JKNews24 Disk: শীত ও গ্রীষ্মের মাঝের ঋতু বসন্ত। এই সময়ে আবহাওয়ার রূপান্তর খুব দ্রুত ঘটে—বিকেল থেকে সকাল পর্যন্ত ঠাণ্ডা থাকে, আর দুপুরে রোদে গরম অনুভূত হয়। সারা দিনে এই আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাই বসন্তকালে জীবাণুবাহিত জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বেশি দেখা দেয়। এই সময়ে হাম, পক্সের মতো সংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়, চোখের সংক্রমণও হতে পারে।
এ কারণে শিশুরা সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল থাকে। বাবা-মায়ের উচিত সময়মতো সতর্ক থাকা এবং শিশুর যত্ন নেওয়া। যেমন, শিশুকে আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে রাখার চেষ্টা করা, পরিধানের জন্য হালকা ও আরামদায়ক কাপড় নির্বাচন, হাত-মুখ নিয়মিত ধোয়া, ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা। এছাড়া শিশুর স্বাস্থ্য খেয়াল রাখতে নিয়মিত মেডিক্যাল চেকআপ করাও জরুরি, যাতে ছোটখাটো সংক্রমণও বড় সমস্যা হয়ে না ওঠে।
শিশুদের বসন্ত রোগ থেকে সুরক্ষিত
কোন কোন রোগ থেকে সতর্ক থাকতে হবে?
বসন্তকালে অ্য়াডিনোভাইরাস এবং রেসপিরেটরি সিনসিটিয়াল ভাইরাস (RSV)-এর সংক্রমণ বেড়ে যায়, ফলে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয় ভাইরাল জ্বর এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায়। চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদারের মতে, ঠান্ডা লাগার কারণে টনসিলের সমস্যা বেশি দেখা দেয়, যার ফলে জ্বরও হতে পারে। তাই বাড়িতে কারও জ্বর বা সর্দি-কাশি থাকলে শিশুরা যেন সংক্রমণের ঝুঁকিতে না পড়ে, তাদের সেই ব্যক্তি থেকে দূরে রাখা খুব জরুরি।
এই সময়ে খাবার ও পানীয় জলের মাধ্যমে নানা জীবাণু শরীরে ঢোকে, ফলে আন্ত্রিক সংক্রমণ বা ডায়রিয়ার প্রকোপও বাড়ে। তাই ছোটদের বাইরের খাবার, পানীয় বা শরবত খাওয়ানো উচিত নয়। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি হলো জল ফুটিয়ে খাওয়ানো এবং বাড়িতে তৈরি, পরিচ্ছন্ন খাবারই দেওয়াটা। এতে শিশুদের স্বাস্থ্য রক্ষা হয় এবং রোগের ঝুঁকি কমে।
বসন্তকালে হাম ও পক্সের প্রকোপও বেড়ে যায়। পক্স, যা বসন্ত রোগ হিসেবেও পরিচিত, ভেরিসেলা জস্টার নামক ভাইরাস থেকে হয়। সাধারণত শীতকালের শেষ এবং বসন্তকালে এটি বেশি দেখা যায়। রোগের শুরুতে জ্বর হয়, পরে সারা শরীরে ছোট ছোট ফোস্কার মতো দাগ বের হয়, যা জ্বালা করতে পারে। এই রোগ সাধারণত সাত থেকে পনেরো দিন স্থায়ী হয়। তাই, যদি জ্বর তিন থেকে চার দিনের বেশি থাকে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।
তাছাড়া পাঁচ থেকে দশ বছরের শিশুদের ক্ষেত্রে হাঁপানি বা ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বসন্তের আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে হাঁপানি, অ্যালার্জি ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার প্রকোপও বেড়ে যায়। তাই এই বয়সের শিশুরা বিশেষভাবে নজরদারিতে রাখা উচিত এবং প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বাবা-মায়েরাকীভাবেসামলাবেন?
সময়মতো টিকাকরণ শিশুদের অনেক ভাইরাসজনিত রোগ থেকে রক্ষা করে। এর সঙ্গে বাড়িতে সতর্কতা অবলম্বন করাও গুরুত্বপূর্ণ—যদি কোনো শিশুর মধ্যে রোগের লক্ষণ দেখা দেয়, তবে প্রথমেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও জরুরি, যেমন পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, হাতে- মুখ ধোয়া, এবং রোগী শিশু থেকে অন্যদের দূরে রাখা।
খাবারে এই ঋতুতে সজনেডাঁটা, সজনেফুল, সজনেশাক এবং নিমপাতা রাখতে পারেন, যা শরীরকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় সাহায্য করে। শিশুকে দিনের বেলায় হালকা সুতির পোশাক পরানো ভালো, আর রাতে বাইরে গেলে গরম পোশাক দিতে হবে। এই সময়ে শিশুরা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা যেমন কাশি, নাক বন্ধ থাকা বা রাতে ঘুমের সমস্যা সহজেই আক্রান্ত হতে পারে। তাই কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া প্রয়োজন, নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো বিপজ্জনক।
শিশুর প্রস্রাব ঠিকমতো হচ্ছে কি না, তাও খেয়াল রাখতে হবে। যদি দিনে পাঁচবারের কম হয়, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এছাড়া পাঁচ বছরের নিচের শিশুর পানীয় জল অবশ্যই ফুটিয়ে ঠান্ডা করে খাওয়াতে হবে। যদি পরিশোধনের যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, তা নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে এবং বাড়ির জল ট্যাঙ্কও নিয়মিত পরিষ্কার করা উচিত।








