Nijo Griha Nijo Bhumi: এবার বিনামূল্যে জমি ও বাড়ি, দেখুন কিভাবে আবেদন করবেন

- Advertisement -

JKNews24 Disk: নিজ গৃহ নিজ ভূমি প্রকল্প (Nijo Griha Nijo Bhumi Scheme) হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আরেকটি জনকল্যানমূলক উদ্যোগ, যার মাধ্যমে রাজ্য সরকার ভূমি ও অর্থ সহায়তার মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের নিজ বাড়ি বানানোর সুযোগ দিচ্ছে। এটি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (PM Awas Yojana) বা বাংলা আবাস যোজনা (Banglar Bari Scheme)-এর মতো হলেও মূলত রাজ্যের নিজস্ব প্রকল্প। এই প্রকল্পের সুবিধা মূলত সেই সমস্ত নাগরিকদের জন্য, যাদের নিজেদের বাড়ি নেই বা যারা সরকারি সাহায্য পেয়ে নিজ ঘর নির্মাণ করতে চান। প্রকল্পের মাধ্যমে আবেদনকারীরা সরকারি নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ফর্ম পূরণ করে সুবিধা নিতে পারেন।

Nijo Griha Nijo Bhumi Scheme

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে গ্রামীণ এলাকার ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোর মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্যে ২০১১ সালে চালু করা হয় ‘নিজ গৃহ নিজ ভূমি’ প্রকল্প। এই জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো রাজ্যের প্রান্তিক স্তরের মানুষদের একটি স্থায়ী মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করা। প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু একটি টুকরো জমি নয়, বরং মানুষকে আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার সুযোগও দেওয়া হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের আর্থিক ও সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার দিকে বিশেষভাবে মনোনিবেশ করেছে।

পশ্চিমবঙ্গ নিজ গৃহ নিজ ভূমি প্রকল্পের বিবরণ

গ্রামীণ বাংলার কৃষি শ্রমিক, মৎস্যজীবী এবং গ্রাম্য কারিগরদের অধিকাংশেরই নিজের নামে জমি ছিল না। এই অসহায়তা মাথায় রেখে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর ১৮ অক্টোবর ২০১১ সালে নিজ গৃহ নিজ ভূমি প্রকল্পের শুভ সূচনা করে। প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য ছিল এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে প্রতিটি পরিবারের একটি নিজস্ব ঠিকানা থাকবে। এর ফলে লক্ষ লক্ষ দরিদ্র মানুষের দীর্ঘদিনের পাকা বাড়ির স্বপ্ন বাস্তবে রূপ পেয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীনদের সরকারি খাস জমি বা প্রয়োজনে জমি ক্রয় করে বণ্টন করা হয়। যদিও কিছু সময়ের জন্য প্রকল্প বন্ধ ছিল, এবার আবার নতুন করে এটি বাংলার বাড়ি (PM Awas Yojana Banglar Bari Scheme) প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

কারা এই প্রকল্পের অধীনে জমি পাওয়ার যোগ্য?

Nijo Griha Nijo Bhumi প্রকল্পের সুবিধা পেতে আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। মূলত ভূমিহীন কৃষি শ্রমিক, গ্রামীণ কারিগর এবং মৎস্যজীবীদের এই সরকারি প্রকল্পে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। আবেদনকারী বা তার পরিবারের নামে রাজ্যের অন্য কোথাও কোনো নিজস্ব জমি বা পাকা বাড়ি থাকা চলবে না। এছাড়াও, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্রান্তিক সদস্যরাও এই প্রকল্পের অধীনে জমির জন্য আবেদন করতে পারবেন। সংক্ষেপে, প্রকল্পটি মূলত চরম দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

--Advertisement--

এই প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত জমির পরিমাণ ও বন্টন প্রক্রিয়া

নিজ গৃহ নিজ ভূমি প্রকল্পের (Nijo Griha Nijo Bhumi Scheme) অধীনে প্রতিটি যোগ্য পরিবারকে সর্বোচ্চ ৫ ডেসিমেল বা ৫ শতক জমি দেওয়া হয়। এই জমি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়ে থাকে। সাধারণত এই জমির পাট্টা বা মালিকানা স্বত্ব পরিবারের মহিলার নামে অথবা স্বামী ও স্ত্রীর যৌথ নামে দেওয়া হয়। এর ফলে পরিবারের নারীশক্তির ক্ষমতায়ন ঘটে এবং তাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। জমি বন্টনের সময় সরকারের পক্ষ থেকে মালিকানার দলিল ও দখল নিশ্চিত করা হয়।

