JKNews24 Disk: সাতসকালেই চাঞ্চল্য ছড়াল কোচবিহারে। কোচবিহারের শীতলকুচিতে আচমকাই একটি সেতু পণ্যবাহী লরি-সহ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনায় লরির চালক আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণ না হলেও নির্বিঘ্নে ভারী যানবাহন চলাচল করছিল, আর তার ফলেই এই বিপত্তি। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে উদ্ধারকাজ শুরু হয় এবং ভেঙে পড়া সেতুর অংশ থেকে লরিটিকে সরিয়ে আনা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে গোটা এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও চরম চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
স্থানীয় রিপোর্ট মোতাবেক, আজ অর্থাৎ শুক্রবার সকালে কোচবিহারের শীতলকুচি ব্লকের বারোমাশিয়া দেবনাথপাড়া এলাকায় গিরিধারী সেতুতে একটি মালবাহী গাড়ি ওঠার পরেই আচমকা হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে ব্রিজটি। বিকট আওয়াজ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান স্থানীয়রা। দেখা যায়, সেতুর একটা অংশ নদীর উপর ভেঙে আটকে রয়েছে। ভাঙা সেতুর উপর আটকে রয়েছে ওই ডাম্পার। কোনো রকমে স্থানীয়দের সহায়তায় ওই ডাম্পারের চালককে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। খবর দেওয়া হয় পুলিশ-প্রশাসনে। তবে ঘটনায় কোনও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
সেতু নিয়ে একাধিক অভিযোগ স্থানীয়দের
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে শীতলকুচি থেকে সিতাইয়ের দিকে যাচ্ছিল ওই মালবাহী লরিটি। গিরিধারী সেতুর মাঝ বরাবর পৌঁছাতেই আচমকা ভেঙে পড়ে সেতুর একাংশ, সঙ্গে সঙ্গে নিচে নেমে যায় গাড়িটিও। স্থানীয়দের দাবি, সেতুটি দীর্ঘদিন ধরেই দুর্বল হয়ে পড়েছিল, কিন্তু তা সত্ত্বেও ভারী যান চলাচলে কোনও নিষেধাজ্ঞা বা সতর্কতামূলক নোটিস দেওয়া হয়নি। ফলে এই দুর্ঘটনায় সমস্যায় পড়েছেন বহু সাধারণ মানুষ। জানা গিয়েছে, বাম আমলে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বছর আগে সেতুটি তৈরি হয়েছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ছিল বলেই এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে, যদিও প্রশাসনের তরফে এখনও স্পষ্ট কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
প্রসঙ্গত, দেবনাথপাড়ার নতুন বাজার থেকে বারোমাশিয়া যাওয়ার গ্রামীণ সড়কে থাকা গিরিধারী সেতুটি স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামবাসীরা সেতুটির বেহাল অবস্থার কথা জানিয়ে বারবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগপত্র জমা দিলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এরই মধ্যে সামনে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা থাকায় পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সে জন্য দ্রুত বিকল্প রাস্তা খুঁজে বের করার দাবি উঠেছে। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছেন, বিষয়টি ইতিমধ্যেই প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই প্রশাসনের তরফে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।







