আবহাওয়া খেলাধূলা পশ্চিমবঙ্গ ভারত ব্যবসা চাকরি রাশিফল স্বাস্থ্য টাকাপয়সা প্রযুক্তি লাইফস্টাইল শেয়ারবাজার বিনোদন  শিল্প অন্যান্য

Wow Momo Success Story: বাঙালির মোমো কীভাবে হল ন্যাশনাল ব্র্যান্ড

মোমোপ্রেমী বাঙালির মুখে মুখে এক সময় যেটা সবচেয়ে বেশি শোনা যেত, সেটা হলো Wow Momo নামটা—একটা সফল দেশি ব্র্যান্ডের গল্প। কিন্তু এবার সেই Wow Momo-ই জড়িয়ে পড়ল আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সংস্থার ওয়্যারহাউসে কর্মরত কয়েকজন কর্মীর মৃত্যু হয়, যা রাজ্যজুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে। ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৃত কর্মীদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানান, রাজ্য সরকারের তরফে যেমন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, তেমনই Wow Momo সংস্থাকেও আর্থিক সহায়তা করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে Wow Momo-র নাম উঠে আসতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে—এই সংস্থা কীভাবে গড়ে উঠল, আর এই ঘটনায় তাদের ভূমিকা ঠিক কী হতে চলেছে।

কীভাবে ভারতীয় বাজারে জায়গা করে নিয়েছিল Wow Momo?

Wow Momo-র গল্পটা আসলে একেবারে স্টার্ট-আপ স্বপ্নের মতো। ২০০৮ সালে কলকাতার দুই তরুণ—সাগর দরিয়ানি ও বিনোদ মিত্তাল—মাত্র ৩০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে পথচলা শুরু করেছিলেন। তখন মোমো মানেই ছিল ছোট স্ট্রিট স্টল বা নর্থ-ইস্টের খাবার, কিন্তু তাঁরা সেটাকেই দিলেন আধুনিক ব্র্যান্ডের ছোঁয়া। প্রথম বড় সাফল্য আসে কলেজ ক্যাম্পাস আর অফিসপাড়ায় কিয়স্ক খুলে—যেখানে পরিষ্কার পরিবেশ, নির্দিষ্ট দাম আর একই স্বাদের খাবার পাওয়া যেত। ধীরে ধীরে তাঁরা বুঝতে পারেন, শুধু মোমো নয়, ভারতীয়দের স্বাদ অনুযায়ী নতুন ফিউশন দরকার। সেখান থেকেই আসে চিজ মোমো, ফ্রাইড মোমো, মোমো বার্গার, এমনকি মোমো-ভিত্তিক থালিও।

এর পাশাপাশি Wow Momo শুরু থেকেই জোর দেয় শক্তিশালী ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিং-এ। আকর্ষণীয় নাম, হলুদ-লাল রঙের আউটলেট, সোশ্যাল মিডিয়ায় স্মার্ট প্রচার—সব মিলিয়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ব্র্যান্ডটি। ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলের মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে তারা এক শহর থেকে ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। সঙ্গে ডেলিভারি অ্যাপের উত্থানকে কাজে লাগিয়ে ঘরে বসেই মোমো পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে। এই ধারাবাহিক নতুনত্ব, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা আর ভারতীয় স্বাদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাই Wow Momo-কে সাধারণ স্ট্রিট ফুড থেকে তুলে এনে দেশের অন্যতম পরিচিত ফুড-চেন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

উল্লেখ্য, আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যেই বিবৃতি জারি করেছে Wow Momo। সংস্থাটির তরফে গোটা ঘটনার দায় চাপানো হয়েছে পাশের গুদামের মালিকের উপর। ওই সংস্থার দাবি, আনন্দপুরে যে ভাড়া বাড়ির ওয়্যার হাউসে আগুন লেগেছিল সেই ওয়্যার হাউসের বাড়ির মালিকের নিজস্ব ডেকোরেটারসের ব্যবসাও ছিল। পাশেই তার একটি গুদাম রয়েছে। সেখানে প্রথমে আগুন লাগলে সেই আগুনে ভষ্মিভূত হয়ে যান Wow Momo র ওয়্যার হাউসের তিনজন কর্মচারী। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই এবার মৃতদের পরিবারকে 10 লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সংস্থা।