অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আবেদন রিজেক্ট?, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে বড় বার্তা, জানুন কী করণীয়!

-

গতকাল থেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার (Annapurna Bhandar) প্রকল্প নিয়ে মহিলাদের মধ্যে উদ্বেগ যেন আরও বেড়েছে। তার একটাই কারণ, আবেদন রিজেক্ট হয়ে যাওয়া। বেশিরভাগ মহিলারই গতকাল থেকে ‘অ্যাপ্লিকেশন রিজেক্টেড’ স্ট্যাটাস শো করছে। অথচ, যে সমস্ত মহিলারা যোগ্য নন তারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩০০০ টাকা করে অ্যাকাউন্টে পেয়ে গিয়েছেন। আর যারা প্রকৃত যোগ্য, অর্থাৎ নিম্নবিত্ত সীমার মধ্যে বসবাস করে তাদের ফর্ম রিজেক্ট হয়ে যাচ্ছে। আদৌ কি এই সমস্ত মহিলারা টাকা পাবেন না? আর কী কারণেই বা রিজেক্ট হচ্ছে?

কেন বাতিল হচ্ছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, জুন মাসে যাঁরা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের কিস্তি পাননি, তাঁদের জুলাই মাসের ১ তারিখেই ৩,০০০ টাকা করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। সেই ঘোষণা অনুযায়ী অনেকেই টাকা পেয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পে মোট ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। তার মধ্যে প্রাথমিক যাচাইয়ের পর প্রায় ২৮ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়। এরপর ১ জুলাই ১ কোটি ৯ লক্ষেরও বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে, আর প্রায় ৩০ লক্ষ আবেদন এখনও যাচাইয়ের জন্য বিবেচনাধীন রয়েছে। সম্প্রতি সোশ্যাল রেজিস্ট্রির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আবেদন স্ট্যাটাস দেখার সুবিধা চালু হতেই অনেকের স্ট্যাটাসে ‘Application Rejected’ বা ‘Payment Failure’ দেখা যাচ্ছে।

- Advertisement -

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক অসীম পাল দাবি করেন, গতকাল থেকেই বহু মহিলা আবেদন ‘Rejected’ দেখানো নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তাঁর অভিযোগ, কিছু অযোগ্য আবেদনকারীও ৩,০০০ টাকা পেয়েছেন, অথচ অনেক প্রকৃত যোগ্য ও নিম্নআয়ের পরিবারের মহিলার আবেদন বাতিল দেখানো হচ্ছে। বিধায়কের দাবি, এটি রাজ্য সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং স্থানীয় স্তরে আবেদন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অনিয়মের ফল। তাঁর অভিযোগ, কিছু পৌরসভা ও বিডিও অফিসে এখনও এমন কিছু আধিকারিক রয়েছেন, যাঁরা পক্ষপাতমূলকভাবে আবেদন যাচাই করছেন। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনও প্রমাণ প্রকাশ করেননি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যোগ্য মহিলাদের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩,০০০ টাকা পৌঁছে দিতে রাজ্য সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করছে।

বিধায়কের আরও সংযোজন, “চিন্তার কোনও কারণ নেই। অ্যাপ্লিকেশন রিজেক্ট হওয়া মানেই বাদ পড়া নয়। মুখ্য সচিব স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, প্রত্যেক যোগ্য উপভোক্তা এই প্রকল্পের আওতায় সুবিধা পাবেন। তাই আপনার এলাকায় কারা অযোগ্য হয়েও সুবিধা পাচ্ছেন তার একটি লিস্ট তৈরি করুন, এবং তারা যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও নাম বাদ পড়েছে তাদের একটি লিস্ট তৈরি করুন। সেই লিস্ট নিয়েই পৌরসভা বা বিডিও অফিসে আন্দোলনে নামুন। আমি আমার বিধানসভা দেখছি।” অর্থাৎ তাঁর কথা থেকে স্পষ্ট, রাজনৈতিক দ্বিচারিতা করেই যোগ্য মহিলাদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার থেকে। কিন্তু তিনি আশাবাদী, রাজ্য সরকার খুব তাড়াতাড়ি এই সমস্যার সমাধান করবে।

🔔 সর্বশেষ খবর সবার আগে পেতে যুক্ত হন

ব্রেকিং নিউজ, চাকরির খবর, টেক আপডেট ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে আমাদের WhatsAppTelegram চ্যানেলে এখনই যুক্ত হন।

Breaking News