আবহাওয়া খেলাধূলা পশ্চিমবঙ্গ ভারত ব্যবসা চাকরি রাশিফল স্বাস্থ্য টাকাপয়সা প্রযুক্তি লাইফস্টাইল শেয়ারবাজার বিনোদন  শিল্প অন্যান্য

বাড়িতে বসেই হার্ট পরীক্ষা! ৪০ সেকেন্ডে মিলবে হার্ট অ্যাটাকের ইঙ্গিত

বাড়িতে বসেই হার্ট পরীক্ষা

JKNews24 Disk: আজকের ব্যস্ত জীবনে হৃদ্‌রোগ যেন নীরবে বড় সমস্যা হয়ে উঠছে। বাড়িতে বসেই হার্ট পরীক্ষা হার্ট কতটা সুস্থ তা বুঝে নিন।হার্ট অ্যাটাক বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘মায়োকার্ডিয়াল ইনফ্র্যাকশন’ এখন বহু মানুষের অকাল মৃত্যুর কারণ। সময়মতো লক্ষণ ধরা না পড়লে বা চিকিৎসা শুরু না হলে বিপদ আরও বাড়ে। সাধারণত হার্টের অবস্থা জানতে ইসিজি, ইকোকার্ডিয়োগ্রামসহ নানা পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা, আর সেগুলি সময়মতো করানোই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। তবে দৈনন্দিন জীবনে নিজের শরীরের সিগন্যাল বোঝাও জরুরি। হার্টের ঝুঁকি আছে কি না, তার একটা প্রাথমিক ধারণা বাড়িতেই সহজ একটি পরীক্ষার মাধ্যমে পাওয়া যেতে পারে, যা আপনাকে সময় থাকতে সতর্ক হতে সাহায্য করবে।

বাড়িতে বসেই হার্ট পরীক্ষা!

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ৪০ থেকে ৬০ সেকেন্ডের কিছু পরীক্ষার পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়েছেন। বাড়িতে সহজেই সেই পরীক্ষাগুলি করে দেখে নিতে পারেন, হার্টের স্বাস্থ্য ঠিক কেমন।

সিঁড়ি পরীক্ষা

ইউরোপীয় সোসাইটি অফ কার্ডিয়োলজির গবেষকরাও এই সহজ পরীক্ষাটিকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। নাম ‘স্টেয়ার ক্লাইম্ব টেস্ট’, আর সময় লাগবে মাত্র ৪০ থেকে ৬০ সেকেন্ড। পদ্ধতিটা খুবই সহজ—টানা চার তলা সিঁড়ি ভাঙতে হবে, অর্থাৎ মোটামুটি ৬০টি সিঁড়ি উঠতে হবে আপনাকে। যদি কোনও রকম অস্বস্তি ছাড়াই ৪০ সেকেন্ড বা তার কম সময়ে এই সিঁড়ি ভাঙতে পারেন, তা হলে প্রাথমিক ভাবে ধরে নেওয়া যায় যে আপনার হার্ট সুস্থ রয়েছে। তবে সময় বেশি লাগলে বা হাঁপ ধরা, বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা শুরু হলে সেটাকে হালকা ভাবে নেওয়া ঠিক নয়।

পরীক্ষা শেষ করার পর নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়াটা ভালো করে খেয়াল করা খুব জরুরি। ৬০টি সিঁড়ি ভাঙার পরে যদি সামান্য হাঁপিয়ে যান, তা হলে সেটা সাধারণত স্বাভাবিক বলেই ধরা হয়। কিন্তু যদি বুক ধড়ফড় করা, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা বুকে ভারী পাথর চেপে থাকার মতো অস্বস্তি অনুভব করেন, তা হলে এক মুহূর্তও দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। আবার এই সিঁড়ি ভাঙতে যদি আপনার ১ মিনিটের বেশি সময় লাগে, তা হলেও বুঝতে হবে শরীর বা হার্ট পুরোপুরি ফিট নেই—এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

চেয়ার টেস্ট

অনেক চিকিৎসকই বাড়িতে হার্টের অবস্থা বোঝার জন্য এই সহজ পরীক্ষাটির পরামর্শ দেন, যার নাম ‘সিট টু স্ট্যান্ড টেস্ট’। এই পরীক্ষার মাধ্যমে হৃদ্‌গতির হার স্বাভাবিক আছে কি না বা হৃৎস্পন্দনে কোনও অনিয়ম হচ্ছে কি না, তার একটা প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। পদ্ধতিটা খুব সহজ—একটি চেয়ারে বসে হাত দু’টি বুকের উপর আড়াআড়ি রেখে, কোনও সাহায্য না নিয়ে বারবার উঠতে ও বসতে হবে। চেয়ারের হাতল ধরা যাবে না। এ ভাবে টানা ৪০ সেকেন্ড ধরে যতবার সম্ভব উঠা-বসা করতে হবে। পরীক্ষার সময় শরীর কীভাবে সাড়া দিচ্ছে, সেটাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পরীক্ষার পরে ফল কী বলছে, সেটাও বোঝা জরুরি। সাধারণ ভাবে ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ডে একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের অন্তত ১৫ বারের বেশি ওঠা–বসা করতে পারা উচিত। কিন্তু যদি এই পরীক্ষার মাঝেই খুব দ্রুত হাঁপিয়ে যান, বুক ধড়ফড় করতে থাকে বা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তা হলে সেটি হার্টের দুর্বলতার ইঙ্গিত হতে পারে এবং দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। এখন অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা যে হারে বাড়ছে, তা সত্যিই চিন্তার। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বহু রোগীর বয়সই এখন ২০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। কারও ক্ষেত্রে জিনগত কারণ দায়ী হলেও, অনেকের জীবনযাপন ও স্ট্রেসও বড় কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই বাড়িতে এই সহজ দু’টি পরীক্ষা করে মাঝে মাঝে নিজের হার্টের অবস্থা যাচাই করে নেওয়া খারাপ নয়—তবে মনে রাখবেন, এগুলি কোনও ভাবেই চিকিৎসকের বিকল্প নয়।