নন্দীগ্রামে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে তৃণমূল নেতার বাড়িতে বোমা রাখার অভিযোগ ঘিরে। নন্দীগ্রামে এলাকায় এই ঘটনায় বিস্ফোরণের দাবি করেছে আক্রান্ত পরিবারের সদস্যরা, যেখানে আহত হয়েছেন ওই তৃণমূল নেতার কন্যা। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে দু’টি তাজা বোমা উদ্ধার করেছে বলে জানা গেছে। তবে কে বা কারা এই বোমা রেখে গেল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই ঘটনার জন্য বিজেপিকে দায়ী করা হলেও, বিজেপি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
কীভাবে ঘটল বিস্ফোরণ?
রবিবার সকালেনন্দীগ্রামে-১ ব্লকের দাউদপুর এলাকায় চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে আসে। তৃণমূলের জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ শেখ শামসুল ইসলামের বাড়ি থেকে বোমা উদ্ধারের অভিযোগ ওঠে। তাঁর স্ত্রী রুবিনা পারভিন জানান, সকালে উঠোন পরিষ্কার করতে গিয়ে জানালার ওপর প্লাস্টিক মোড়া কিছু দেখতে পান তিনি। সন্তানদের জিজ্ঞাসা করলে তারা কিছু জানে না বলে জানায়। এরপর তাঁদের কন্যা ওই প্লাস্টিকটি দেখতে গেলে সেটি নিচে পড়ে আচমকাই বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়ায় ঢেকে যায় বাড়ি, আর এই ঘটনায় নাবালিকা কন্যার হাত ও পায়ে চোট লাগে বলে জানা গেছে।
নাবালিকা কন্যা আহত, ধোঁয়ায় ঢেকে যায় বাড়ি
রুবিনা বলেন, “আমার স্বামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর ক্ষতি করতে এই কাজ করা হয়েছে। আমি প্লাস্টিকটি দেখার পর সন্তানদের জিজ্ঞাসা করি। আমার মেয়ে প্লাস্টিক দেখতে যায়। সেই সময় সেটি হাওয়ায় নিচে পড়ে যায়। বিস্ফোরণ ঘটে।” আহত নাবালিকা জানিয়েছে, “আমি দেখতে গিয়েছিলাম। সেই সময় বিস্ফোরণ ঘটে। সব অন্ধকার হয়ে যায়।” পরিবারের এক সদস্য বলেন, “জানলা দিয়ে বোমা ঘরে ফেলতে গিয়েছিল। তা পারেনি। জানলার উপরে রেখে যায়। বড় ক্ষতির চেষ্টা ছিল। পাড়া প্রতিবেশীদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো। এটা অন্য এলাকার কেউ করেছে।”
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -
তদন্তে নেমেছে পুলিশ, বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা
ঘটনার পরেই খবর যায় স্থানীয় থানায়, এবং দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ। তল্লাশি চালিয়ে আরও দু’টি তাজা বোমা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। West Bengal Assembly Election 2026-এর ঠিক আগে Nandigram-এ তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
