দৈনন্দিন জীবনে একটু তাড়াহুড়ো করে সিঁড়ি দিয়ে তিন-চার তলায় উঠলেই কি আপনার বুক ধড়ফড় করে? দম নিতে কষ্ট হয়? যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য (Health Tips)। অনেকে বিষয়টিকে সাধারণ দুর্বলতা ভেবে এড়িয়ে যান, কিন্তু শরীর যখন এভাবে সংকেত দেয়, তখন তার পেছনে গভীর কিছু কারণ থাকতে পারে।
অনেকেই একটা ব্যাপার খেয়াল করেছেন হয়তো — শরীর ফিট থাকার পরেও সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। তখন মাথায় প্রশ্ন আসে, “আমার কি কোনো অসুখ হলো নাকি?” এই দুশ্চিন্তা একেবারে অমূলক নয়, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটা খুবই সাধারণ একটা বিষয়।আসলে, সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠা হঠাৎ করে শরীরের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। হার্ট দ্রুত কাজ করে, ফুসফুসে অক্সিজেনের চাহিদা বাড়ে, পেশিগুলো দ্রুত রক্ত চায় — ফলে নিঃশ্বাস দ্রুত হয়, অনেক সময় ভারীও লাগে।
সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় শ্বাসকষ্ট কেন হয়?
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -
আমরা যখন সমতলে হাঁটি, তখন আমাদের শরীর খুব একটা চাপ অনুভব করে না। কিন্তু সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় অভিকর্ষ বলের বিরুদ্ধে কাজ করতে হয়। এতে শরীরের পেশীগুলোর অতিরিক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়ে। হার্ট এবং ফুসফুস যদি সেই বাড়তি চাহিদা পূরণ করতে না পারে, তখনই শুরু হয় শ্বাসকষ্ট।
কেন সিঁড়ি বেয়ে উঠলেই শ্বাসকষ্ট হয়? (Health Tips)
সিঁড়ি ভেঙে ওপরে উঠতে গিয়ে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে? চিকিৎসাবিদ্যার ভাষায় এই বিষয়টিকে বলা হয় ‘Exertional Intolerance’, যার বাংলা মানে দাঁড়ায় শারীরিক পরিশ্রমে অস্বস্তি অনুভব করা বা পরিশ্রম সহ্য করতে না পারা।
সোজা কথায়, যখন শরীর হঠাৎ করে একটু বেশি পরিশ্রমের মুখে পড়ে — যেমন সিঁড়ি বেয়ে উঠা, দৌঁড়ানো বা ভারী কিছু তোলা — তখন শরীরের ভেতরে অক্সিজেনের চাহিদা বাড়ে। কিন্তু সেই চাহিদা যদি শরীর ঠিকমতো মেটাতে না পারে, তখনই দেখা দেয় হাঁপ ধরা বা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।
চিকিৎসাবিদ্যা বলছে, যখন কেউ সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতে যায়, তখন সাধারণত তাঁর পেশি শিথিল থাকে, হৃদস্পন্দন থাকে ধীর। অর্থাৎ তাঁর শরীর সিঁড়ি ভাঙার জন্য প্রস্তুত থাকে না। এই অবস্থায় যখন কেউ সিঁড়ি ভাঙতে শুরু করে, তাঁকে পর্যায়ক্রমে একেকবার একেক পায়ের ওপর ভর দিয়ে ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়। এতে হৃদস্পন্দন অনেকটা ‘রকেটগতি’তে বেড়ে যায়। সঙ্গে যুক্ত হয় কার্ডিওভাসকুলার নানা কার্যক্রম। তখন শরীরে হঠাৎ অক্সিজেনের চাহিদা যায় বেড়ে। এই বাড়তি অক্সিজেনের চাহিদা পূরণ না হলেই তৈরি হয় শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি।
তাহলে সহজে সিঁড়ি ভাঙা যাবে কীভাবে
প্রায়ই সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে যদি মনে হয় নিঃশ্বাস একেবারে আটকে যাচ্ছে — তাহলে আপনি একা নন! এই অভিজ্ঞতা বেশ অস্বস্তিকর, সেটা মানতেই হবে। তবে একটা ভালো খবর আছে — সিঁড়ি ওঠার এই কষ্টটাকে অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব, আর তার জন্য দরকার শুধু কয়েকটা সহজ ব্যায়াম। দৌড়, লাফ বা দ্রুত গতি তুলতে সাহায্য করে, এ ধরনের ব্যায়াম আপনাকে হঠাৎ পরিশ্রমের অস্বস্তি কাটাতে সহায়তা করবে। পা ও পশ্চাৎপেশির ব্যায়াম আপনাকে এক পায়ে ভারসাম্য রাখার মতো কাজে সাহায্য করবে। আপনি যদি ধূমপান করেন, তাহলে এখনই সেটা ছাড়ার সময়। শুধু সাধারণ সিগারেট নয়, ই-সিগারেটও শরীরের জন্য ক্ষতিকর — তাই সেটাও বাদ দেওয়া জরুরি।
এই অবস্থা থেকে মুক্তির উপায়
শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখা এবং গুগলের র্যাঙ্কিং গাইডলাইনের মতো নিজের লাইফস্টাইলকেও অপ্টিমাইজ করা জরুরি।
- ধীরে ধীরে শুরু করুন: একদিনেই দশ তলা ওঠার চেষ্টা করবেন না। প্রথমে এক তলা উঠুন, শরীর মানিয়ে নিলে ধীরে ধীরে ধাপ বাড়ান।
- সঠিক শ্বাসক্রিয়া: সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় নাক দিয়ে শ্বাস নিন এবং মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়ুন। এতে ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়ে।
- ওজন নিয়ন্ত্রণ: সুষম খাবার খান এবং প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন। ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।
- চেকআপ করান: যদি বিশ্রাম নেওয়ার পরও শ্বাসকষ্ট না কমে বা বুকে ব্যথা হয়, তবে দেরি না করে একজন কার্ডিওলজিস্ট বা পালমোনোলজিস্টের পরামর্শ নিন।
