JKNews24 Disk: রাতের আকাশ দেখতে ভালোবাসেন? তাহলে ৩ মার্চ ভোরের জন্য অ্যালার্ম দিয়ে রাখতেই পারেন, কারণ সেদিন দেখা যাবে ২০২৬ সালের প্রথম ও একমাত্র পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ (Lunar Eclipse)। সেই সময় চাঁদ পুরোপুরি পৃথিবীর ছায়ায় ঢুকে রক্তিম আভা নেবে, যাকে আমরা সাধারণভাবে ‘ব্লাড মুন’ (Blood Moon) বলি। এমন দৃশ্য রোজ রোজ দেখা যায় না, আর এটি মিস করলে আবার পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখতে অপেক্ষা করতে হবে ২০২৮ সাল পর্যন্ত। তাই অনেকের মনেই প্রশ্ন—ভারত থেকে দেখা যাবে কি না, ঠিক কোন সময় আকাশের দিকে তাকাতে হবে? এই প্রতিবেদনেই থাকছে সব বিস্তারিত তথ্য।
কখন ঘটবে এই চন্দ্রগ্রহণ?
ভারতীয় সময় অনুযায়ী, এই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ ২ মার্চ গভীর রাত থেকে ৩ মার্চ ভোরের মধ্যে দেখা যাবে। আন্তর্জাতিক সময় অনুসারে গ্রহণ চলবে ভোর ৩টা ৪৪ মিনিট থেকে সকাল ৯টা ২২ মিনিট পর্যন্ত। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ, অর্থাৎ পূর্ণগ্রাস পর্যায়টি স্থায়ী হবে প্রায় ৫৮ মিনিট—ভোর ৬টা ০৪ মিনিট থেকে ৭টা ০২ মিনিট পর্যন্ত। এই সময় চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার গভীরতম অংশে প্রবেশ করবে এবং লালচে-কমলা আভায় রঙিন হয়ে উঠবে, যেটাকেই আমরা ‘ব্লাড মুন’ বলে চিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ণগ্রাস শুরু হওয়ার প্রায় ৭৫ মিনিট আগে থেকেই আকাশের দিকে নজর রাখলে আংশিক গ্রহণের ধাপগুলি চোখে পড়বে, যখন পৃথিবীর ছায়া ধীরে ধীরে চাঁদের উপর পড়তে শুরু করবে।
কোথা থেকে দেখা যাবে এই গ্রহণ?
এই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণটি সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে। হিসেব বলছে, বিশ্বের প্রায় ৩১ শতাংশ মানুষ—অর্থাৎ আনুমানিক ২৫০ কোটিরও বেশি মানুষ—এই ‘ব্লাড মুন’ দেখার সুযোগ পাবেন। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে উত্তর-পশ্চিম মেক্সিকো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার অন্তর্দেশীয় অঞ্চল থেকে গ্রহণটি একেবারে স্পষ্ট দেখা যাবে। তবে দুঃখের বিষয়, ভারত থেকে এই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দৃশ্যমান হবে না।
ব্লাড মুন’ কেন লাল হয়?
আসলে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় সূর্যের আলো সরাসরি চাঁদের উপর পড়তে পারে না, কারণ পৃথিবী মাঝখানে এসে সেই আলোকে আড়াল করে দেয়। তবে পুরোপুরি অন্ধকার হয়ে যায় না চাঁদ—পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সূর্যের আলোর একটি অংশ ভেঙে লাল তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো চাঁদের দিকে পাঠায়। সেই কারণেই চাঁদ লালচে আভা ধারণ করে, যাকে আমরা ‘ব্লাড মুন’ নামে চিনি। অবশ্য খারাপ আবহাওয়া হলে খালি চোখে গ্রহণ দেখা নাও যেতে পারে। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহাকাশ ও জ্যোতির্বিজ্ঞান সংস্থা অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করতে পারে, ফলে ঘরে বসেই এই বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করা যাবে। 🌕
