২৫ বছরে পুরুষের ‘ফ্যান্টাসি’ বদলেছে: স্বস্তিকার দৃষ্টিকোণ

- Advertisement -

JKNews24 Disk: স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের এই লুকটা সত্যিই চোখে পড়ে—সাদা সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে রামধনু ওড়না যেন একরকম ঝিলমিল সৌন্দর্য তৈরি করছে। গজদাঁতে ঝিলিক তুললেই তার মিষ্টি হাসি পুরুষদের মনে ঢেউ তোলে। কব্জিতে মেয়ের ডাক নাম ‘মানি’ লেখা থাকায় আরও ব্যক্তিগত এক স্পর্শ দেখা যায়। শৌর্য দেবের ‘প্রমোটার বৌদি’ থেকে একমাত্র কন্যা অন্বেষার প্রেম এবং তার জীবনের গল্প নিয়ে মুখোমুখি আড্ডায় স্বস্তিকা সমস্ত কিচ্ছু খুলে বললেন, যা ভক্তদের জন্য একেবারে আনন্দদায়ক মুহূর্ত।

প্রশ্ন: বসন্তকালে ‘প্রমোটার বৌদি’…

স্বস্তিকা হেসে জানালেন, “‘বৌদি’ শব্দটার সঙ্গে আমার একটা স্বভাবিক সম্পর্ক আছে। অনেক প্রজেক্টে আমাকে ‘বৌদি’ বলে ডাকা হয়েছে। পরিবারের ভাই থাকলে তো বৌদি সম্বোধন স্বাভাবিকই। ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি ২৫ বছর, একরকম স্টাইল গড়ে উঠেছে, তাই মানুষ প্রশ্ন তো করবে—আমাকে দেখবে কেন? এই ভাবনা থেকেই সিদ্ধান্ত নিলাম, ‘প্রমোটার বৌদি’ হিসেবে নিজেকে পরীক্ষা করি। একটা ভোজপুরি গানে নাচতে পারি কি না, দেখি। ‘পারি কি না’—এই চ্যালেঞ্জের জন্যই এগোলাম। তবে আরও একটা বিষয় আছে…”

প্রশ্ন: কী সেটা?

স্বস্তিকা বললেন, “‘কালীপটকা’ সিরিজের শ্রীমা বা আমার পেশা—এটা সাধারণত মেয়েরা করে না। সিরিজে আমাকে ট্যানারিতে কাজ করতে দেখা গেছে। এবার আমি প্রমোটার হয়ে কাজ করছি। যে কাজ সাধারণত মেয়েরা করে না, সেই কাজ পর্দায় করা সত্যিই চ্যালেঞ্জিং। এরপর পরিচালক শৌর্য দেব জানালেন, তিনি বাস্তব জীবনে একজন ‘প্রমোটার বৌদি’-র খোঁজ পেয়েছেন। এটা শুনে আমি খুব আনন্দিত হয়েছিলাম। আপনি জানেন কি, এই চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে আমি কত কিছু করেছি?”

প্রশ্ন: ট্রেলার বলছে, আপনি নেচেছেন। সম্ভবত অ্যাকশনও করেছেন..

স্বস্তিকা হেসে বললেন, “আমাদের ‘শোলে’-র মতো একটা বাইক ছিল। ছোটবেলায় সিনেমার হিরোদের দেখতাম—যেভাবে এন্ট্রি করে, পা পড়ে, ধুলো উড়ে, পায়রা উড়ে যায়, সবকিছু মজার কেত থাকে। ছবিতে আমি এই সব কেত প্রচুর করেছি (হাসি)। গাড়ি থেকে নামার সময়, পুরো এলাকা যেন ‘ডন-ডন’ শব্দে কাঁপে। সত্যিই এটা আমার কাছে খুব মজা লেগেছে।”

--Advertisement--

প্রশ্ন: একটি মিলও আছে। বাস্তবে স্বস্তিকা পথপশুদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেন। পর্দায় ফুটপাতবাসীদের…

স্বস্তিকা বললেন, “ছবিতে আমার নাম জানেন কি? নাম শান্তি, পদবি ‘দে’! জুড়ে হয়—শান্তি দে (হেসে হা হা)। আমরা তো অহরহ বলি, ‘একটু শান্তি দে’! (নিজেকে সামলে নিয়ে) পর্দায় শান্তি দিতে পেরেছি কি না জানি না, তবে বাস্তবে অনেক মানুষ কষ্ট করে উপার্জনের টাকা প্রমোটারের হাতে দিয়ে থাকেন, পাকা বাড়ির আশায়। অনেক সময় সেটা পূরণ হয় না—বিভিন্ন জটিলতায় কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। ‘প্রমোটার বৌদি’ সেই অবস্থা মানে না, সে সাধারণ মানুষের হয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ে। এই ইতিবাচক বার্তা পরিচালক কখনও জ্ঞানবোধের মতো দেখাননি; বরং মজার মোড়কে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। আর ছবিটি তথাকথিত সমান্তরাল ছবি নয়—আগের মতোই কমার্শিয়াল ছবি। প্রভাত রায়, হরনাথ চক্রবর্তী, বীরেশ চট্টোপাধ্যায়রা যে ঘরানার ছবি বানাতেন, সেই ধারারই এটি।”

