তাদের তিন সন্তান। ঈদের একদিন আগে একসঙ্গে ৩ ছেলের মৃত্যুতে পাগলপ্রায় মা-বাবা। মা শিউলি আক্তার বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন সন্তান হারানোর কষ্টে।

নাসির উদ্দিন রাঙামাটিতে শ্রমিকের কাজ করেন। তিন ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে তিনি সেখান থেকে ছুটে এসে, ছেলেদের হারানোর দুঃখের কথা বলছিলেন আর হাউমাউ করে কাঁদছিলেন। তার চোখের অশ্রু আর মনের বেদনা বোঝানো প্রায় অসম্ভব, যেন সব কিছু হুট করেই চুরমার হয়ে গেছে। একজন বাবা তার সন্তান হারানোর কষ্ট কীভাবে সহ্য করতে পারে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

নিহত তিন ভাই হলেন মো. নাঈমুজ্জামান খান শুভ, মো. শান্ত খান ও মো. নাদিম খান। তারা পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বাইশকুরা ইউনিয়নের টিকিকাটা গ্রামের বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পরপরই তিন ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয় এবং পরবর্তীতে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

আমাদের হোয়াটসঅ্যাপটেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -

স্থানীয়রা জানান, শুভ ঢাকার সাভারে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করত। তার ছোট ভাই শান্ত গুলশাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল এবং নাদিম গুলশাখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল। এরই মধ্যে, গত বছর সাত মাস বয়সী তাদের আরেক ভাই পানিতে ডুবে মারা গিয়েছিল। এই দুঃখজনক ঘটনায় একই পরিবারের চার ভাইয়ের কেউ আর বেঁচে রইল না।

--Advertisement--

শুভ মাত্র চার দিনের ছুটি পেয়ে ঈদ করতে বাড়িতে এসেছিল। তবে তার সহকর্মী বন্ধু রাকিব ঈদে ছুটি পাননি। শুভ ঢাকা থেকে আসার সময় রাকিব নিজের পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনা নতুন পোশাক শুভকে দিয়েছিলেন, যাতে শুভ সেগুলো তার বাড়ি পৌঁছে দেয়। রাকিবের বাড়ি পাশের পাথরঘাটা উপজেলার মানিকখালী গ্রামে।

বাবা নাসির উদ্দিন কালবেলাকে বলেন, আমার জীবনের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। আমার মতো হতভাগা আর কে আছে। আজকে একসঙ্গে আমার তিন ছেলে মারা গেল, গত বছর আমার ছোট ছেলে (৭ মাস) পানিতে ডুবে মারা গেছে। আমার জীবনের কী অপরাধ ছিল জানি না। আমার চার ছেলের কেউ আজকে নেই।

--Advertisement--
- Advertisement -
- Advertisement -

Breaking News

- Advertisement -

Related Stories

- Advertisement -