Homeপশ্চিমবঙ্গবাংলায় বিজেপির ‘আসল মুখ’ কে? শুভেন্দু না অন্য কেউ—জল্পনা তুঙ্গে

বাংলায় বিজেপির ‘আসল মুখ’ কে? শুভেন্দু না অন্য কেউ—জল্পনা তুঙ্গে

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন অন্যতম বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—যদি ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসে, তাহলে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসবেন কে? ২৯৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গড়তে প্রয়োজন অন্তত ১৪৮টি আসন, আর বিভিন্ন সমীক্ষায় কখনও বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে, আবার কখনও তৃণমূল কংগ্রেস-কে। এই টানটান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই সাধারণ মানুষের মনে সবচেয়ে বেশি কৌতূহল—বিজেপি জিতলে রাজ্যের নেতৃত্ব কার […]

- Advertisement -

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন অন্যতম বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—যদি ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসে, তাহলে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসবেন কে? ২৯৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গড়তে প্রয়োজন অন্তত ১৪৮টি আসন, আর বিভিন্ন সমীক্ষায় কখনও বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে, আবার কখনও তৃণমূল কংগ্রেস-কে। এই টানটান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই সাধারণ মানুষের মনে সবচেয়ে বেশি কৌতূহল—বিজেপি জিতলে রাজ্যের নেতৃত্ব কার হাতে যাবে, সেই মুখ কে হবেন, সেটাই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

তৃণমূল কংগ্রেস বরাবরই ভারতীয় জনতা পার্টি-কে ‘বাইরের দল’ বা বহিরাগত বলে আক্রমণ করে এসেছে। এই ইস্যুকে সামনে রেখেই ভোট প্রচারে বড় বার্তা দিয়েছেন অমিত শাহ। তিনি জানিয়েছেন, বিজেপি যদি বাংলায় ক্ষমতায় আসে, তাহলে মুখ্যমন্ত্রী হবেন এমন একজন ব্যক্তি, যিনি বাংলার মাটিতেই বড় হয়েছেন এবং স্বচ্ছন্দে বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারেন। অর্থাৎ, বিজেপি ‘ভূমিপুত্র’ বা ‘ভূমিপুত্রী’কেই সামনে আনবে—এই বার্তার মাধ্যমেই তারা বহিরাগত তকমা কাটানোর চেষ্টা করছে।

কিন্তু প্রশ্নটা এখনো ঘুরপাক খাচ্ছে—শুভেন্দু অধিকারী আর মিঠুন চক্রবর্তী-দের ভিড়ে অমিত শাহ-এর পছন্দের সেই ‘আসল বাঙালি’ মুখটি আসলে কে? এই দৌড়ে আপাতত সবচেয়ে এগিয়ে শুভেন্দুই, কারণ নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে হারানোর পর দলেও তাঁর গুরুত্ব অনেকটাই বেড়েছে এবং বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাকেই সামনে রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে, মিঠুন চক্রবর্তীর নাম একসময় বেশ জোরালোভাবে শোনা গেলেও, তিনি নিজে এবারের ভোটে প্রার্থী হননি—শুধু প্রচারেই সক্রিয় থেকেছেন। যদিও তিনি খোলাখুলি বলেছেন, সুযোগ পেলে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে রাজি, তবুও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর সেই সম্ভাবনা অনেকটাই ক্ষীণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

অপরদিকে সুকান্ত মজুমদার এবং শমীক ভট্টাচার্য—দু’জনেই দলের সংগঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুখ হলেও, তাঁরা এবারের বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হননি, তাই মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে আপাতত তাঁদের সরাসরি দেখা যাচ্ছে না বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। একই ছবি দিলীপ ঘোষ-এর ক্ষেত্রেও—দীর্ঘদিনের সংগঠক হয়েও বর্তমান সমীকরণে তিনি কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন। এদিকে বিজেপির সম্ভাব্য মহিলা মুখদের মধ্যে একমাত্র অগ্নিমিত্রা পাল-কেই প্রার্থী হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যিনি আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে লড়ছেন। ফলে রাজ্যে মহিলা মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে নতুন করে জল্পনাও ধীরে ধীরে জোর পাচ্ছে।

তবে রাজ্যের ইতিহাস বলছে, এই রাজ্যের মানুষ বরাবরই উচ্চশিক্ষিত এবং রুচিশীল ব্যক্তিত্বকে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে দেখতে অভ্যস্ত।  সেই মাপকাঠিতে অগ্নিমিত্রা পাল বিজেপির তুরুপের তাস হতে পারেন কি না, তা নিয়ে দলের অন্দরে কানাকানি চলছে।  যদিও এবারের ভোটে নারী নেতৃত্বের অভাব বিজেপি শিবিরে স্পষ্ট, তবুও অগ্নিমিত্রার লড়াই দলীয় কর্মীদের মধ্যে আশার আলো দেখাচ্ছে।

- Advertisement -
- Advertisement -

Breaking News

- Advertisement -

Related Stories

- Advertisement -