১৯৮৫ সালে অ্যান্টার্কটিকা থেকে একটি রহস্যময় জীবাশ্মের খণ্ড উদ্ধার করেছিলেন গবেষকেরা। তাঁরা নিশ্চিত ছিলেন যে এটি কোনো প্রাচীন জীবের জীবাশ্ম, কিন্তু ঠিক কোন প্রাণীর, তা সে সময় নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। এরপর নমুনাটি যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজে অবস্থিত ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভে (British Antarctic Survey)-এর সংগ্রহশালায় সংরক্ষণ করা হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে সেটি আর বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হয়নি। প্রায় চার দশক ধরে জীবাশ্মটি একটি ড্রয়ারেই পড়ে ছিল।
দীর্ঘদিন পর এক জীবাশ্মবিদ সংরক্ষণাগার থেকে জীবাশ্মটির নমুনা বের করে নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। বিশ্লেষণের পর তিনি জানতে পারেন, এটি আসলে একটি ডাইনোসরের জীবাশ্ম। আরও গবেষণায় জানা যায়, হাড়ের এই খণ্ডটি একটি তৃণভোজী, লম্বা গলার টাইটানোসর-এর। এই আবিষ্কার শুধু একটি প্রাচীন প্রাণীর পরিচয়ই তুলে ধরেনি, বরং কোটি কোটি বছর আগে অ্যান্টার্কটিকার পরিবেশ কেমন ছিল, সে সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। অর্থাৎ, যে সময়ে এই ডাইনোসরটি সেখানে বিচরণ করত, তখন আজকের মতো বরফে ঢাকা মহাদেশ ছিল না; বরং সেখানে তুলনামূলক উষ্ণ আবহাওয়া ও উদ্ভিদে ভরা পরিবেশ ছিল।
গবেষকদের মতে, কোটি কোটি বছর আগে অ্যান্টার্কটিকা আজকের মতো বরফে ঢাকা ছিল না। সে সময় সেখানে ঘন সবুজ বনভূমি ছিল, যেখানে বিভিন্ন ধরনের ডাইনোসর বিচরণ করত। নতুন গবেষণায় আরও জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া হাড়ের জীবাশ্মটি একটি পূর্ণবয়স্ক টাইটানোসরের নয়, বরং অপেক্ষাকৃত কমবয়সি একটি ডাইনোসরের। এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের ফলাফল একটি বিজ্ঞানবিষয়ক গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘদিন একটি ড্রয়ারে অবহেলায় পড়ে থাকা জীবাশ্মের খণ্ডই শেষ পর্যন্ত অ্যান্টার্কটিকার প্রাচীন ইতিহাস এবং পৃথিবীর অতীত জলবায়ু সম্পর্কে মূল্যবান তথ্যের উৎস হয়ে উঠেছে।
