শিশুদেরও হতে পারে শ্বেতী! এই লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হন

-

শ্বেতী রোগ শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের নয়, শিশুদের মধ্যেও দেখা যেতে পারে। তাই সন্তানের ত্বকে অস্বাভাবিক সাদা দাগ বা রঙের পরিবর্তন লক্ষ্য করলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে অনেক ক্ষেত্রেই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ডম্বিভলির এআইএমএস হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডার্মাটোলজিস্ট ডাঃ বৈভব কালাম্বের পরামর্শ অনুযায়ী, কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণের দিকে অভিভাবকদের বিশেষ নজর রাখা জরুরি, কারণ এগুলো শ্বেতী রোগের প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে।

ভিটিলিগো বা শ্বেতী একটি দীর্ঘস্থায়ী চর্মরোগ, যেখানে ত্বকের নির্দিষ্ট অংশ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক রঙ হারিয়ে সাদা হয়ে যায়। এটি ঘটে যখন ত্বকের রঙ তৈরি করা মেলানোসাইট নামের কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ফলে আক্রান্ত স্থানে মেলানিনের উৎপাদন কমে যায় বা একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। এই রোগ যে কোনও বয়সে দেখা দিতে পারে, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই এর শুরু হয় শৈশব বা কৈশোরে। তাই শিশুদের ত্বকে অস্বাভাবিক সাদা দাগ দেখা দিলে দেরি না করে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

- Advertisement -

এই অবস্থাটি সংক্রামক, বেদনাদায়ক বা প্রাণঘাতী নয়, কিন্তু এর যথাযথ চিকিৎসা না করা হলে এটি একটি শিশুর আত্মবিশ্বাস এবং আত্মমর্যাদাকে প্রভাবিত করতে পারে। শিশুটি উদ্বিগ্ন, মানসিক চাপে জর্জরিত এবং একাকী বোধ করবে। যদিও শ্বেতী রোগের পেছনের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়, তবে এটিকে একটি অটোইমিউন অবস্থা বলে মনে করা হয়, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত রঞ্জক উৎপাদনকারী কোষগুলোকে আক্রমণ করে। বংশগতিও একটি ভূমিকা পালন করতে পারে, কারণ শ্বেতী রোগটি কখনও কখনও পরিবারে বংশানুক্রমিকভাবে দেখা যায়। কিছু নির্দিষ্ট কারণ, যেমন ত্বকের আঘাত, তীব্র মানসিক চাপ বা অন্তর্নিহিত অটোইমিউন রোগও শিশুদের মধ্যে শ্বেতী রোগের কারণ হতে পারে। 

শিশুদের শ্বেতী রোগের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো ত্বকে সাদা বা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক হালকা রঙের ছোপ দেখা দেওয়া। এই দাগগুলো সাধারণত মুখ, হাত, কনুই, হাঁটু, পা কিংবা চোখ ও মুখের চারপাশে বেশি দেখা যায়। কিছু ক্ষেত্রে মাথার ত্বক, ভ্রু বা চোখের পাতার চুলও সাদা হয়ে যেতে পারে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, আক্রান্ত স্থানে সাধারণত চুলকানি, ব্যথা বা অন্য কোনো অস্বস্তি থাকে না। তাই অনেক সময় অভিভাবকেরা প্রথম দিকে বিষয়টি গুরুত্ব দেন না, ফলে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হয়ে যায়।

- Advertisement -

শিশুর ত্বকের রঙে যদি কোনো অস্বাভাবিক বা ব্যাখ্যাহীন পরিবর্তন দেখা যায়, বিশেষ করে সাদা দাগগুলো ধীরে ধীরে আকারে বড় হতে থাকে বা নতুন দাগ তৈরি হয়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এমন পরিস্থিতিতে যত দ্রুত সম্ভব একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে শ্বেতী রোগ নিশ্চিত করা যায় এবং একই রকম দেখতে অন্য কোনো চর্মরোগের সম্ভাবনাও বাদ দেওয়া সম্ভব। দ্রুত রোগ নির্ণয় হলে চিকিৎসা শুরু করা সহজ হয় এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখার সম্ভাবনাও বাড়ে।

- Advertisement -

শ্বেতী রোগের চিকিৎসার উপায় রয়েছে। বাবা-মায়ের উচিত শিশুকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া, যিনি বাহ্যিকভাবে ব্যবহার্য ঔষধ, আলোক-ভিত্তিক থেরাপি এবং ত্বককে সূর্যের আলো থেকে রক্ষা করার উপায় সম্পর্কে পরামর্শ দেবেন। মানসিক সমর্থনও সমান গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ত্বকের দৃশ্যমান পরিবর্তনযুক্ত শিশুরা বিভিন্ন প্রশ্ন বা সামাজিক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। অভিভাবকরা শিশুকে কাউন্সেলিং-এর জন্য নিয়ে যেতে পারেন অথবা কোনও সহায়তা গোষ্ঠীতে যোগ দিয়ে শ্বেতী রোগে আক্রান্ত অন্যান্য শিশু ও অভিভাবকদের সঙ্গে নিজেদের অভিজ্ঞতা বুঝতে ও ভাগ করে নিতে পারেন।

🔔 সর্বশেষ খবর সবার আগে পেতে যুক্ত হন

ব্রেকিং নিউজ, চাকরির খবর, টেক আপডেট ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে আমাদের WhatsAppTelegram চ্যানেলে এখনই যুক্ত হন।

Breaking News