Homeপশ্চিমবঙ্গনির্দল প্রার্থীদের আজব কাণ্ড, মাইক, নারকেল গাছ, টর্চ—কিন্তু মনে নেই কার কোনটা!

নির্দল প্রার্থীদের আজব কাণ্ড, মাইক, নারকেল গাছ, টর্চ—কিন্তু মনে নেই কার কোনটা!

ভোটের আর মাত্র একদিন বাকি, আর তার মাঝেই একেবারে চমকে দেওয়ার মতো ঘটনা—নিজের প্রতীকই ভুলে গেছেন একাধিক নির্দল প্রার্থী! নিছক মজার গল্প নয়, বাস্তবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে প্রতীক জিজ্ঞেস করতেই কেউ ঘেমে নেয়ে অস্থির, কেউ আবার জল খেয়ে নিজেকে সামলাচ্ছেন। বিশেষ করে সোনারপুর উত্তর বিধানসভায়-তে এই ছবিটা আরও স্পষ্ট। সেখানে নির্দল প্রার্থী দিব্যেন্দু […]

- Advertisement -

ভোটের আর মাত্র একদিন বাকি, আর তার মাঝেই একেবারে চমকে দেওয়ার মতো ঘটনা—নিজের প্রতীকই ভুলে গেছেন একাধিক নির্দল প্রার্থী! নিছক মজার গল্প নয়, বাস্তবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে প্রতীক জিজ্ঞেস করতেই কেউ ঘেমে নেয়ে অস্থির, কেউ আবার জল খেয়ে নিজেকে সামলাচ্ছেন। বিশেষ করে সোনারপুর উত্তর বিধানসভায়-তে এই ছবিটা আরও স্পষ্ট। সেখানে নির্দল প্রার্থী দিব্যেন্দু ইশার প্রথমে প্রশ্ন শুনে কিছুটা থমকে গেলেও পরে আলমারি থেকে কাগজপত্র বের করে অবশেষে মনে করতে পারলেন—তাঁর প্রতীক ‘মাইক’। একটু হাসির ছলেই তিনি স্বীকার করলেন, “উফফ! ভুলেই গিয়েছিলাম, জিজ্ঞেস না করলে হয়তো মনে পড়ত না।” প্রথমবার ভোটে লড়ছেন বলেই এমনটা হয়েছে বলে জানান তিনি, আর যোগ করেন—“ইচ্ছে হয়েছে, তাই লড়ছি। এটা আমার গণতান্ত্রিক অধিকার।”

ভোটের আগে প্রতীক ভুলে প্রার্থীদের অদ্ভুত পরিস্থিতি

ভোটের ঠিক আগে এমন দৃশ্য সত্যিই বিরল—নিজের প্রতীক নিয়েই ধন্দে নির্দল প্রার্থীরা। সিঙ্গুর বিধানসভার নির্দল প্রার্থী  নির্দল প্রার্থী অরূপ দাসের প্রতিক্রিয়া তো আরও চমকে দেওয়ার মতো। “মনে নেই দাদা, ওসব আমার ছেলে জানে”—এমনটাই সোজাসাপটা জবাব তাঁর। প্রশ্ন উঠতেই কিছুটা বিরক্ত হয়ে তিনি আরও বলেন, “বলছি না দাদা, ছেলে বলেছিল তাই দাঁড়িয়েছিলাম। আপনি পারলে ওর সঙ্গে কথা বলুন।” ভোটে দাঁড়িয়েও নিজের প্রতীক মনে না থাকা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই অবাক হচ্ছেন অনেকেই।

নারকেল গাছ থেকে মাইক—বিচিত্র প্রতীকের ভিড়

এমনই আজব কাণ্ডকারখানা ঘিরে জমে উঠেছে নির্দল প্রার্থীদের লড়াই—West Bengal-এর ২৯৪টি বিধানসভা জুড়ে হাজার হাজার প্রার্থী লড়ছেন নানান অচেনা প্রতীকে। বড় দলগুলির ক্ষেত্রে যেমন All India Trinamool Congress-এর জোড়াফুল, Communist Party of India (Marxist)-এর কাস্তে-হাতুড়ি, Bharatiya Janata Party-এর পদ্মফুল বা Indian National Congress-এর হাত চিহ্ন সবাই চেনে। কিন্তু নির্দল প্রার্থীদের জন্য থাকে একগুচ্ছ ‘ফ্রি সিম্বল’—যেখান থেকে বেছে নিতে হয় নিজের প্রতীক। সেই তালিকা দেয় Election Commission of India। আর কোনও কেন্দ্রে আগে থেকে কেউ না নিলে সেই প্রতীকই অনুমোদন পায়। তাই কোথাও দেখা যাচ্ছে নারকেল গাছ, কোথাও তালগাছ, আবার কোথাও মাইক বা টর্চ—যেমন Sonarpur Uttar Assembly constituency-এর প্রার্থী সুস্মিতা মাইতি মান্নার প্রতীক ‘নারকেল গাছ’।

আমাদের হোয়াটসঅ্যাপটেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -

“গাছ ভালোবাসি তো। বাড়ির ছাদে লাগিয়েছি বোগানভেলিয়া, কুমরো, বেগুন।” সুস্মীতাদেবীর কথায়, “সবুজ ধ্বংস হচ্ছে। আমি গাছ ভালোবাসি। তাই জন্যই নারকেল গাছ প্রতীক বেছে নিয়েছি। তাতে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তারকেশ্বরে দিতি ভট্টাচার্য্য লড়ছেন তালগাছ চিহ্নে। তাঁরও বক্তব্য, “মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। তাই লড়ছি নির্বাচনে।” তবে কারও কাছে নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) প্রতীক-ই আবার ভোটে দাড়ানো উদ্দেশ্য। সাতগাছিয়া বিধানসভার নির্দল প্রার্থী সঞ্জয় প্রামানিকের প্রতীক আপেল! হঠাৎ আপেল বেছে নিলেন? “রোজ একটা করে আপেল সবার খাওয়া উচিৎ। আপেলের যা দাম। গরীব মানুষ খাবে কি করে? আমি ক্ষমতায় এলে আপেলের দাম কমাবো।” চটজলদি জবাব সঞ্জয়বাবুর। 

--Advertisement--
- Advertisement -
- Advertisement -

Breaking News

- Advertisement -

Related Stories

- Advertisement -