১৯ মিনিটের একটি বিতর্কিত ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই Humayun Kabir-এর দলের সঙ্গে জোট ছিন্ন করেছে AIMIM। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিতর্কের মধ্যেই এবার আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যানের তরফে নতুন অভিযোগ সামনে এসেছে। তাঁর দাবি, নির্বাচনের আগে তাঁদের দলকে কোণঠাসা করতেই All India Trinamool Congress-এর সঙ্গে যোগসাজশ করে ‘ভুয়ো ভিডিও’ প্রকাশ করা হয়েছে এবং এর পেছনে বড় রাজনৈতিক চক্রান্ত রয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, এই ঘটনার বিরুদ্ধে তিনি আইনি পদক্ষেপ করতে অর্থাৎ আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
শনিবার দুপুরে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় সাংবাদিক বৈঠক করেন Humayun Kabir। সেখানেই তিনি রাজ্যের শাসক দল All India Trinamool Congress এবং AIMIM-এর একাংশের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, কিছু AIMIM নেতার সঙ্গে তৃণমূলের আর্থিক লেনদেন হয়েছে এবং নির্বাচনের আগে রাজনৈতিকভাবে তাঁর দলকে কোণঠাসা করতেই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।
হুমায়ুন আরও দাবি করেন, সম্প্রতি যে বিতর্কিত ভিডিওটি প্রকাশ্যে এসেছে, তার কোনও সত্যতা নেই। পাশাপাশি জোট ভাঙার জন্য AIMIM-এর পশ্চিমবঙ্গ সভাপতি ইমরান সোলাঙ্কি ও মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি আসাদুল শেখকে দায়ী করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, জঙ্গিপুরের তৃণমূল সাংসদ Khalilur Rahaman এবং তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে প্রায় ২০ কোটি টাকার ‘ডিল’ হয়েছে এবং আগাম ২ কোটি টাকা দেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। Humayun Kabir-এর অভিযোগকে সম্পূর্ণভাবে নস্যাৎ করে দিয়েছেন Asadul Sheikh, যিনি মুর্শিদাবাদ জেলা AIMIM সভাপতি। তিনি কড়া ভাষায় বলেন, হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য “ভিত্তিহীন” এবং ভিডিওটির সত্যতা প্রমাণ না করতে পারলে তাঁদের পক্ষে তার সঙ্গে থাকা সম্ভব নয়। একইসঙ্গে তিনি জানান, ভিডিও সংক্রান্ত রিপোর্ট তারা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পাঠিয়েছেন এবং সেই ভিত্তিতেই জোট ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, আসন্ন নির্বাচনে AIMIM শক্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং কোনওভাবেই All India Trinamool Congress-কে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়া হবে না। পাশাপাশি তিনি জানান, দলের শীর্ষ নেতা Asaduddin Owaisi-এর প্রচার কর্মসূচি আগামী ১৩, ১৪ ও ১৫ এপ্রিল রঘুনাথগঞ্জ এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে, এই রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেই নতুন করে আরও একটি ভিডিও ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যেখানে হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন ও রাজনৈতিক সমঝোতার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে দাবি করেছে তৃণমূল। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি, তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চাপানউতোর অব্যাহত রয়েছে।
হুমায়ুন অবশ্য গোড়া থেকেই ওই ভিডিয়ো এআই-এর কারসাজি বলে দাবি করে হাই কোর্টে মামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন। অন্য দিকে, এর মধ্যে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে মোট তিনটি থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কলকাতার ময়দান, মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং বীরভূমের সিউড়ি থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু হয়। অভিযোগ, সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে ভোটে মেরুকরণের চেষ্টা করছেন হুমায়ুন। অন্য দিকে, ওই ভিডিয়ো-বিতর্কের মধ্যে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বেশ কয়েক জন নেতা দল ছেড়েছেন। এত সবের মধ্যেও মচকাচ্ছেন না হুমায়ুন।
