মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারত মহাসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ডিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে ছয়টি বি-২ স্পিরিট বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে। এই স্টিলথ বোমারু বিমান পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই এই সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে দেশটি। বুধবার (২ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত সপ্তাহ থেকে ডিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত, বিশেষ করে হুথি বিদ্রোহীদের হামলা ও ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে দুই মাসের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনায় বসার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। অন্যথায় ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন তিনি।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলো—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েত—পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে যে, তারা ইরানে হামলার উদ্দেশ্যে কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমানকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না।
এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলার ঝুঁকি এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিতে বি-২ স্পিরিট বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন। ডিয়েগো গার্সিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি, যেখান থেকে সরাসরি ইরান ও ইয়েমেনে হামলা চালানো সম্ভব।
বি-২ স্পিরিট বোমারু বিমান এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে এটি শত্রুর রাডারে ধরা পড়া প্রায় অসম্ভব। এই স্টিলথ প্রযুক্তির কারণে বিমানটি গোপনে প্রবেশ করে হামলা চালাতে পারে, বিশেষ করে সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো যদি কোনো সামরিক অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হয়, তাহলে বি-২ স্পিরিটের ভূমিকা হতে পারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর অংশ হিসেবে আরেকটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে সেখানে থাকা একটি রণতরী বহাল রাখা হবে এবং নতুন করে আরেকটি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।