হজের খরচ বাড়ল, ১৫ মে’র মধ্যে আরও ১০ হাজার টাকা না দিলে মিলবে না টিকিট!

-

হজযাত্রার ঠিক আগমুহূর্তে বড় আর্থিক ধাক্কার মুখে পড়েছেন ভারতের হজযাত্রীরা। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বিমান জ্বালানির (ATF) অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে মাথাপিছু অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা মাশুল ঘোষণা করেছে Haj Committee of India।

বোর্ডিং পাস পেতে নতুন নিয়ম কী বলছে

গত ২৮ এপ্রিল প্রকাশিত এক জরুরি সার্কুলারে জানানো হয়েছে, দেশের প্রতিটি এমবার্কেশন পয়েন্ট থেকেই হজযাত্রীদের এই অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে। Haj Committee of India-এর নির্দেশ অনুযায়ী, এই অর্থ জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা আগামী ১৫ মে নির্ধারণ করা হয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে আরও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই “ডিফারেনশিয়াল এয়ারফেয়ার” বা বর্ধিত বিমান ভাড়া পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের বোর্ডিং পাস ইস্যু করা হবে না। অর্থাৎ, সময়মতো টাকা জমা না দিলে অনেকের হজযাত্রার স্বপ্নও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।

- Advertisement -

কর্তৃপক্ষের দাবি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে বিমান সংস্থাগুলো আগের চুক্তিবদ্ধ ভাড়ায় পরিষেবা দিতে অস্বীকার করায় এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।  তবে সরকারের এই আকস্মিক পদক্ষেপে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে পুণ্যার্থীদের মধ্যে।

ভারতের হজযাত্রীদের জন্য নতুন অতিরিক্ত ফি

Haj Committee of India-এর এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন Asaduddin Owaisi, যিনি AIMIM-এর প্রধান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মুম্বাই থেকে যাত্রার জন্য কয়েক মাস আগেই পুণ্যার্থীদের কাছ থেকে প্রায় ৯১ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এরপরও নতুন করে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ওয়াইসির দাবি, হজ কমিটির নির্ধারিত বিমান ভাড়া সাধারণ বেসরকারি বিমান ভাড়ার তুলনায় অনেক ক্ষেত্রেই প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি থাকে। ফলে যাত্রীদের ওপর অযথা আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

- Advertisement -

তিনি প্রশ্ন তোলেন, হজ কমিটির মাধ্যমে যাওয়ার জন্য পুণ্যার্থীদের কি শাস্তি দেওয়া হচ্ছে? তিনি বলেন, “অধিকাংশ পুণ্যার্থীই ধনী নন, তাঁরা বছরের পর বছর টাকা জমিয়ে হজে যান।  এটা তাঁদের কাছে বিলাসিতা নয়।”

- Advertisement -

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী Kiren Rijiju। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে বিমান জ্বালানির (ATF) দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে বিমান সংস্থাগুলো মাথাপিছু প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দাবি করেছিল। তবে সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর সেই বাড়তি চাপ কমিয়ে আনা হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত মাত্র ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। রিজিজুর বক্তব্য অনুযায়ী, হজযাত্রা যাতে কোনওভাবে বন্ধ না হয় বা বিঘ্নিত না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই “ন্যূনতম” অতিরিক্ত মাশুল নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

JANARUL KHAN
JANARUL KHANhttps://jknews24.in/
আমি জানারুল খান। গত তিন বছর ধরে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। এর মধ্যে দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে JKNews24-এর সঙ্গে কাজ করছি। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঘটনা, সাম্প্রতিক বিষয় এবং গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে চর্চা ও বিশ্লেষণ করতে আগ্রহী। নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে সহজ ও পাঠকবান্ধব ভাষায় সংবাদ তুলে ধরাই আমার কাজের অন্যতম লক্ষ্য।
Breaking News