ফের সুখবর বাংলার লক্ষ লক্ষ মহিলার জন্য। অন্নপূর্ণা যোজনার পরবর্তী কিস্তির টাকা শীঘ্রই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়তে চলেছে। রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত যোগ্য মহিলা সুবিধাভোগীরা প্রতি মাসে সরাসরি ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) পদ্ধতির মাধ্যমে এই টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।
অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া গত ৫ জুন থেকেই শুরু হয়েছে। এরপর ১৫ জুন থেকে আয়োজিত চার দিনব্যাপী জনকল্যাণ শিবিরেও বিপুল সংখ্যক মহিলার নাম নথিভুক্ত হয়েছে। এখনও বহু আবেদনকারী সাইবার ক্যাফের মাধ্যমে আবেদন করছেন। পাশাপাশি রাজ্য সরকার বাড়িতে বসেই ল্যাপটপ, ডেস্কটপ বা স্মার্টফোন ব্যবহার করে অনলাইনে আবেদন করার সুবিধাও চালু রেখেছে, ফলে যোগ্য মহিলারা সহজেই নিজেদের নাম নিবন্ধন করতে পারছেন।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় জমা পড়া বিপুল সংখ্যক আবেদন ইতিমধ্যেই যাচাই করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ২৮ লক্ষ মহিলা সুবিধাভোগীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩ জুন সরাসরি ৩,০০০ টাকা করে জমা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ১.০৫ কোটি মহিলার রেজিস্ট্রেশন সরকারি স্তরে গ্রহণ করা হয়েছে। তাঁদের আবেদন যাচাই করে তথ্য পোর্টালে আপলোডের কাজও শেষ হয়েছে। ফলে যাঁদের আবেদন সফলভাবে অনুমোদিত হয়েছে, তাঁরা আগামী ১ জুলাই জুন মাসের ৩,০০০ টাকার কিস্তি পাওয়ার আশা করছেন।
আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেই ঢুকবে টাকা
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা প্রকল্পের আর্থিক সহায়তার টাকা শুধুমাত্র ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) পদ্ধতিতে আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। তাই আবেদনকারীদের আধার, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং জমা দেওয়া নথিপত্র সঠিকভাবে যাচাই হওয়া অত্যন্ত জরুরি। সমস্ত তথ্য সফলভাবে যাচাই ও অনুমোদিত হওয়ার পরেই যোগ্য সুবিধাভোগীদের প্রতি মাসের ৩,০০০ টাকা সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে।
১ লা জুলাই অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকা না ঢুকলে কী করবেন?
অন্নপূর্ণা প্রকল্পের আবেদনকারীরা নিজেদের আবেদনের বর্তমান অবস্থা সোশ্যাল সিকিউরিটি পোর্টালে গিয়ে সহজেই দেখে নিতে পারবেন। যদি স্ট্যাটাসে ‘Approved’ (অনুমোদিত) লেখা থাকে, তাহলে বুঝতে হবে আবেদনটি গ্রহণ করা হয়েছে। ‘Verified’ (যাচাইকৃত) স্ট্যাটাস দেখালে ধরে নিতে হবে জমা দেওয়া সমস্ত নথি সফলভাবে যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। আবার ‘Payment Processed’ (পেমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন) লেখা থাকলে তার অর্থ, ৩,০০০ টাকার আর্থিক সহায়তা সুবিধাভোগীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বা সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, যদি ‘Pending Verification’ (যাচাইয়ের অপেক্ষায়) দেখা যায়, তাহলে বুঝতে হবে আবেদন ও নথিপত্র এখনও সরকারি স্তরে যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়া শেষ হলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আরও পরুনঃ WBJEE 2026 Counselling Date ঘোষণা, সরকারি-বেসরকারি কলেজে ভর্তির সুযোগ
যদি অন্নপূর্ণা প্রকল্পের টাকা নির্ধারিত সময়েও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে না আসে, তাহলে প্রথমেই সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কে গিয়ে নিশ্চিত করুন আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর সঠিকভাবে লিঙ্ক করা রয়েছে কি না। পাশাপাশি সোশ্যাল সিকিউরিটি পোর্টালে আবেদনটির বর্তমান স্ট্যাটাসও দেখে নিন। যদি আবেদনটি Rejected দেখায়, তাহলে সংশোধনের সুযোগ চালু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য বা নথি ঠিক করে পুনরায় জমা দিতে হবে। এছাড়া আধার-ব্যান্ক লিঙ্ক না থাকা, ভুল ব্যাঙ্কের তথ্য, অসম্পূর্ণ নথিপত্র, আবেদন যাচাই শেষ না হওয়া বা আবেদন বাতিল হওয়ার মতো বিভিন্ন কারণে টাকা আটকে যেতে পারে।
স্ট্যাটাস চেক করুন
অন্নপূর্ণা প্রকল্পের আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানতে রাজ্য সরকারের Social Security Portal-এ লগ ইন করে স্ট্যাটাস দেখে নিন। যদি সেখানে ‘Submitted’ লেখা থাকে, তাহলে বুঝতে হবে আপনার আবেদন সফলভাবে জমা হয়েছে, তবে এখনও যাচাই প্রক্রিয়া চলছে। আর যদি ‘Approved’ বা ‘Processed’ স্ট্যাটাস দেখা যায়, তাহলে ধরে নিতে পারেন আপনার আবেদন অনুমোদিত হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই, সাধারণত এক-দু’দিনের মধ্যেই ৩,০০০ টাকার কিস্তি আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হতে পারে।
আবেদন বাতিল (Rejected) হলে
যদি আপনার আবেদনের স্ট্যাটাসে ‘Rejected’ দেখায়, তাহলে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। সরকার পরবর্তী নির্দেশিকা জারি করলে প্রয়োজনীয় ত্রুটি সংশোধন করে পুনরায় আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হবে। অনেক সময় ফর্মে ভুল তথ্য, অসম্পূর্ণ নথিপত্র বা যাচাই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ার কারণে আবেদন বাতিল হতে পারে বা টাকা পাঠাতে দেরি হয়। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যাঁদের নাম এখনও অন্নপূর্ণা প্রকল্পে নথিভুক্ত হয়নি, তাঁদের উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া এখনও চালু রয়েছে এবং নতুন আবেদনকারীরা অনলাইনে বা স্থানীয় সরকারি আধিকারিকদের সহায়তায় আবেদন করতে পারবেন। প্রয়োজনে সরকারি কর্মীরা আবেদনকারীদের বাড়িতে গিয়েও প্রয়োজনীয় সাহায্য করবেন বলে জানানো হয়েছে। তাই যোগ্য ব্যক্তিরা এখনও নিশ্চিন্তে এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করার সুযোগ পাবেন।
