রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়ার পরেও কমিশনের তরফে বারবার শুনানিতে ডাকা হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষকে পড়তে হচ্ছে বড়সড় ভোগান্তিতে। শুরু থেকেই এই পরিস্থিতির জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করে আসছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এবার পাল্টা কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। তাদের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে বিএলও সহ একাধিক নির্বাচনী আধিকারিক যে হামলা ও হুমকির মুখে পড়ছেন, তার পেছনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘উস্কানিমূলক’ মন্তব্যই মূল কারণ।
সুপ্রিম কোর্টে SIR হলফনামা কমিশনের
সম্প্রতি SIR-এর শুনানিকে ঘিরে রাজ্যের একাধিক জায়গায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা, উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়া, লালবাগ এবং দুর্গাপুরের SDO দফতরে দেখা গেছে ক্ষোভের বিস্ফোরণ—অফিসে ঢুকে সরকারি নথি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, এমনকি BLO-দের মারধর করার অভিযোগও উঠেছে। এসব ঘটনার জন্য শাসকদল প্রথমে নির্বাচন কমিশনের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছিল। তবে এবার পাল্টা কড়া জবাব দিল কমিশন। আনন্দবাজার পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী, একের পর এক অভিযোগের জবাব দিতে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দিয়েছে কমিশন, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত ১৪ জানুয়ারির সাংবাদিক বৈঠকে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন, SIR নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন এবং প্রকাশ্যে নির্বাচনী আধিকারিকদের লক্ষ্য করে হুমকিও দিয়েছেন।
মমতাকেই দায়ী করলেন কমিশন
সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা হলফনামায় নির্বাচন কমিশনের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর বিবৃতিতে প্রকাশ্যে এক জন মাইক্রো অবজার্ভার বা পর্যবেক্ষককে নির্দিষ্ট ভাবে চিহ্নিত করে তাঁকে নিশানা করেন। যার ফলে এর আগে রাজ্য সরকার যে ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিল, এই মন্তব্য সম্পূর্ণ বিপরীত কাজ করছে। তাঁরা আরও দাবি করেন যে, মমতার ওই বক্তব্যের দিনই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ফরাক্কা বিধানসভায় নিযুক্ত ন’জন পর্যবেক্ষকের থেকে নিরাপত্তার অভাবের জন্য দায়িত্ব থেকে সরে আসার পত্র দিয়েছে। আর এই অভিযোগের ফলে অবাধ, নিরপেক্ষ ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য কাজের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। শুধু তাই নয়, নির্বাচনী আধিকারিকদের নিরাপত্তা, নিরপেক্ষতা, স্বাধীনতাও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
প্রসঙ্গত, গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভার ধুবুলিয়ার এক সভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন যে SIR-এর শুনানিতে সাধারণ মানুষ যে ভোগান্তির মুখে পড়ছেন, তার জন্য নির্বাচন কমিশন নয়, বরং রাজ্য সরকারই দায়ী। তিনি বলেন, SIR প্রক্রিয়ায় কিছু কিছু হিন্দু সাধারণ মানুষ ও ভারতীয় নাগরিকদের হিয়ারিংয়ের নোটিস পাঠানো হচ্ছে, যা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই অসুবিধা তৈরি হয়েছে। শুভেন্দুর স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, এর দায় ইলেকশন কমিশনের নয়, বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল প্রশাসনের। উল্লেখযোগ্যভাবে, এবার নির্বাচন কমিশনের সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামাতেও প্রায় একই সুর শোনা গেছে।









