JKNews24 Disk: জ্বর হল এমন একটি সমস্যা, যা ছোট থেকে বড়—সব বয়সের মানুষকেই ভোগায়। জ্বর এলেই বাড়িতে নানা পরামর্শ ভেসে আসে। কেউ বলেন, “ঘামাতে হবে”, কেউ বলেন, “ঠান্ডা জল ঢালো”, আবার কেউ পেঁয়াজের টোটকা দেন। কিন্তু প্রশ্ন একটাই—এসব ঘরোয়া প্রতিকার কি সত্যিই জ্বর কমায়?
Table of Contents
জ্বর আসলে কী এবং কেন হয়?
চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা প্রায় ৯৮.৬°F (৩৭°C)। যখন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা অন্য কোনও সংক্রমণ শরীরে প্রবেশ করে, তখন ইমিউন সিস্টেম সক্রিয় হয়। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ফলেই শরীরের তাপমাত্রা বাড়ে। World Health Organization (WHO) এবং Centers for Disease Control and Prevention (CDC) স্পষ্টভাবে জানায়, জ্বর কোনও রোগ নয়। এটি শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।
জ্বর কমানোর ঘরোয়া প্রতিকার: যেগুলো সত্যিই কাজ করে
১) পর্যাপ্ত জল ও তরল পান
জ্বর হলে শরীর দ্রুত জল হারায়। ডিহাইড্রেশন হলে জ্বর আরও খারাপ লাগতে পারে। তাই জল, ওআরএস, ডাবের জল বা হালকা স্যুপ খুবই উপকারী। CDC জানায়, জ্বরের সময় শরীর হাইড্রেটেড রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি। এটি সহজ, নিরাপদ এবং সব বয়সের জন্য প্রযোজ্য।
২) হালকা কুসুম গরম জলে স্পঞ্জ বাথ
অনেকে খুব ঠান্ডা জল ব্যবহার করেন, যা উল্টো সমস্যা বাড়ায়। খুব ঠান্ডা জলে শরীর কাঁপতে শুরু করে এবং তখন শরীর আরও তাপ তৈরি করে। হালকা কুসুম গরম জলে শরীর মুছলে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে। শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরাও এই পদ্ধতি ব্যবহার করেন।
৩) পর্যাপ্ত বিশ্রাম
জ্বরের সময় শরীর সংক্রমণের সঙ্গে লড়াই করে। বিশ্রাম না দিলে সেই লড়াই দুর্বল হয়ে পড়ে। Mayo Clinic–এর মতে, পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। এটি কোনও ঘরোয়া টোটকা নয়, বরং চিকিৎসাবিজ্ঞানের স্বীকৃত সত্য।
৪) হালকা ও সহজপাচ্য খাবার
জ্বর হলে খিদে কমে যাওয়া স্বাভাবিক। জোর করে ভারী খাবার খাওয়া ঠিক নয়। ভাতের মাড়, ডাল, স্যুপ বা ফল শরীরের জন্য যথেষ্ট। এই খাবারগুলো শক্তি দেয়, কিন্তু হজমে বাড়তি চাপ ফেলে না।
জ্বর কমানোর ঘরোয়া প্রতিকার: যেগুলো কাজ করে না
১) অতিরিক্ত কম্বল জড়িয়ে ঘামানো
অনেকের ধারণা, ঘামলে জ্বর “বেরিয়ে যায়”। বাস্তবে এতে শরীর আরও গরম হয়ে ওঠে। British Medical Journal (BMJ) জানিয়েছে, অতিরিক্ত গরম পরিবেশ জ্বরের অবস্থা খারাপ করতে পারে। ঘামানো কোনও চিকিৎসা নয়।
২) বরফ বা খুব ঠান্ডা জল ব্যবহার
বরফ বা খুব ঠান্ডা জল শরীরকে শক দেয়। এতে কাঁপুনি শুরু হয় এবং শরীর আরও তাপ তৈরি করে। এই পদ্ধতি জ্বর কমায় না, বরং অস্বস্তি বাড়ায়।
৩) পেঁয়াজ, রসুন বা আলুর টোটকা
পায়ে পেঁয়াজ বেঁধে রাখা বা শরীরে রসুন ঘষার কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এই টোটকাগুলো বহুদিন ধরে চলে আসছে, কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান এগুলোর পক্ষে নয়। বরং ত্বকে জ্বালা বা অ্যালার্জি হতে পারে।
৪) অজানা ভেষজ বা ঘরোয়া ওষুধ
সব প্রাকৃতিক জিনিস নিরাপদ নয়। অনেক ভেষজ উপাদানের উপর পর্যাপ্ত গবেষণা নেই। WHO সতর্ক করে বলেছে, যাচাই না করা ভেষজ বা ঘরোয়া ওষুধ বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা
শিশুদের জ্বর সবসময় গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। ৩ মাসের কম বয়সী শিশুর জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ দরকার। বয়স্কদের ক্ষেত্রে জ্বর অনেক সময় গুরুতর সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। এই দুই ক্ষেত্রেই শুধু ঘরোয়া প্রতিকারের উপর নির্ভর করা উচিত নয়।
কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরি?
নিচের লক্ষণগুলি দেখা দিলে দেরি করবেন না—
- জ্বর ৩ দিনের বেশি স্থায়ী হলে
- তীব্র মাথাব্যথা বা বমি
- শ্বাসকষ্ট
- খিঁচুনি বা অজ্ঞান হওয়া
CDC ও Mayo Clinic এই লক্ষণগুলোকে সতর্ক সংকেত হিসেবে চিহ্নিত করেছে।









