JKNews24 Disk: চিংড়ি মাছকে বলা হয় ‘জলের রানি’, আর ভোজনরসিক বাঙালির কাছে এটি এক আবেগের নাম। অফিস থেকে ফিরে ক্লান্ত শরীরে হোক বা ছুটির দুপুরে জম্পেশ আড্ডায়—এক থালা গরম ভাতের সাথে যদি থাকে মশলাদার চিংড়ি ভুনা, তবে তৃপ্তিটা ষোলো আনা পূর্ণ হয়। পেঁয়াজ রসুন দিয়ে ঝাল হোক বা মিষ্টি মিষ্টি মালাইকারি (Recipe), চিংড়ি পাতে পড়লে একথালা ভাত সাবাড় হয়ে যায় নিমেষেই। চিংড়ি এমনিতে তো একাই একশো, আবার অন্য পদের সঙ্গে চিংড়ির যুগলবন্দিও দারুণ জমে।আজকের এই ব্লগে আমরা জানবো খুব অল্প সময়ে এবং ঘরোয়া মশলায় কীভাবে জিভে জল আনা চিংড়ি ভুনা তৈরি করা যায়।
চিংড়ি ভুনা তৈরির উপকরণ (Recipe)
বাজার থেকে কেনা টাটকা চিংড়ি আর হাতের কাছের কিছু সাধারণ মশলা দিয়েই কেল্লাফতে করা সম্ভব। নিচে পরিমাপসহ তালিকা দেওয়া হলো:
- চিংড়ি: ১৭৫ গ্রাম (মাঝারি বা বড় সাইজ)
- পেঁয়াজ কুচি: ১ ১/২ কাপ (বেশি পেঁয়াজ মানেই ঘন গ্রেভি!)
- কাঁচা লঙ্কা: ২/৩ টি (ফালি করা)
- আদা বাটা: ১/২ চা চামচ
- গুঁড়ো মশলা: হলুদ ১/২ চা চামচ, লঙ্কা ১ চা চামচ, জিরে ১/২ চা চামচ
- টমেটো: অর্ধেকটি (কুচি করা)
- ধনে পাতা: ৩ টেবিল চামচ
- তেল ও নুন: পরিমাণমতো
ঢাকাই ভুনা চিংড়ির প্রণালী
১. প্রাথমিক প্রস্তুতি
প্রথমে চিংড়ির মাথা এবং খোসা ফেলে ভালো করে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। এরপর সামান্য নুন এবং হলুদ মাখিয়ে রাখুন। বাঙালির রান্নায় এটি একটি জরুরি ধাপ, কারণ এটি মাছের আঁশটে ভাব দূর করতে সাহায্য করে।
২. হালকা ভাজি
একটি পাত্রে তেল গরম করুন। তেল গরম হলে হলুদ-নুন মাখা চিংড়িগুলো দিয়ে দিন। মনে রাখবেন, চিংড়ি বেশিক্ষণ ভাজলে রাবারের মতো শক্ত হয়ে যায়, তাই ২-৩ মিনিট হালকা ভেজে তুলে নিন।
৩. মশলার কারিকুরি
ওই তেলের মধ্যেই পেঁয়াজ কুচি এবং লঙ্কা দিয়ে নাড়তে থাকুন। পেঁয়াজ যখন সোনালী রঙের হয়ে আসবে, তখন সামান্য জল দিয়ে আদা বাটা, হলুদ, লঙ্কা গুঁড়ো, জিরে গুঁড়ো এবং নুন দিয়ে দিন। মশলা কষানোর সময় টমেটো কুচি যোগ করুন।
প্রো টিপ: মশলা যত ভালো কষানো হবে, রান্নার স্বাদ তত বাড়বে। মশলার ওপর তেল ভেসে না ওঠা পর্যন্ত সময় নিয়ে কষান।
৪. রান্নার চূড়ান্ত ধাপ
মশলা কষানো হলে ভাজা চিংড়িগুলো দিয়ে দিন। মশলার সাথে ভালো করে মিশিয়ে অল্প আঁচে ৪-৫ মিনিট ঢাকা দিয়ে রাখুন। এতে মশলার স্বাদ চিংড়ির ভেতরে ঢুকবে। শেষে ধনে পাতা কুচি ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।
কেন এই রেসিপিটি সেরা?
১. পুষ্টিগুণ: চিংড়িতে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং প্রোটিন, যা হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো (Healthline-এর তথ্য অনুযায়ী)।
২. সময় সাশ্রয়ী: পেঁয়াজ কাটা থেকে নামানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করতে ২০ মিনিটের বেশি সময় লাগে না।
৩. স্বাদ: টমেটো এবং ধনে পাতার মিশ্রণ এই ভুনাতে একটি রিফ্রেশিং স্বাদ যোগ করে।
চিংড়ি ভুনা কেবল একটি পদ নয়, এটি বাঙালির রসনার এক অনন্য শিল্প। আজই এই রেসিপিটি ট্রাই করুন আর আপনার পরিবারের সাথে উপভোগ করুন দারুণ একটি লাঞ্চ বা ডিনার।
রেসিপিটি কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না! আপনি কি এই ভুনাতে নারকেলের দুধ যোগ করতে পছন্দ করেন? কমেন্টে জানান আমাদের।








