ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এক চাঞ্চল্যকর দাবিকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বলা হচ্ছিল, ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে নাকি ভারত নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে। তবে এই সংবেদনশীল ইস্যুতে সরাসরি অবস্থান স্পষ্ট করেছে Ministry of External Affairs। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, এই ধরনের দাবি সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’। শনিবার বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে একটি টুইটের স্ক্রিনশট শেয়ার করে স্পষ্টভাবে বলা হয়, “ফেক নিউজ অ্যালার্ট—সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো এই ধরনের ভুয়ো ও ভিত্তিহীন পোস্ট থেকে সতর্ক থাকুন।” যে পোস্টটিকে ভুয়ো বলা হয়েছে, তাতে দাবি করা হয়েছিল যে পশ্চিম ভারতের ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলার জন্য United States নাকি India-র কাছে অনুমতি চেয়েছে—যা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানিয়ে দিয়েছে সরকার।
কী ছিল ভাইরাল সেই দাবি?
গত কয়েকদিন ধরে ইন্টারনেটে একটি খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, United States-এর সামরিক বাহিনী নাকি India-র মাটি ব্যবহার করে Iran-এর ওপর বোমাবর্ষণের পরিকল্পনা করছে। এই দাবির পেছনে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে হওয়া LEMOA (লিমোয়া) চুক্তির কথাও তুলে ধরা হয়। কিছু নামহীন সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছিল, ভারত সরকার নাকি নিঃশব্দে আমেরিকাকে তাদের কৌশলগত ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রকের কড়া প্রতিক্রিয়া
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে সাফ জানিয়েছেন, ভারতের মাটি কোনও তৃতীয় দেশের ওপর হামলা চালানোর জন্য ব্যবহার করতে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ভারতের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, ভারত এবং ইরানের ঐতিহাসিক সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়।
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -
ভারতের অবস্থান এবং শান্তি আলোচনা
ভারত বরাবরই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi একাধিকবার বিশ্বমঞ্চে স্পষ্ট করে বলেছেন, “এটি যুদ্ধের যুগ নয়।” ভারতের নীতি সবসময়ই আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজা। তাই কোনও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ভারতের মদত দেওয়ার যে দাবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছিল, তা যে সম্পূর্ণ ভুয়ো ও ভিত্তিহীন—তা Ministry of External Affairs-এর মন্তব্য থেকেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।
