JKNews24 Desk: ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে আশা কর্মীরা স্বাস্থ্য ভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখান (ASHA Workers Protest)। বিক্ষোভের চাপ সামলাতে স্বাস্থ্য ভবনের প্রধান গেট বন্ধ রাখা হয় এবং ভিতরে প্রবেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসন শুধু চারজন প্রতিনিধিকে ভিতরে ঢোকার অনুমতি দিলে, আশা কর্মীরা হেলথ সেক্রেটারির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের দাবিতে অনড় থাকেন।
আজ সকাল থেকেই পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ভবন ঘেরাও কর্মসূচি চালাচ্ছে। ৮ দফা দাবি সামনে রেখে রাজ্যের আশা কর্মীরা লাগাতার বিক্ষোভ মিছিল পরিচালনা করেছেন। আশা কর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় বেতন ও অন্যান্য সুবিধায় বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। তাঁদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম মাসিক ভাতা ১৫ হাজার টাকা করা, কর্মরত অবস্থায় কোনো আশা কর্মীর মৃত্যু হলে পরিবারের জন্য এককালীন ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ, এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া ভাতা ও ইনসেন্টিভ দ্রুত মেটানো। উল্লেখ্য, গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছিলেন, যা আজ ১৬ দিন পূর্ণ হলো।
বছরের প্রতিটি দিন, দিনে-রাতে, যেকোনো পরিস্থিতিতেই রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকায় মাঠে থেকে সেবা নিশ্চিত করতে দেখা যায় আশা কর্মীদের। তারা গর্ভবতী মা থেকে শুরু করে সদ্যোজাত শিশুর যত্ন এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার দায়িত্ব পালন করছেন, যেন সাধারণ মানুষ সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা পান।
অপরদিকে, অনুষ্ঠান হোক বা মাঠে সরাসরি সেবা—প্রায় সবখানেই যেতে হচ্ছে আশা কর্মীদের। দিনের পর দিন কাজের চাপ বাড়লেও মাস শেষে তাদের হাতে আসে মাত্র ৫,২৫০ টাকা বেতন। তাছাড়া, দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া থাকা বিভিন্ন ভাতা ও ইনসেন্টিভ এখনও পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে, গত এক বছর ধরে বকেয়া ইনসেন্টিভের টাকা ঠিকমতো না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন আশাকর্মীরা।
এ দিন স্বাস্থ্য ভবনের সামনে “ভাতা নয়, বেতন চাই” স্লোগান দিয়ে মুখরিত ছিলেন আশা কর্মীরা। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, যদি তাদের দাবি না মানা হয়, তবে বড় আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবেন। যদিও বিক্ষোভ চলছে, তবে এখনও পর্যন্ত সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।









