JKNews24 Desk: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই জনসংযোগ বাড়াতে মাঠে নামছেন রাজনীতিবিদরা, আর সেই দৌড়ে এবার নতুন চমক আনলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট প্রচারের অংশ হিসেবে সরকারি প্রকল্পগুলিকে সামনে রেখে তৈরি হয়েছে একটি তথ্যচিত্র, যার নাম রাখা হয়েছে “লক্ষ্মী এল ঘরে” (Lakshmi Elo Ghore)। গ্রাম ও শহরের গরিব এলাকায় বসবাসকারী মানুষের জীবনযাত্রা ও সরকারি সহায়তার প্রভাব তুলে ধরতেই এই চলচ্চিত্র তৈরি করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আরও সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তোলা যায়।
লক্ষ্মী এল ঘরে তথ্যচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে সরকারি প্রকল্পগুলি (Lakshmi Elo Ghore)
চলচ্চিত্র নির্মাতা ও ব্যারাকপুরের বিধায়ক রাজ চক্রবর্তীর পরিচালনায় এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে তৈরি হয়েছে “লক্ষ্মী এল ঘরে” তথ্যচিত্রটি, যেখানে অভিনয় করেছেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। প্রায় ৫৫ মিনিটের এই তথ্যচিত্রে গ্রামীণ বাংলার এক তরুণী বিধবার কাল্পনিক জীবনকথা তুলে ধরা হয়েছে—স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর পর কীভাবে দারিদ্র্য, সামাজিক কুসংস্কার ও পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই করতে হয় তাঁকে, এমনকি শাশুড়ির কাছ থেকেও অপমান ও বঞ্চনার শিকার হতে হয়। তবে গল্পে মোড় আসে যখন তিনি লক্ষ্মীর ভান্ডার, খাদ্যসাথী, কৃষক বন্ধু, কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী ও বাংলার বাড়ির মতো রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির সুবিধা পেতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে তাঁর জীবন, কমে পারিবারিক টানাপোড়েন, আর শাশুড়ির সঙ্গেও গড়ে ওঠে নতুন করে ভালো সম্পর্ক।
কী বলছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়? (Lakshmi Elo Ghore)
তথ্যচিত্রে শাশুড়ির চরিত্রে অভিনয় করেছেন সোহিনী সেনগুপ্ত। পাশাপাশি ছবিতে দেখা যাবে খরাজ মুখোপাধ্যায়, অঙ্কুশ হাজরা, ভাস্কর মুখোপাধ্যায় ও অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। গত বুধবার রাতে নন্দনে ‘লক্ষ্মী এলো ঘরে’ তথ্যচিত্রটির প্রিমিয়ার হয় তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, দলের সাংসদ ও মন্ত্রীদের পাশাপাশি তামিলনাড়ু চলচ্চিত্র শিল্পের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে। ছবি দেখার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যে কোনও নির্বাচিত সরকারের কর্তব্য ও দায়িত্ব হল তার সম্পূর্ণ কার্যকাল জুড়ে মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়া।” পাশাপাশি তিনি জানান, “এই তথ্যচিত্রে সাত-আটটি প্রকল্প তুলে ধরা হয়েছে, তবে বাস্তবে এমন আরও বহু জনকল্যাণমূলক প্রকল্প রাজ্যে চালু রয়েছে।”
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগ তুলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কেন্দ্রের কাছে বাংলার প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে, কিন্তু আমরা কারও দয়ায় চলি না। আমাদের সরকার দেখিয়ে দিয়েছে আত্মনির্ভর বাংলা আসলে কী।” তথ্যচিত্রে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে, গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে মহিলাদের সমর্থনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম বড় রাজনৈতিক শক্তি, যা সময়ের সঙ্গে আরও দৃঢ় হয়েছে। ছবির প্রদর্শন শেষে পরিচালক রাজ চক্রবর্তী জানান, মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এই তথ্যচিত্রটি তৈরি করা হয়েছে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে চিত্রনাট্য শুনে তাতে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছিলেন।









