মুর্শিদাবাদের নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চর্চার মাঝেই কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার বিধানসভায় তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “Enough is enough, এবার শিক্ষা দেওয়ার সময় এসেছে।” পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, আইনের শাসন কী জিনিস তা নওদার বিধায়ক এবার বুঝতে পারবেন। উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের কাশীপুরে এক জনসভায় হুমায়ুন কবীর বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেন এবং বলেন, “লিমিট যেদিন ক্রস হয়ে যায়, মাথা যেদিন গরম হয়ে যায়, সেদিন এসপি, চিফ মিনিস্টার কিছু বুঝব না।” পরে শক্তিপুরে গিয়েও তিনি পুলিশের উদ্দেশে কড়া মন্তব্য করেছিলেন। এই ঘটনাগুলির পরিপ্রেক্ষিতেই বিধানসভায় তাঁর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া মন্তব্যের পরই নিজের অবস্থান কিছুটা নরম করেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর কোনও ব্যক্তিগত আক্রোশ নেই এবং আইন তার নিজস্ব পথেই চলবে। তিনি আরও দাবি করেন, তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি তাঁর সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে। অতীতের প্রসঙ্গ টেনে হুমায়ুন কবীর বলেন, বামফ্রন্ট সরকারের ৩৪ বছরের শাসনকালে তাঁর বিরুদ্ধে ২৭টি মামলা দায়ের হলেও কোনও ক্ষেত্রেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। একইভাবে তৃণমূল সরকারের আমলেও তাঁর নামে ৭টি মামলা হয়েছে, কিন্তু সেগুলিতেও তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। তাঁর দাবি, বর্তমান প্রশাসনও তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ প্রমাণ করতে পারবে না।
নিজের বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, যাঁরা অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছত্রছায়ায় থেকে তাঁদের উপর হামলা চালাতেন, তাঁরাই এখন পুলিশের প্রশ্রয় পাচ্ছেন বলে তাঁর অভিযোগ। হুমায়ুনের দাবি, এই পরিস্থিতি গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি জানান, কর্মিসভায় তিনি শুধু এটুকুই বলতে চেয়েছিলেন যে, যদি কোনও থানায় অপরাধীদের প্রশ্রয় দেওয়া হয়, তাহলে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এই বিষয় নিয়ে তিনি কোনও আপস করবেন না বলেও মন্তব্য করেন। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ব্যক্তিগতভাবে বিজেপির কোনও নেতা বা বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে তাঁর কোনও বিদ্বেষ বা আক্রমণাত্মক মন্তব্য করার উদ্দেশ্য ছিল না।
এ দিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে হুমায়ুন কবীরকে হুঁশিয়ারি দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী নন৷ দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে আপনি যা খুশি বলেছেন৷ এত বড় ক্ষমতা আপনাকে কেউ দেয়নি৷ আপনি কেন করছেন আমি জানি৷ আপনার দুটো অ্যাজেন্ডা ছিল৷ ভরতপুর, নওদা, রেজিনগরের সব পঞ্চায়েত ভেঙে নিজের দলে নিয়ে যাওয়া৷ সেটা আপনি করতে পারছেন না৷ আর আপনি দুটো আসনে জিতেছিলেন৷ নিয়ম মেনে রেজিনগর থেকে ইস্তফা দিয়ে উপনির্বাচনে সেখান থেকে ছেলেকে জেতাতে চাইছেন৷ তাই এসব বলে মুসলিম ভোটকে একত্রিত করতে চাইছেন৷ কিন্তু কান খুলে শুনে রাখুন, আপনাকে এইসব হুমকি দেওয়া, লাগামছাড়া কথা বলতে দেব না৷’
