Homeজাতীয় খবর (India News)পশ্চিমবঙ্গলিফটে আটকে মর্মান্তিক মৃত্যু! আরজি কর হাসপাতাল-এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা

লিফটে আটকে মর্মান্তিক মৃত্যু! আরজি কর হাসপাতাল-এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা

- Advertisement -

প্রশ্নের মুখে পড়েছে আরজি কর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই হাসপাতালেই একদিন ডিউটিতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি এক তরুণী, যার পর থেকেই নিরাপত্তার বড়সড় খামতি নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু বছর দেড়েক পরেও যে পরিস্থিতির খুব একটা বদল হয়নি, তারই মর্মান্তিক উদাহরণ মিলল ফের। শুক্রবার ছেলের চিকিৎসা করাতে এসে লিফটে আটকে পড়ে প্রাণ হারান ৪১ বছরের এক যুবক। এই ঘটনা আবারও পানিহাটির এক দম্পতির সন্তান হারানোর যন্ত্রণাকে নতুন করে উস্কে দিল। হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার বিল্ডিংয়ে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার কথা শুনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃত তরুণীর মা। তাঁর কড়া প্রশ্ন, “এর পরেও কি এই কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল চালানোর যোগ্য?”

শুক্রবার ভোরে আরজি কর হাসপাতাল-এর ট্রমা কেয়ার ভবনের ২ নম্বর লিফটে ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে আটকে পড়েন দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, লিফটটি বারবার ওঠানামা করতে থাকে এবং দেওয়াল ও লিফটের ফাঁকে তাঁর শরীরের অর্ধেক আটকে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এই ভয়াবহ ঘটনার খবর সংবাদমাধ্যমে জেনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভয়ার মা-বাবা।

অভয়ার মা বলেন, “এটাকে দুর্ঘটনা বলব না। লিফটে কোনও লিফটম্যান ছিলেন না। ওঁরা ভিতরেই আটকে পড়েছিলেন, কিন্তু কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসেননি।” তিনি আরও জানান, ঘটনার ভয়াবহতায় শিউরে উঠেছেন তিনি—“সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, ওই যুবকের রক্তের ফোঁটা পড়ছিল তাঁর স্ত্রীর গায়ে। ওঁরা আর্তনাদ করছিলেন, বাঁচানোর জন্য চিৎকার করছিলেন, কিন্তু কেউ ছুটে যাননি।” এই ঘটনার পর হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আবারও বড় প্রশ্ন উঠছে।

আমাদের হোয়াটসঅ্যাপটেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -

পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, South Dumdum Municipality-র কর্মী অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়িতে আত্মীয়স্বজনরা এসেছিলেন। সেই সময় খেলতে গিয়ে খাট থেকে পড়ে যায় তাঁর চার বছরের ছেলে এবং তার হাত ভেঙে যায়। তড়িঘড়ি তাকে আরজি কর হাসপাতাল-এ নিয়ে আসেন অরূপ। ট্রমা কেয়ার বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলায় ছেলের অপারেশন হওয়ার কথা ছিল।

ভোর প্রায় পৌনে চারটে নাগাদ অস্ত্রোপচারের আগে ছেলেকে নিয়ে শৌচালয়ে যাওয়ার জন্য অরূপ ও তাঁর স্ত্রী লিফটে ওঠেন। তাঁদের গন্তব্য ছিল চারতলা। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর বদলে লিফটটি হঠাৎই কোনও নির্দেশ ছাড়াই বারবার উপর-নীচে ওঠানামা করতে শুরু করে। আচমকা এই ঘটনায় আতঙ্কে স্তব্ধ হয়ে পড়েন তাঁরা।

এরপর ভয়াবহ মোড় নেয় পরিস্থিতি। এমন সময় একতলার মেঝের স্তর পেরিয়ে মাঝামাঝি জায়গায় লিফট থেমে দরজা খুলে যায়। কোনওক্রমে ছেলে ও স্ত্রীকে লিফটের ভিতর থেকে উঁচু জায়গায় বাইরে লাফ দিয়ে বের করে দেন অরূপ। কিন্তু নিজে বেরোতে যাওয়ার সময় আচমকাই লিফটের দরজা বন্ধ হয়ে তাঁর শরীরের অর্ধেক দেওয়াল ও লিফটের মাঝে আটকে যায়। শরীরের উপরের অংশ বাইরে থাকলেও নিচের অংশ থেকে যায় ভিতরে। ঠিক সেই সময় ঝাঁকুনি দিয়ে লিফট নেমে যেতে শুরু করে বেসমেন্টের দিকে, ফলে চলন্ত লিফট ও ফ্লোরের মাঝে আটকে গিয়ে তাঁর শরীর ভয়ঙ্করভাবে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়।

এই মর্মান্তিক ঘটনার চিত্র কতটা ভয়াবহ ছিল, তা স্পষ্ট হয়েছে RG Kar Lift Accident Post Mortem Report-এ। রিপোর্টে উল্লেখ, পলি ট্রমার কারণেই মৃত্যু হয়েছে অরূপের। তাঁর পাঁজরের সবকটি হাড় ভেঙে গিয়েছিল, হৃদপিণ্ড, ফুসফুস ও প্লীহা ফেটে যায়, এমনকি অন্ত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এই ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আবারও বড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।

এই গাফিলতির দায় কার, তা নিয়ে চাপানউতোর চলছে। ২০২৪ সালের অগস্টে এই আরজি করেই রাতের ডিউটিতে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসক ‘অভয়া’কে ধর্ষণ ও খুন করা হয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছিল নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে। শুক্রবারের দুর্ঘটনায় আবারও অভিযোগের তির সেই প্রশাসনের দিকে। শুক্রবারের ঘটনায় কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কথা স্বীকার করেছেন হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য ও তৃণমূল বিধায়ক অতীন ঘোষ। সরাসরি স্বীকার না করলেও কোথাও যে একটা ফাঁক ছিল তা মেনে নিয়েছেন মেডিক্যাল সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায়ও।

প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, লিফটের রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং লিফটম্যান ও নিরাপত্তাকর্মীদের গাফিলতির জেরেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে আরজি কর হাসপাতাল-এ। জন্মদিনের পরের ভোরেই এভাবে অকালমৃত্যু হওয়ায় শোকস্তব্ধ পরিবার। মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের কাছে গাফিলতির অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৫/৩(৫) ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু হয়েছে। ইতিমধ্যেই পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন লিফটম্যান মিলনকুমার দাস, বিশ্বনাথ দাস ও মানসকুমার গুহ। পাশাপাশি নিরাপত্তারক্ষী আসরাফল রহমান ও শুভদীপ দাসকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে ফের বড় প্রশ্ন উঠেছে।

- Advertisement -
JANARUL KHAN
JANARUL KHANhttps://jknews24.in
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
- Advertisement -

Must Read

- Advertisement -

Related News

- Advertisement -