বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকার মৃত্যু ঘিরে রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ করেছে পুলিশ এবং বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) তদন্ত চালাচ্ছে। রবিবার নির্যাতিতার বাবা-মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলে দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার সকালে শাসকদলের একটি প্রতিনিধিদলও নির্যাতিতার বাড়িতে পৌঁছয়। এদিকে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই নাবালিকার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তদন্তে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য মানবপাচার চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও চূড়ান্ত নিশ্চিত তথ্য জানানো হয়নি।
কী বলছে কিশোরীর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে যে, কিশোরীর উপর যৌন নির্যাতনের পর তাঁকে একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, সেই সময় তিনি জীবিত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, কারণ তাঁর ফুসফুস ও পাকস্থলীতে জল পাওয়া গিয়েছে। এছাড়াও, মাথায় ভারী কোনও বস্তুর আঘাত বা শক্ত ধাক্কার চিহ্ন মিলেছে, যার ফলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েছিলেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে তদন্ত এখনও চলছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, চূড়ান্ত ফরেন্সিক ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং ঘটনার সম্পূর্ণ সত্যতা নিশ্চিত করা হবে।
আরও পড়ুন: Baruipur Case: পুলিশের জালে মূল অভিযুক্ত, গ্রেপ্তারির সংখ্যা বেড়ে ৩
সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাথায় গুরুতর আঘাতজনিত অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং জলে ডুবে যাওয়াই কিশোরীর মৃত্যুর কারণ বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। তবে তদন্ত এখনও চলছে এবং চূড়ান্ত ফরেন্সিক রিপোর্টের ভিত্তিতেই বিষয়টি নিশ্চিত হবে। এদিকে, এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া প্রভাস মণ্ডল ও দিবাকর সর্দারকে মঙ্গলবার বারুইপুর আদালতে তোলা হলে আদালত তাঁদের ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। এছাড়াও, মামলায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
