প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে ১৬ বছরের মেয়েকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, বারবার সম্পর্ক ভাঙার জন্য চাপ দেওয়া হলেও তা মানেনি কিশোরী। এরপরই নৃশংসভাবে তাকে খুন করা হয়। ঘটনার পর পরিচয় গোপন করতে অ্যাসিড দিয়ে মুখ পুড়িয়ে দেহটি রাস্তার ধারে ফেলে দেওয়া হয় এবং প্রথমে নিখোঁজের নাটক সাজানোর চেষ্টা করা হয়। তবে তদন্তে নেমে পুলিশ ধীরে ধীরে ঘটনার জট খুলে ফেলে এবং গোটা ঘটনার পর্দাফাঁস হয়।
বাবার বিরুদ্ধে নৃশংস খুনের অভিযোগ
গত বছরের আগস্ট মাসে বাড়ির লোকেদের সঙ্গে ঝগড়া করে প্রেমিকের হাত ধরে বাড়ি ছেড়েছিল বন্দনা চৌবে। কিছুদিন পর বাড়ি ফেরে কিশোরী। তার পরিবারের অভিযোগে তিন মাসের জেল খাটে যুবক। এমন ঘটনার পরেও পরিবারের আপত্তি উড়িয়ে প্রেমিকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল বন্দনা। মেয়ের এই কর্মকাণ্ড পছন্দ হয়নি বাবা বিজয় কুমার চৌবের। আত্মীয়ারা মেয়ের সম্পর্ক নিয়ে কুৎসা করায় একাধিকবার বাড়িও বদলান তিনি। এত কিছুর পরেও সম্পর্ক থেকে সরতে চায়নি মেয়ে। এর পরেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বিজয়।
ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নাম করে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন
মেয়েকে খুনের ঘটনায় আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ, অভিযুক্ত বিজয়কে এই নৃশংস কাজে সাহায্য করেন তাঁর বন্ধু আবদুল মান্নান। গত ১৩ এপ্রিল ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার নাম করে মেয়েকে নিয়ে রাজস্থানে যান তিনি। এরপর রাতে বারবাঁকির একটি নির্জন মরু এলাকায় গাড়ি থামিয়ে, ঘুমন্ত অবস্থাতেই কিশোরীকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। তারপর পরিচয় গোপন করতে অ্যাসিড দিয়ে মুখ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরিকল্পনা ছিল কাছের শারদা ক্যানেলে দেহ ফেলে দেওয়া, কিন্তু হঠাৎ সেখানে কয়েকটি গাড়ি চলে আসায় পরিস্থিতি বিগড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত আতঙ্কে তড়িঘড়ি রাস্তার ধারে দেহ ফেলে সেখান থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -
১৬ এপ্রিল মেয়ের নিখোঁজ ডায়েরি করেন বিজয়। যদিও বিজেয়ের কল রেকর্ড খতিয়ে দেখতেই সন্দেহ হয় পুলিশের। তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই নিজের মেয়েকে খুনের কথা স্বীকার করেন অভিযুক্ত। দাবি করেন, সমাজে বদনামের কারণে খুন করেছেন মেয়েকে। ৩৪ বছরের বিজয় চৌবে এবং ৪৫ বছরের আবদুল মান্নানকে গ্রেপ্তার করে পরবর্তী তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
