SIR-এ বেছে বেছে বিশেষ সম্প্রদায়ের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে ফের সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার রেড রোডে ইদের নামাজের অনুষ্ঠান থেকেও এই ইস্যুতে তিনি আক্রমণ শানান। এদিন সরাসরি নরেন্দ্র মোদী-র নাম করে SIR-এ মুসলিমদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি।
শনিবার সকালে বৃষ্টির মধ্যেই রেড রোডে কলকাতা খিলাফত কমিটির আয়োজিত ইদের নামাজের অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইদের শুভেচ্ছা জানানোর পর তাঁর ভাষণে উঠে আসে SIR-এ বাংলার বহু মানুষের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “SIR-এ অনেকের নাম কেটে দিয়েছে। এ নিয়ে আমি কলকাতা থেকে দিল্লি, হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গিয়েছি, লড়াই করেছি। আমরা আমাদের অধিকার কাউকে কেড়ে নিতে দেব না, মোদীজিকেও কেড়ে নিতে দেব না।”
এখানেই থেমে থাকেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীর দুবাই সফর নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “দুবাইয়ের মানুষ ভারতের মানুষের বন্ধু। আপনি যখন নরেন্দ্র মোদী দুবাইয়ে গিয়ে সেখানকার মানুষের সঙ্গে করমর্দন করেন, তখন কোনও ভেদাভেদ থাকে না। সেখানে হিন্দু-মুসলমান বলে কিছু নেই, কিন্তু ভারতে এলেই আপনার চোখে ভেদাভেদ তৈরি হয়।”
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আপনারা বলেন—এটার নাম বদলাও, ওটার নাম বদলাও। আমি বলব—এগুলো বিভেদের রাজনীতি। আপনারাই সবচেয়ে বড় বিভাজন তৈরি করছেন। সবাইকে নোটিস পাঠানো হচ্ছে, এমনকি বাড়িঘর ছেড়ে দিতেও বলা হচ্ছে। সব ঘরবাড়ি দখল করে নেবে বিজেপি—এমন অভিযোগও উঠছে। আপনারাই আসলে সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশকারী।”
ইদের অনুষ্ঠান থেকেই এদিন ফের বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিজেপিকে ‘দুষ্কৃতী ও গুন্ডাদের দল’ এবং ‘বিশ্বাসঘাতকদের দল’ বলে কটাক্ষ করেন। তবে নাম বাদ যাওয়ার ইস্যুতে সাধারণ মানুষকে আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “আমি আশা করি, মানুষের সম্মান রক্ষা করা হবে। যদি আপনাদের কারও নাম না থাকে, চিন্তা করবেন না। বাংলার সব নাগরিক—সব সম্প্রদায়, সব জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে—আমরা আপনাদের পাশে আছি।”
তিনি আরও বলেন, “সবাই একটি পরিবারের সদস্য হিসেবে এই লড়াই চালিয়ে যাব। আমাদের একটাই কাজ—ঐক্যবদ্ধ থাকা। আমরা আমাদের দেশ নিয়ে গর্বিত এবং সারা বিশ্বের কাছে শান্তি, ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের বার্তা পৌঁছে দিতে চাই।”
