আধুনিক যুদ্ধে এখন আর শুধু বড় মিসাইল বা বিশাল কামানের উপর নির্ভর করা হচ্ছে না, বরং ছোট আকারের স্মার্ট ড্রোনই বদলে দিচ্ছে যুদ্ধের কৌশল। বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ভারতও নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এবার অন্য দেশের প্রযুক্তির উপর নির্ভর না করে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতেই তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক ড্রোন। সেই লক্ষ্যেই ভারতীয় সংস্থা IG Drones ‘KAL Drone Project’-এর আওতায় তৈরি করছে দূরপাল্লার আত্মঘাতী ড্রোন।
কাল ড্রোন প্রকল্প সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য
প্রথমেই বলে রাখা ভালো, ভারতীয় সংস্থা IG Drones ‘KAL Drone Project’-এর আওতায় একটি লং-রেঞ্জ কামিকাজে ড্রোন তৈরি করছে। এই ড্রোন মূলত আত্মঘাতী ধরনের, অর্থাৎ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সঙ্গে সঙ্গেই নিজেও ধ্বংস হয়ে যায়। জানা যাচ্ছে, এটি প্রায় ১০০০ কিলোমিটার দূরের টার্গেটেও আঘাত হানতে সক্ষম। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ড্রোন টানা ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত আকাশে উড়তে পারে এবং প্রয়োজন হলে মাঝ আকাশেই এর গতিপথ পরিবর্তন করা সম্ভব। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মাধ্যমে শত্রুর রাডার, কারখানা, মিসাইল প্ল্যান্ট বা লজিস্টিক হাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিখুঁত আক্রমণ চালানো যাবে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সরাসরি সেনা পাঠানোর প্রয়োজন কমবে এবং জওয়ানদের নিরাপত্তাও বাড়বে। যদিও এই প্রকল্পটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, ইতিমধ্যেই এর প্রথম ঝলক সামনে এসেছে এবং আগামী কয়েক মাসে আরও তথ্য প্রকাশ করতে পারে সংস্থাটি।
এই প্রকল্প নিয়ে অবশ্য আইজি ডিফেন্সের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল আরসি পাধি জানিয়েছেন, “পাইলটহীন ড্রোন ব্যবস্থা মুহূর্তের মধ্যে যুদ্ধের প্রকৃতি পরিবর্তন করে দিতে পারে। ইরান-ইজরায়েলে-আমেরিকার যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে ছোট্ট ড্রোন কতটা কার্যকর হয়ে উঠতে পারে। ভারতেও এই ধরনের ড্রোন তৈরি করা উচিত। প্রকল্প কালের হাত ধরে আমরা দেশীয় সক্ষমতা বাড়াচ্ছি। এই প্রকল্প স্বনির্ভর ভারতের স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -
