রেশন (Ration) ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকার দেশের কম আয়ের ও দারিদ্রসীমার নীচে থাকা মানুষদের বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে চাল, ডাল, গম, চিনির মতো প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দিয়ে থাকে। তবে দীর্ঘদিন ধরেই অনেক উপভোক্তার পক্ষ থেকে রেশনে দেওয়া খাদ্যদ্রব্যের মান নিয়ে অভিযোগ উঠছিল। সেই পরিস্থিতিতে এবার রেশন দোকানে সরবরাহ করা চাল, ডাল ও গমের গুণমান বজায় রাখতে আরও সক্রিয় হয়েছে খাদ্য দপ্তর (Food and Supply Department)। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এ বিষয়ে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) তৈরি করা হয় এবং এখন খাদ্যদ্রব্যের মজুত, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর কড়া নজরদারি চালাতে নতুন নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে।
রেশনের (Ration) খাদ্যসামগ্রীর গুণমান বজায় রাখতে জারি নতুন নির্দেশিকা
খাদ্য দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, রেশন ব্যবস্থায় খাদ্যদ্রব্যের গুণমান বজায় রাখতে এবার আরও কড়া নজরদারি চালানো হবে। নিয়মিতভাবে খাদ্যশস্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে এবং আধিকারিকদের পরিদর্শনের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি মাসে গুণগত মান পরীক্ষা, পরিদর্শন ও নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দিতে হবে। যাঁরা এই পরীক্ষা করবেন, তাঁদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে অন্য দপ্তর থেকেও কর্মী ও আধিকারিক এনে আচমকা রেশন ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটরদের দোকান ও গুদামে পরিদর্শন চালানো হবে। এছাড়াও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, খাদ্য দপ্তরের গুদামে খাদ্যশস্য পৌঁছানোর ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই তার মান পরীক্ষা করতে হবে। যদি পরীক্ষায় দেখা যায় নথিভুক্ত মানের সঙ্গে বাস্তবের গুণগত মানের মিল নেই, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে এবং প্রয়োজনে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
চাষীদের কাছ থেকে সরকার যে ধান সংগ্রহ করে, তা নথিভুক্ত রাইস মিলে পাঠানো হয় চাল তৈরির জন্য। পরে সেই চাল খাদ্য দপ্তরের গুদামে মজুত করা হয় এবং সেখান থেকে ডিস্ট্রিবিউটারদের মাধ্যমে রেশন দোকানে পৌঁছে যায়। অন্যদিকে, এফসিআই (FCI)-এর মাধ্যমে খাদ্য দপ্তরের কাছে গম আসে এবং সেটিও একইভাবে রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া জানিয়েছেন, প্রতি কেজি চালের জন্য সরকারের খরচ হয় প্রায় ৪২ টাকা, তাই এত ব্যয়ের পরেও নিম্নমানের খাদ্যদ্রব্য রেশনে পৌঁছানো মেনে নেওয়া হবে না। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে রাইস মিল ও সংশ্লিষ্ট স্তরে অনিয়মের কারণে নিম্নমানের চাল রেশন দোকানে পৌঁছায় এবং সরকারি ব্যবস্থায় কেনা খাদ্যশস্য খোলা বাজারে চলে যায়। এই পরিস্থিতিতে খাদ্য দপ্তর নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি চলতি মাস থেকে নিম্নমানের আটা নিয়ে অভিযোগ কমাতে রেশনের মাধ্যমে সরাসরি গম বিতরণও শুরু হয়েছে।
