JKNews24 Bangla Disk: তারুণ্য বা যৌবন কি কেবল বয়সের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে? একদমই নয়। আমরা সবাই চাই আয়নার সামনে দাঁড়ালে যেন নিজেকে সবসময় সতেজ আর প্রাণবন্ত দেখায়। কিন্তু কর্মব্যস্ত জীবন, দূষণ আর অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস আমাদের অকালেই বুড়িয়ে দিচ্ছে। মজার ব্যাপার হলো, দীর্ঘ যৌবন ধরে রাখার জন্য আপনাকে কোনো ‘ম্যাজিক পিল’ খেতে হবে না বা কোনো দুর্লভ পাহাড়ের ঝরনায় স্নান করতে হবে না।
বিজ্ঞান বলছে, আমাদের শরীরের কোষগুলোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া যদি সঠিক থাকে, তবে বার্ধক্যকে অনেকটা দূরে ঠেলে দেওয়া সম্ভব। আজ আমরা এমন তিনটি সহজ কিন্তু শক্তিশালী দৈনিক অভ্যাস নিয়ে আলোচনা করব, যা আপনার শরীর ও মনকে দীর্ঘকাল তরুণ রাখতে সাহায্য করবে।
লেখক এবং দীর্ঘায়ু নিয়ে গবেষণায় নিবেদিত চিকিৎসক মাইকেল রোইজেনের মতে, সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার রহস্য লুকিয়ে রয়েছে আমাদের দৈনিক কিছু সহজ অভ্যাসের মধ্যে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও এমন কিছু অভ্যাসের পরামর্শ দিয়ে থাকেন, যেগুলো নিয়মিত মেনে চললে সুস্বাস্থ্য শুধু অর্জনই নয়, তা ধরে রাখাও সহজ হয়ে যায়। নিজের শরীর এবং মন ভালো রাখার জন্য এসব অভ্যাসকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলাই হলো মূল চাবিকাঠি।
হৃদ্যন্ত্রের সুরক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া
স্বাস্থ্য সচেতনতার অভ্যাসগুলো মূলত একটি সাধারণ ধারণাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়, আর তা হলো কার্ডিওভাসকুলার ব্যায়াম। এই ধরনের ব্যায়াম হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। নিয়মিত ট্রেডমিল ব্যবহার করলে এ ক্ষেত্রে ভালো ফল পাওয়া যায়। পাশাপাশি, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, হাঁটা বা জগিংয়ের মতো আরও বিভিন্ন কার্ডিও ব্যায়াম প্রতিদিনের অভ্যাসে নিয়ে আসা যায়। এগুলো হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে দারুণ কার্যকর।
নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস করুন
প্রতিদিন অন্তত ১০,০০০ পা হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন। আর সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ৩০ মিনিট করে দ্রুত গতিতে হাঁটতে পারলে এর উপকারিতা আরও বেশি। এই অভ্যাস হৃদ্রোগ এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। শুধু শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, মানসিক উদ্বেগ কমাতেও নিয়মিত হাঁটা দারুণ কার্যকর। তাই সময় বের করে একটু হাঁটার চেষ্টা করুন—আপনার শরীর ও মন দুটিই ভালো থাকবে!
পেশীর যত্ন করুন
সপ্তাহে অন্তত দু’বার ভারী ওজন উত্তোলনের ব্যায়াম করলে শরীরের জন্য বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য উপকার পাওয়া যায়। এটি শুধু পেশির জোর বাড়ায় না, হাড়ের শক্তিও বৃদ্ধি করে। ২০২২ সালে ব্রিটিশ জার্নাল অফ স্পোর্টস মেডিসিনে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা এই ধারণাকে সমর্থন করেছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, সপ্তাহে ৩০ থেকে ৬০ মিনিটের প্রতিরোধমূলক ব্যায়াম, যেমন ওজন উত্তোলন, মৃত্যুর ঝুঁকি ১৭% পর্যন্ত কমাতে পারে এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি ১৮% পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। এটি শুধু শারীরিক স্বাস্থ্য নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও সাহায্য করে।