Nijo Griha Nijo Bhumi আবাসন ও অন্যান্য সুবিধা

রাজ্য সরকার কেবল জমি দেওয়ার মধ্যেই তার দায়িত্ব শেষ করে না, বরং সেই জমিতে ঘর তৈরির ব্যবস্থাও নিশ্চিত করে। বিভিন্ন সরকারি আবাসন প্রকল্পের (যেমন – গীতাঞ্জলি বা আমার ঠিকানা) সঙ্গে সমন্বয় করে সেখানে বাড়ি তৈরি করা হয়। শুধু ঘরই নয়, সঙ্গে থাকে রাস্তা, পানীয় জলের সুব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ সংযোগের সুবিধা। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে শৌচাগার ও যথাযথ নিকাশি ব্যবস্থাও তৈরি করা হয়। এই সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি সুবিধাভোগীদের জীবনযাত্রার মানকে অনেকটাই উন্নত করে তোলে।

--Advertisement--

কর্মসংস্থান ও জীবন-জীবিকার সুযোগ

এই ৫ ডেসিমেল জমিকে কেন্দ্র করে উপভোক্তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহের জন্য বিশেষ সুযোগ প্রদান করা হয়। বাড়ির পাশে থাকা অবশিষ্ট জমিতে সবজি চাষ, ফলমূলের বাগান বা পশুপালনের মাধ্যমে আয় করার পথ প্রশস্ত হয়। এছাড়াও, কারিগর বা হস্তশিল্পীদের জন্য কাজের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো বা ওয়ার্কশপ তৈরি করার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রয়োজনবোধে বাড়ির কাছে পুকুর খনন করে মাছ চাষের মাধ্যমে বাড়তি আয়ের সুযোগও দেওয়া হয়। এভাবে একটি জমিকে কেন্দ্র করে দরিদ্র পরিবারগুলো স্থায়ী অর্থনৈতিক সচ্ছলতার দিকে এগোতে পারে।

নিজ গৃহ নিজ ভূমি প্রকল্পে আবেদন পদ্ধতি

নিজ গৃহ নিজ ভূমি প্রকল্পে আবেদনের জন্য ইচ্ছুক ব্যক্তিকে স্থানীয় ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে (BLRO Office) যোগাযোগ করতে হবে। সেখানে নির্দিষ্ট আবেদনপত্রের মাধ্যমে নিজের এবং পরিবারের তথ্য জানিয়ে জমির জন্য দাবি জানাতে হয়। আবেদনের সাথে প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র, আধার কার্ড এবং ভূমিহীন হওয়ার প্রমাণস্বরূপ প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হবে। বিএলআরও অফিস থেকে আধিকারিকরা সরেজমিনে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করার পরেই অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু করেন। সঠিক তথ্য প্রদান করলে অতি দ্রুত জমি পাওয়ার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।

এই প্রকল্পের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব

গত কয়েক বছরে এই প্রকল্পের সফল রূপায়ণের ফলে গ্রামীণ বাংলার অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। মানুষ এখন ভাড়া বাড়িতে বা যাযাবরের মতো না থেকে নিজেদের জমিতে নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারছে। জমির মালিকানা পাওয়ায় তাদের মধ্যে এক ধরনের আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে যা তাদের কর্মস্পৃহা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও মহিলাদের পুষ্টির মান এবং সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে এই প্রকল্প অসামান্য অবদান রাখছে। এক কথায়, নিজ গৃহ নিজ ভূমি প্রকল্প বাংলার দরিদ্র মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের এক অনন্য চাবিকাঠি।

- Advertisement -
Pinky Khan
Pinky Khanhttps://jknews24.in/
সাত বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ডিজিটাল মিডিয়া পেশাজীবী, যিনি অনলাইন কনটেন্ট তৈরি, গণমাধ্যম ও তথ্যসংক্রান্ত কাজে দক্ষ। সরকারি প্রকল্প, স্কলারশিপ ও চাকরির আপডেট নিয়মিতভাবে পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য।
Latest news
- Advertisement -
Related news