JKNews24 Desk: হঠাৎ করে চারদিক ঘুরছে বলে মনে হচ্ছে? দাঁড়ালেই ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছেন? অনেকেই এমন অবস্থায় বলেন, “মাথাটা ঠিক নেই।” বাস্তবে মাথা ঘোরা একটি খুব সাধারণ সমস্যা হলেও এর কারণ সব সময় সাধারণ নয়। এই প্রতিবেদনে আমরা পরিষ্কারভাবে আলোচনা করব—মাথা ঘোরার কারণ কী, কারা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন, কী কী লক্ষণ দেখা যায় এবং কোন চিকিৎসা সত্যিই কাজে আসে। কোনও ভয় দেখানো নয়, কোনও গুজব নয়—শুধু যুক্তি, বিজ্ঞান আর বাস্তব তথ্য।
মাথা ঘোরা আসলে কী?
মাথা ঘোরা মানে শুধু চোখে অন্ধকার দেখা নয়। এটি এক ধরনের অনুভূতি, যেখানে—
- চারপাশ ঘুরছে বলে মনে হয়
- দাঁড়াতে বা হাঁটতে সমস্যা হয়
- ভারসাম্য হারিয়ে যায়
- Mayo Clinic অনুযায়ী, মাথা ঘোরা নিজে কোনও রোগ নয়। এটি অন্য সমস্যার একটি লক্ষণ।
মাথা ঘোরার সাধারণ কারণ
মাথা ঘোরার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। সব ক্ষেত্রে কারণ এক নয়।
১. রক্তচাপ কমে যাওয়া (Low Blood Pressure)
হঠাৎ বসা থেকে দাঁড়ালে মাথা ঘোরা খুব সাধারণ ঘটনা। একে বলা হয় orthostatic hypotension।
শরীর তখন রক্তচাপ সামলাতে একটু সময় নেয়।
২. পানিশূন্যতা (Dehydration)
শরীরে জল কমে গেলে রক্তের পরিমাণ কমে যায়। ফলে মস্তিষ্ক ঠিকমতো অক্সিজেন পায় না। WHO জানায়, পর্যাপ্ত জল না খেলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।
৩. কানের সমস্যা (Inner Ear Disorder)
কানের ভেতরের অংশ শরীরের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে। সেখানে সমস্যা হলে vertigo হতে পারে।
৪. রক্তে শর্করা কমে যাওয়া
অনেকক্ষণ না খেলে মাথা ঘোরা হতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি।
মাথা ঘোরার ঝুঁকির কারণ
সব মানুষের ঝুঁকি এক রকম নয়। কিছু বিষয় মাথা ঘোরার সম্ভাবনা বাড়ায়। Harvard Health Publishing জানায়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণকারী সিস্টেম দুর্বল হতে পারে।
- বয়স বেশি হলে
- ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে
- দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে
- অতিরিক্ত মানসিক চাপ
- পর্যাপ্ত ঘুম না হলে
মাথা ঘোরার লক্ষণ কী কী?
যদি এই লক্ষণগুলো ঘন ঘন দেখা যায়, তাহলে বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। মাথা ঘোরা শুধু একটি অনুভূতিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সঙ্গে আরও কিছু লক্ষণ দেখা যায়—
- চোখে অন্ধকার দেখা
- বমি ভাব বা বমি
- অতিরিক্ত ঘাম
- দুর্বল লাগা
- হাঁটতে গিয়ে টলমল করা
কখন মাথা ঘোরা বিপজ্জনক হতে পারে?
সব মাথা ঘোরা বিপজ্জনক নয়। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া জরুরি। American Heart Association জানায়, এই লক্ষণগুলো স্ট্রোক বা হৃদরোগের ইঙ্গিত হতে পারে।
তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের কাছে যান যদি—
- মাথা ঘোরার সঙ্গে বুকে ব্যথা হয়
- কথা বলতে অসুবিধা হয়
- হাত-পা অবশ লাগে
- হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যান
মাথা ঘোরার চিকিৎসা কীভাবে হয়?
চিকিৎসা সব সময় কারণ অনুযায়ী হয়। একটাই ওষুধ সবার জন্য কাজ করে না।
১. জল ও খাবারের যত্ন
অনেক ক্ষেত্রে শুধু পর্যাপ্ত জল খাওয়া এবং নিয়মিত খাবার খেলেই সমস্যা কমে যায়।
২. রক্তচাপ ও শর্করা নিয়ন্ত্রণ
ডায়াবেটিস বা রক্তচাপ থাকলে নিয়মিত পরীক্ষা ও ওষুধ জরুরি।
ঘরোয়া যত্ন: কী করবেন, কী করবেন না
যা করবেন
- ধীরে ধীরে উঠুন
- প্রচুর জল পান করুন
- মাথা ঘোরার সময় বসে পড়ুন
- পর্যাপ্ত ঘুম নিন
যা করবেন না
- হঠাৎ দাঁড়াবেন না
- না খেয়ে থাকবেন না
- মাথা ঘোরার সময় গাড়ি চালাবেন না
মানসিক চাপ ও মাথা ঘোরা
National Institute of Mental Health (NIMH) বলছে, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ শরীরের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। চাপ, উদ্বেগ ও প্যানিক অ্যাটাক থেকেও মাথা ঘোরা হতে পারে। এক্ষেত্রে সমস্যা শুধু শরীরে নয়, মনের দিকেও থাকে।
উপসংহার
মাথা ঘোরা খুব সাধারণ সমস্যা হলেও এর কারণ নানারকম হতে পারে। কখনও এটি সামান্য, আবার কখনও গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত। নিজের শরীরের পরিবর্তন বুঝুন। লক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সচেতনতা আর সময়মতো পদক্ষেপই সুস্থ থাকার আসল চাবিকাঠি।