প্রশ্ন: এখন ছবি হিট করাতে নামী প্রযোজক-পরিচালক, তারকাদের প্রয়োজন। এখানে একঝাঁক অভিনেতার সঙ্গে স্বস্তিকা। আর নতুন পরিচালক শৌর্য…

স্বস্তিকা: একটা ছবিতে সবাই ‘ক্যারেক্টার আর্টিস্ট’। আমাকে ‘তারকা নায়িকা’র তকমা ধরে রাখতে হলে শুধুই হিরোর নায়িকা হয়ে কাটিয়ে দিতে হত। বিশ্বে কিন্তু ছবির ভাষা বদলেছে। নারীকেন্দ্রিক ছবি বানানো হচ্ছে। সেখানে আমি কেন শুধু ‘হিরোদের হিরোইন’ হয়ে থাকব! আমার মধ্যে প্রতিভা থাকলে সেটা কাজে লাগাব না? এখন তো আমায় ভেবে লোকে গল্প লিখছেন, ছবি পরিচালনা করছেন। এটাই আমার ‘গ্রোথ’। তা ছাড়া, ২০ বছর আগে যে কাজ করতাম, সেই কাজ আজকাল আর হয় না। মূল ধারার ছবিও নারীকেন্দ্রিক হয়েছে। ‘হোটেল শাজাহান রিজেন্সি’, ‘জাতিস্মর’, ‘গুলদস্তা’ বা ‘শ্রীমতী’ হয়েছে। এগুলো তা হলে ছেড়ে দিতে হত। আসল কথা, নায়কদের ক্ষেত্রে হয়তো এখনও ‘স্টার’ বা ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ ব্যাপারগুলো আছে। অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রে আর সেটা নেই। দর্শক তাঁদের কাজ দেখতে ছবি দেখেন। কেউ ‘স্বপ্নের নায়িকা’ হিসাবে দেখতে চাইলে আমার ইনস্টাগ্রামে আসুন। সুন্দর সুন্দর ছবি দিয়েছি সেখানে। সময়ের সঙ্গে নিজেকে না বদলালে আমি হয়তো ২৫ বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে টিকতে পারতাম না (হাসি)।

--Advertisement--

প্রশ্ন: আপনিও তো ২৫ বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে আছেন…

স্বস্তিকা বললেন, “অনেক বছর ধরে কাজ করলেও আমি ‘মাথা’ নই। ‘মাথা’দের নীচে আছি। কীভাবে ছবি বানানো হবে, ছবির নিয়মকানুন কী হবে, কখন রিলিজ হবে—এ সব ‘মাথা’রা ঠিক করছেন। ওঁদের কাছে আমি খুবই ক্ষুদ্র (হাসি)। আমি শুধু মন দিয়ে কাজটা করতে চাই। ছবিমুক্তির পর যাতে সেটা ভালভাবে চলে, তার জন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। বাকিটা আমার হাতের বাইরে। (একটু থেমে) আর বিষয়টা এত জটিল! ব্যক্তিগত জীবন সামলে, সংসার সামলে, কলকাতা-মুম্বই সামলে, কাজ সামলে ওই বিষয়ে মাথা গলানো অসম্ভব। বিশ্বাস করুন, এত সময়ও নেই। ইচ্ছাও নেই।”

- Advertisement -
Ranjan Mahato
Ranjan Mahatohttps://jknews24.in
Ranjan Mahato একজন বিনোদন সংবাদ লেখক, যিনি সিনেমা, টেলিভিশন, ওয়েব সিরিজ ও তারকাদের লাইফস্টাইল নিয়ে লেখেন। সহজ ভাষায় দ্রুত ও নির্ভুল আপডেট দেওয়াই তার মূল লক্ষ্য। অবসরে তিনি নতুন ছবি ও সিরিজ দেখে রিভিউ করতে ভালোবাসেন। অনলাইন মিডিয়া জগতে তার যাত্রা শুরু 2025 সালে। লেখালেখির পাশাপাশি Ranjan Mahato নতুন ছবি, গান ও সিরিজ দেখে রিভিউ করতে ভালোবাসেন। অবসরে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন ট্রেন্ড অনুসরণ করেন এবং পাঠকদের জন্য নতুন কনটেন্ট আইডিয়া সংগ্রহ করেন।
Latest news
- Advertisement -
Related news