আবহাওয়া খেলাধূলা পশ্চিমবঙ্গ ভারত ব্যবসা চাকরি রাশিফল স্বাস্থ্য টাকাপয়সা প্রযুক্তি লাইফস্টাইল শেয়ারবাজার শিল্প অন্যান্য

ভারতের অন্যতম বিপ্লবী শহীদ ভগৎ সিংয়ের জীবন ও ইতিহাস।

Published On:
Bhagat Singh Biography in Bengali

ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিযুগের শহীদ বিপ্লবী ভগৎ সিং (Bhagat Singh) ২৮শে সেপ্টেম্বর ১৯০৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের লায়ালপুর জেলার খাতকর কালান গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন (Bhagat Singh Biography in Bengali)। তিনি একটি দেশপ্রেমিক শিখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, যেখানে পিতা সর্দার কিষান সিংহ সান্ধু এবং মাতা বিদ্যাবতী ছিলেন। পরিবারের অধিকাংশ সদস্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দেশপ্রেমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। উল্লেখযোগ্য, ভগৎ সিংয়ের দাদাঠাকুর অর্জুন সিংহ হিন্দু সমাজ সংস্কার আন্দোলন তথা আর্য সমাজের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিলেন, এবং পরবর্তীতে ভগৎ সিংও এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন।

নামভগৎ সিং বা ভগৎ সিংহ
জন্ম২৮শে সেপ্টেম্বর, ১৯০৭
জন্মস্থানলায়ালপুর, পাঞ্জাব, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু২৩শে মার্চ, ১৯৩১

Bhagat Singh শিক্ষা জীবন

তৎকালীন সময়ে অধিকাংশ স্কুলে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের আনুগত্য মানতে ঠাকুরদা রাজি ছিলেন না, তাই ভগৎ সিং-এর পিতা তাঁকে আর্যসমাজি বিদ্যালয় দয়ানন্দ অ্যাংলো-বৈদিক স্কুলে ভর্তি করান। সেখানে ভগৎ সিং প্রকাশ্যে ব্রিটিশ শাসনের বিরোধিতা করতেন—স্কুলের পাঠ্যবই ও বিলাতি ইউনিফর্ম পোড়াতেন—এবং মাত্র চোদ্দ বছর বয়সে মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন। এভাবেই তার স্বাধীনতা সংগ্রামের যাত্রা শুরু হয়। কিছুদিন পর চৌরি-চৌরা গণহিংসায় কয়েকজন পুলিশ নিহত হওয়ায় গান্ধীজি আন্দোলন প্রত্যাহার করলে হতাশাগ্রস্ত ভগৎ সিং যুব বিপ্লবী আন্দোলনে প্রবেশ করেন এবং সশস্ত্র পন্থায় ব্রিটিশ শাসন উৎখাতের প্রচার শুরু করেন। কিশোর বয়সে তিনি লাহোরের ন্যাশনাল কলেজে পড়াশোনা শুরু করলেও, বাল্যবিবাহ থেকে মুক্তি পেতে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

কর্ম জীবন-স্বাধীনতা সংগ্রাম (Bhagat Singh Biography in Bengali)

বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর ভগৎ সিং ‘নওজাওয়ান ভারত সভা’র সদস্যপদ গ্রহণ করে যোগদান করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সহকর্মী যুবকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। এরপর প্রফেসর বিদ্যালংকরের সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে তিনি হিন্দুস্থান রিপাবলিক এসোসিয়েশনে যুক্ত হন। এই সংগঠনের কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে ‘কাকরি ট্রেন লুঠ’ অভিযানে গেলে অজ্ঞাত কারণে লাহোরে ফিরে আসতে হয়।

১৯২৬ সালের অক্টোবর মাসে নবরাত্রির সময় লাহোরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে, এবং ভগৎ সিংকে লাহোর বোমা বিস্ফোরণ মামলায় গ্রেফতার করা হয়। পাঁচ সপ্তাহ পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। এই সময়েই তিনি অমৃতসর থেকে পত্রিকা লিখতেন পাঞ্জাবি ও উর্দু ভাষায়, পাশাপাশি তা সম্পাদনাও করতেন। ১৯২৮ সালের অক্টোবর মাসে ‘কৃতি কৃষাণ পার্টি’র পতাকাতলে সমগ্র ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা একত্রিত হলে, ওই সভায় তিনি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীকালে বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে সমিতির প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।

এছাড়াও ভগৎ সিং জেলে ভারতীয় ও ব্রিটিশ বন্দীদের সমানাধিকারের দাবিতে সমর্থন আদায়ে সক্রিয় ছিলেন। প্রবীণ স্বাধীনতা সংগ্রামী লালা লাজপত রায়ের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে হিন্দুস্থান সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনের তত্ত্বাবধানে ভগৎ সিং ও শিবরাম রাজগুরু ব্রিটিশ পুলিশ সুপার জেমস স্কটকে হত্যা করার চেষ্টা করেন। ভুলবশত তারা প্রথমে ২১ বছর বয়সী ব্রিটিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট মিস্টার স্যান্ডার্সকে বোমা মেরে আহত করেন এবং পরে কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করেন। পালিয়ে যাওয়ার সময় একজন ভারতীয় পুলিশ কনস্টেবল ধাওয়া করলে, অপর সহযোগী চন্দ্র শেখর আজাদ চন্দন সিংকে গুলি করে হত্যা করেন।

পালিয়ে যাওয়ার পর ভগৎ সিং ও তার সহযোদ্ধারা প্রকাশ্যে লালা লাজপত রায়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা করেন। কিছুদিন পলাতক থাকার পর, ১৯২৯ সালের এপ্রিল মাসে পিতার সুপারিশ অনুযায়ী ভগৎ সিং এক সহযোগী বটুকেশ্বর দত্তের সঙ্গে মিলিত হয়ে দিল্লির কেন্দ্রীয় বিধানসভায় কম তীব্রতার দুটি বোমা ফেলেন। গ্যালারির নিচে বসে থাকা বিধায়কদের উপর লিফলেট ছুঁড়ে দেন, স্লোগান দেন এবং কর্তৃপক্ষকে গ্রেফতার করার অনুমতি দেন। গ্রেফতারের পর তিনি স্যান্ডার্স হত্যাকান্ড মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। বিচারের অপেক্ষায় ভগৎ সিং ও সহ আসামী যতীন দাস ভারতীয় বন্দিদের ভালো অবস্থার দাবিতে অনশন শুরু করেন। দীর্ঘ ৬৪ দিন অনশন চালানোর পর অনাহারে যতীন দাসের মৃত্যু ঘটে। এর পর ভগৎ সিং ও তার সহযোদ্ধাদের জন স্যান্ডার্স এবং চেন্নান সিং হত্যার মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

সম্মাননা

২০১৫ সালের ১৫ আগস্ট প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রতিভা দেবী সিং পাটিল সংসদ ভবনে বিপ্লবী ভগৎ সিংয়ের (Bhagat Singh)সম্মানার্থে তাঁর মূর্তি উন্মোচন করেন। ২০০৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভগৎ সিংয়ের জন্মদিনে ভারতীয় সুপ্রিমকোর্ট ঐতিহাসিক বিষয়গুলো প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে একটি জাদুঘর নির্মাণ করে। এছাড়া ভগৎ সিংয়ের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে পৈতৃক ভিটে খটকারে ‘শহীদ-ই-আজম সর্দার ভগৎ সিং মিউজিয়াম’ স্থাপন করা হয়। ১৯৬৮ সালে ভগৎ সিংয়ের সম্মানার্থে ২০ টাকার ডাকটিকিট এবং ২০১২ সালে ৫ টাকার একটি কয়েন চালু করা হয়। সম্প্রতি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ছত্রিশগড় বিমানবন্দরকে ‘শহীদ ভগৎ সিং এয়ারপোর্ট’ নামে নামকরণের ঘোষণা করেছেন।

মৃত্যুবরণ

জন সোন্ডার্স ও চেন্নান সিং হত্যা মামলায় ২৩শে মার্চ ১৯৩১ সালে মাত্র ২৩ বৎসর বয়সে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের লাহোর জেলে ফাঁসিতে মৃত্যুবরণ করেন।

Samiun Khatun

Samiun Khatun একজন আগ্রহী সংবাদ লেখক, যিনি লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও দৈনন্দিন আপডেট নিয়ে লেখেন। সহজ ভাষায় পাঠকদের কাছে নির্ভুল তথ্য পৌঁছে দেওয়া তার মূল লক্ষ্য। অবসরে তিনি নতুন বিষয় শিখতে ও তথ্যবহুল কনটেন্ট তৈরি করতে পছন্দ করেন।

Join WhatsApp

Join Now