JKNews24 Disk: সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথম কাপ চা না হলে দিনটা যেন শুরুই হয় না (The correct recipe for tea)। আর সেই চা যদি কড়া না হয়, তাহলে তো পুরোপুরি বিপর্যয়! বাঙালির জীবনে কড়া চা শুধু পানীয় নয়, এটা আবেগ, আড্ডা আর একটু স্বস্তির নাম। কিন্তু এই কড়া স্বাদের আসল রহস্যটা কী? শুধু বেশি চা পাতা দিলেই হয় নাকি? আজ আমরা চায়ের কাপে তুফান তুলব এবং বিজ্ঞান ও অভিজ্ঞতার মিশেলে খুঁজে বের করব পারফেক্ট কড়া চায়ের সূত্র।
কড়া চা বলতে আমরা কী বুঝি?
বাংলায় কড়া চা মানে গাঢ় রঙের, জোরালো স্বাদের দুধ-চিনি মেশানো চা। রাস্তার চায়ের দোকানে যে ভাঁড়ের চা পান করি, সেটাই আসল কড়া চা। চা পাতা, জল, দুধ আর চিনি একসঙ্গে ফুটিয়ে তৈরি করি আমরা। উত্তর ভারতে একে কাদাক চা বলে, আর কলকাতায় ভাঁড়ের চা। মাটির ভাঁড়ে পরিবেশন করলে স্বাদ আরও মাটি-মাটি লাগে, যেন চায়ের সঙ্গে একটু প্রকৃতির ছোঁয়া মিশে যায়। এই চা শুধু স্বাদের জন্য নয়। এটা আমাদের দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সঙ্গী। অফিস যাওয়ার আগে, আড্ডায়, এমনকি রাতের খাবারের পরেও। কিন্তু কেন এত কড়া? উত্তর লুকিয়ে আছে চায়ের পাতায় আর বানানোর পদ্ধতিতে।
কড়া চা বানানোর সঠিক উপায় (The correct recipe for tea)
আপনি চাইলে ঘরে সহজেই কড়া চা বানাতে পারেন। প্রথমে এক কাপ জল নিন। ফুটতে দিন। চাইলে আদা কুচি আর এলাচ গুঁড়ো দিন – এতে স্বাদ আরও জমে। তারপর এক চা চামচ চা পাতা (ভালো কোয়ালিটির CTC) দিন। ২ থেকে ৩ মিনিট জোরে ফোটান। এবার দুধ আর চিনি যোগ করে আবার ১-২ মিনিট ফোটান। রং গাঢ় হয়ে গেলে ছেঁকে নিন। এই পদ্ধতিতে ট্যানিন আর ক্যাফেইন ভালোভাবে বেরোয়। ফলে চা শক্তিশালী আর আরামদায়ক হয়। মনে রাখবেন, পাতা বেশি দিলে তেতো হবে, কম দিলে ফিকে।
কড়া চায়ের উপকারিতা ও সতর্কতা
বিজ্ঞান বলে, দিনে ২-৩ কাপ চা হার্টের জন্য ভালো। হার্ভার্ডের গবেষণা অনুসারে, এতে স্ট্রোকের ঝুঁকি ২১% কমে। PMC-এর একটি রিভিউতে দেখা গেছে, ব্ল্যাক টি-এর পলিফেনল রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। তবে অতিরিক্ত চা খেলে সমস্যা। খুব গরম চা খেলে খাদ্যনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে (IARC-এর সতর্কতা)। আর অত্যধিক পরিমাণে (যেমন দিনে ১৬ গ্লাস) অক্সালেটের কারণে কিডনিতে সমস্যা হতে পারে। তাই মাঝারি পরিমাণে খান, আর খুব গরম না করে একটু ঠান্ডা করে পান করুন।
কড়া চা বানাতে আদা কখন দেবেন? টিপস জানালেন চা কাকু
চা বানানোর সময় সবসময় উপকরণের গুণমানের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। দুধ, চা-পাতা আর চিনি দেওয়ার পর আদা যোগ করলে চায়ের স্বাদ আরও ভালো হয়, তবে অনেকেই চা ফুটে ওঠার পর আদা দিতে ভুলে যান—এতে কিন্তু আদার ঝাঁজ ঠিকমতো মিশে না। আদা থেঁতো করে দিলে তার রস দ্রুত বের হয় এবং চায়ে কড়া ও ঝাঁঝালো স্বাদ আসে, আর শুধু টুকরো করে কেটে দিলে সেই ঝাঁজ একটু কম হয়। তবে যেভাবেই দিন না কেন, আদা সবসময় সঠিক পরিমাণে দেওয়া উচিত; বেশি দিলে চায়ের আসল স্বাদ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। অনেকেই ভাবেন আদার রস পুরোপুরি না বের হলে অপচয় হয়, তাই চাইলে শুরুতেই জলে আদা দিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে নিতে পারেন—তাহলে রস ভালোভাবে বের হবে এবং চায়ের স্বাদও হবে আরও সমৃদ্ধ।
