মালদা জেলার চাঁচলে শনিবার হঠাৎই বড়সড় নিরাপত্তা আতঙ্ক তৈরি হয়, যখন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-এর হেলিকপ্টারের একেবারে কাছে একটি ড্রোন উড়তে দেখা যায়। মালতিপুরে জনসভা শেষ করে তিনি গাজোলের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময়। হেলিকপ্টারে ওঠার ঠিক আগে এই ঘটনাটি ঘটে। ঘটনায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী নিজেই হেলিকপ্টারের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশকে কড়া তদন্তের নির্দেশ দেন। যার পরেই এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পরপরই মালদা পুলিশ সতর্ক হয়ে ওঠে। চাঁচল থানা স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তিনজনকে গ্রেফতার করে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন নূর আখতার। তিনি জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে বলেছেন, “হ্যাঁ, আমরা ড্রোন উড়িয়েছিলাম। আমরা তৃণমূল কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইনের জন্য কাজ করছিলাম। আমার সঙ্গীকে বারণ করা সত্ত্বেও সে সেরা শটের জন্য ড্রোন উড়িয়েছে।” তবে পুলিশ এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়। কর্মকর্তারা বলছেন, হেলিকপ্টারের এত কাছে ড্রোন ওড়ানো অত্যন্ত বিপজ্জনক।
ঘটনাটি যে কতটা গুরুতর হতে পারত, তা ভেবেই শিউরে উঠছেন অনেকে—কারণ ওই ড্রোনটি যদি হেলিকপ্টারের রোটরে ধাক্কা মারত, তাহলে মুহূর্তের মধ্যেই বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, মালদা এলাকায় ড্রোন ওড়ানোর জন্য কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের নিয়ম অনুযায়ী, হেলিকপ্টার ওঠানামার সময় আশেপাশের আকাশসীমা সম্পূর্ণ ফাঁকা রাখা বাধ্যতামূলক—সেই নিয়ম ভাঙায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ঘটনাস্থলেই ক্ষোভ প্রকাশ করে Mamata Banerjee বলেন, “যদি ড্রোনটি হেলিকপ্টারে ধাক্কা খেত, তাহলে কী হত? কে দায়ী?”—তার এই মন্তব্যই পরিস্থিতির গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -
ঘটনার পর Mamata Banerjee স্পষ্টভাবেই নির্দেশ দেন, “পুলিশকে খুঁজে বের করতে হবে কারা এটা করেছে,” এবং পরে গাজোলের সভাতেও তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারের সময় এমন ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যদিও অভিযুক্তদের দাবি, তারা নাকি শুধু সভায় যোগ দিতে এসে মুখ্যমন্ত্রীকে হেলিকপ্টারে ওঠার মুহূর্তের ভিডিও করার জন্য ড্রোন উড়িয়েছিলেন, এমনকি নূর আখতারও জানিয়েছেন তিনি তাঁর সঙ্গীকে বারবার বাধা দিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ড্রোনটি হেলিকপ্টারের একেবারে কাছাকাছি ঘুরছিল—যা সাধারণ ভিডিয়োগ্রাফির ক্ষেত্রে মোটেই স্বাভাবিক নয়, বরং পুরো ঘটনাকেই আরও সন্দেহজনক করে তুলছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা বলছেন, এটা হয়তো নির্বাচনী প্রচারের সময় ঘটে যাওয়া একটি অসাবধানতার ঘটনা। অন্যদিকে বিরোধী দল বিজেপি এবং সিপিএমের নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী? একজন বিজেপি নেতা বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা যদি এতটাই ঢিলেঢালা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?”
