JKNews24 Disk: প্রথমবার বিমানে চড়ার অভিজ্ঞতা অনেকটা প্রথম প্রেমের মতো—উত্তেজনা আর বুক ঢিপঢিপানি দুটোই সমান তালে চলে। রানওয়ে দিয়ে যখন বিমানটি তীব্র গতিতে ছুটতে শুরু করবে, তখন মনে হতে পারে পেটের ভেতর বুঝি হাজারটা প্রজাপতি উড়ছে! কিন্তু এই রোমাঞ্চ যেন দুশ্চিন্তায় পরিণত না হয়, তার জন্য দরকার সঠিক প্রস্তুতি। আপনি যদি প্রথমবার আকাশপথের যাত্রী হন, তবে আজকের এই গাইডটি আপনার জন্যই। চলুন জেনে নিই, বাড়ি থেকে বের হওয়া থেকে শুরু করে গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ কীভাবে মসৃণ করবেন।
Table of Contents
1. আইএটিএ (IATA) কোড: আপনার ব্যাগের গোপন পরিচয়পত্র
বিমানযাত্রার সময় বোর্ডিং পাস বা লাগেজ ট্যাগে যে তিন অক্ষরের কোডটি চোখে পড়ে, সেটিই আসলে আইএটিএ (IATA) কোড— আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহণ সংস্থা নির্ধারিত প্রতিটি বিমানবন্দরের আলাদা পরিচয়চিহ্ন। প্রতিদিন অসংখ্য বিমান বিভিন্ন গন্তব্যে ওঠানামা করে, সেই ভিড়ে যাত্রীর নির্দিষ্ট গন্তব্য দ্রুত ও নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করার জন্যই ব্যবহার করা হয় এই তিন অক্ষরের কোড। বোর্ডিং পাস প্রিন্ট হওয়া বা লাগেজ স্ক্যান করার পর ব্যাগে যে ট্যাগ লাগানো হয়, তাতেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে এই কোড। যেমন কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আইএটিএ কোড হলো CCU। এই ছোট্ট তিন অক্ষরই নিশ্চিত করে দেয় আপনার ব্যাগ ঠিক গন্তব্যেই পৌঁছবে।
2. ‘লে ওভার’ (Layover) কী?
অনেকেই এই শব্দটি শুনে ঘাবড়ে যান। সহজ কথায় বলতে গেলে, লে ওভার হলো আপনার যাত্রাপথের একটি বিরতি বা স্টপ। ধরুন, আপনি কলকাতা থেকে লন্ডন যাচ্ছেন। সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় আপনাকে প্রথমে দুবাই যেতে হলো। দুবাই বিমানবন্দরে নেমে আপনাকে পরবর্তী ২ বা ৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে লন্ডনের ফ্লাইটের জন্য। এই মধ্যবর্তী সময়টিই হলো ‘লে ওভার’।
লে ওভারের সময় করণীয়:
- বোর্ডিং গেট চেক করা: নামার পরপরই পরবর্তী ফ্লাইটের গেট নম্বরটি ডিসপ্লে বোর্ডে দেখে নিন। কারণ বড় বিমানবন্দরে এক টার্মিনাল থেকে অন্য টার্মিনালে যেতে বেশ সময় লাগে।
- সময়ের দিকে খেয়াল রাখা: বিদেশের বিমানবন্দরে ঘুরতে ঘুরতে যেন ফ্লাইটের সময় ভুলে না যান! মনে রাখবেন, আপনার ঘড়ির সময় এবং বিমানবন্দরের সময় আলাদা হতে পারে।
- রিফ্রেশমেন্ট: দীর্ঘ যাত্রার মাঝে লে ওভারের সময় হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে নেওয়া বা হালকা কিছু খেয়ে নেওয়া শরীরের জন্য ভালো।
3. ল্যান্ডসাইড বনাম এয়ারসাইড
বিমানবন্দরের মূল দুইটি অঞ্চল হলো ল্যান্ডসাইড এবং এয়ারসাইড। ল্যান্ডসাইড হল যেটি সাধারণ যাত্রী বা দর্শনার্থী প্রবেশ করেন—এখানে লাগেজ স্ক্যান, দোকানপাট, রেস্তোরাঁ, এবং আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ থাকে। এর থেকে একবার নিরাপত্তা চেক এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া পেরিয়ে যখন যাত্রী এয়ারসাইড-এ প্রবেশ করেন, তখন ফেরার পথ সীমিত হয়ে যায়; অর্থাৎ, এয়ারসাইডে একবার ঢুকলে আবার ল্যান্ডসাইডে ফিরে আসার জন্য পুনরায় সব নিরাপত্তা ধাপ পেরোতে হয়।
4. ডিজি যাত্রা (DigiYatra): লাইনে দাঁড়ানোর দিন শেষ!
আধুনিক বিমানযাত্রায় বিপ্লব ঘটিয়েছে ‘ডিজি যাত্রা’ (DigiYatra) অ্যাপটি। এটি মূলত ‘ফেসিয়াল রিকগনিশন টেকনোলজি’ বা মুখাবয়ব চেনার প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে।
কেন ফোনে এই অ্যাপ থাকা জরুরি?
- সময় সাশ্রয়: বিমানবন্দরে ঢোকার সময় বা সিকিউরিটি চেকিংয়ের সময় আপনাকে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ফিজিক্যাল বোর্ডিং পাস বা আইডি কার্ড দেখাতে হবে না।
- পেপারলেস এন্ট্রি: অ্যাপে লগ-ইন করে আগে থেকেই বোর্ডিং পাস আপলোড করে রাখুন। বিমানবন্দরের ই-গেটে আপনার মুখ স্ক্যান করেই আপনাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
- স্মার্ট ট্রাভেল: আধুনিক ডিজিটাল রেকগনিশন টেকনোলজির সাহায্যে সরাসরি বিমানে ওঠার সুযোগ পাওয়া যায়, যা যাত্রীদের এক অন্যরকম আভিজাত্য প্রদান করে।
উপসংহার
প্রথম বার বিমান ভ্রমণ কোনো রকেট সায়েন্স নয়। শুধু সামান্য কিছু নিয়ম আর ওই তিন অক্ষরের IATA কোড, লে ওভার, এবং ডিজি যাত্রা অ্যাপের মতো বিষয়গুলো মাথায় রাখলেই আপনি একজন অভিজ্ঞ যাত্রীর মতো ট্রাভেল করতে পারবেন।









