১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে নতুন অর্থবছর, এবং সেই দিন থেকেই বদলে যাচ্ছে আয়কর আইনের একাধিক নিয়ম। সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ডাইরেক্ট ট্যাক্সেস (Income Tax Act 2026) সম্প্রতি এই সংশোধিত আইন বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করেছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী বাড়ি ভাড়া ভাতা বা এইচআরএসহ অন্যান্য ভাতার হিসাব ও নিয়ম পরিবর্তিত হচ্ছে। তবে কী কী পরিবর্তন আসছে এবং কীভাবে এটি আপনার আয়কর হিসাবকে প্রভাবিত করবে, তা বিস্তারিত জানতে পুরো প্রতিবেদনটি পড়া জরুরি।
বাড়ি ভাড়া ভাতাতে বিরাট পরিবর্তন
আগের আয়কর আইনের অধীনে মুম্বাই, দিল্লি, কলকাতা, আহমেদাবাদ, চেন্নাইসহ বড় শহরে বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA) বাবদ অনেক বেশি ছাড় পাওয়া যেত। এই শহরে বসবাসকারী কর্মীরা তাদের বেতনের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দাবি করতে পারতেন, যেখানে অন্যান্য শহরে এই ছাড় সীমিত ছিল মাত্র ৪০ শতাংশ। তবে নতুন ব্যবস্থায় এই ছাড়ের হার পরিবর্তিত হতে পারে, অর্থাৎ আগের মতো বড় ছাড় আর পাওয়া নাও যেতে পারে।
গাড়ির দাম
আয়কর আইন ২০২৬ অনুযায়ী এবার কর্মচারীদের অফিস এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য গাড়ির সুবিধার করেও পরিবর্তন এসেছে। নতুন নিয়মে ১.৬ লিটার পর্যন্ত ইঞ্জিন ক্ষমতার গাড়ির ক্ষেত্রে প্রতি মাসে ৫০০০ টাকা এবং চালকের জন্য ৩০০০ টাকা কর দিতে হবে। ১.৬ লিটারের বেশি ইঞ্জিন ক্ষমতার গাড়ির ক্ষেত্রে করের পরিমাণ প্রতিমাসে ৭০০০ টাকা এবং চালকের জন্য আরও ৩০০০ টাকা। পাশাপাশি কর্মচারীর নিজস্ব গাড়ির জন্যও কর ধার্য করা হচ্ছে—১.৬ লিটার পর্যন্ত ইঞ্জিন ক্ষমতার ক্ষেত্রে প্রতি মাসে ৫০০০ টাকা এবং ১.৬ লিটারের বেশি ইঞ্জিন ক্ষমতার ক্ষেত্রে ৭০০০ টাকা।
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -
সন্তানের শিক্ষা বা অন্যান্য ভাতা
এবার আয়কর আইন ২০২৬ অনুযায়ী সন্তানের শিক্ষার খরচ সংক্রান্ত ভাতায় বড় পরিবর্তন এসেছে। শিশু শিক্ষা ভাতা আগে প্রতি মাসে ১০০ টাকা থাকলেও এবার এটি প্রতি সন্তানের জন্য ৩০০০ টাকা করা হচ্ছে, তবে সুবিধা দু’জন সন্তানের জন্য প্রযোজ্য। একই সঙ্গে হোস্টেল খরচ ভাতাও বাড়ানো হয়েছে—আগে যা প্রতি মাসে ৩০০ টাকা ছিল, তা এবার ৯০০০ টাকা করা হয়েছে।
উপহার এবং ভাউচার
আমরা গুগল পে, ফোনপে, পেটিএম ইউজ করে বিভিন্ন ভাউচার বা রিডিম কোড পাই। সেক্ষেত্রে যদি প্রতি আর্থিক বছরে এগুলোর মূল্য ১৫,০০০ টাকার বেশি হয়ে থাকে, তাহলে তা করযোগ্য হিসেবেই দাবি করা হবে।
খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র
আয়কর আইন ২০২৬ অনুযায়ী এবার শ্রম ঘণ্টার মধ্যে দেওয়া বিনামূল্যে খাবার ও পানীয় করমুক্ত থাকবে, তবে শর্ত হলো এটি যদি ক্যাশ ভাউচারের মাধ্যমে দেওয়া হয় এবং পরিমাণ ২০০ টাকার বেশি না হয়। পাশাপাশি, পুরনো কর ব্যবস্থার বিভিন্ন ছাড়ের জন্য এবার ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে। যেমন, ছুটি বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রকৃত ভ্রমণ ব্যয়ের প্রমাণপত্র দেখাতে হবে, আর বাড়ি ভাড়া ভাতার ক্ষেত্রে বাড়িওয়ালার নাম, ঠিকানা এবং প্যান নম্বর দাখিল করতে হবে।
এছাড়াও ঝাড়ুদার, মালিক বা দারোয়ানদের মতো পরিষেবার জন্য বেতন থেকে কর্মচারীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ বাদ দিয়ে বাকি বেতনের উপর কর ধার্য করা হবে। আর আউটসোর্স করা গ্যাস, বিদ্যুৎ বা জলের জন্য সেই অর্থ করযোগ্য হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে নিজস্ব উৎস থেকে সরবরাহ করা হলে সেক্ষেত্রে উৎপাদনের প্রতি ইউনিট অনুযায়ী খরচ গণনা করা হবে।
