JKNews24 Desk: চলতি মাসেই শেষ হতে চলেছে রাজ্যের বর্তমান ডিজিপি রাজিব কুমারের মেয়াদ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, এরপর রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ কর্তার দায়িত্ব কে নেবেন? সেই উত্তর খুঁজতেই রাজ্য সরকার নতুন ডিজিপি হিসেবে কয়েকজন আইপিএস অফিসারের নামের তালিকা ইউপিএসসির কাছে পাঠিয়েছিল। কিন্তু সেই তালিকাই ফেরত পাঠিয়েছে ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন। শুধু তাই নয়, ডিজিপি নিয়োগ নিয়ে তৈরি হওয়া এই জটিলতা কাটাতে রাজ্যকে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শও দিয়েছে ইউপিএসসি, যা পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
কবে মেয়াদ শেষ হচ্ছে রাজীব কুমারের?
২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে তৎকালীন ডিজি মনোজ মালব্যর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই রাজ্যের নতুন ডিজি হিসেবে দায়িত্ব নেন রাজীব কুমার। এবার তাঁর মেয়াদও শেষের পথে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩১ জানুয়ারি রাজ্যের ডিজি পদে রাজীব কুমারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। সেই কারণেই আগেভাগে ইউপিএসসির কাছে নতুন ডিজি হিসেবে কয়েকজনের নামের তালিকা পাঠিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু সেই তালিকা তৈরিতে কেন এত দেরি করা হলো, এই প্রশ্ন তুলেই ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন তালিকাটি রাজ্যের কাছে ফেরত পাঠিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
রাজ্যকে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পরামর্শ ইউপিএসসির
গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুলাই মাসে রাজ্য সরকার কমিশনকে চিঠি দিয়ে নতুন ডিজিপি নিয়োগের জন্য একটি প্যানেল তৈরির প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। সেই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর রাজ্যে ডিজিপি পদে শূন্যতা তৈরি হওয়ায় রাজীব কুমারকে ভারপ্রাপ্ত ডিজি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁর মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি শেষ হতে চলেছে। তবে রাজ্যের পাঠানো এই চিঠি ফিরিয়ে দিয়ে ইউপিএসসি জানিয়েছে, প্রকাশ সিং মামলায় ২০০৬ সালের রায় সংশোধন করে ২০১৮ সালের ৩ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দেয় যে, ডিজিপি পদে শূন্যতা তৈরি হওয়ার অন্তত তিন মাস আগেই রাজ্য সরকারকে ইউপিএসসির কাছে প্রস্তাব পাঠাতে হবে।
ইউপিএসসির তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্যের প্রাক্তন ডিজিপি মনোজ মালব্য ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর তাঁর দু’বছরের মেয়াদ শেষ করে অবসর নেন। সেই হিসাবে নিয়ম মেনে সর্বোচ্চ ২০২৩ সালের মধ্যেই নতুন ডিজিপি নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানো উচিত ছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই প্রস্তাব পাঠিয়েছে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে, অর্থাৎ প্রায় দেড় বছর দেরিতে। এতটা বিলম্ব কেন হলো—এই প্রশ্ন তুলেই কমিশন রাজ্যকে চিঠি ফিরিয়ে দিয়েছে।
সূত্রের খবর, গত বছরের অক্টোবরে এমপ্যানেলমেন্ট কমিটির বৈঠক হলেও প্রস্তাব জমা দিতে দেরি হওয়ায় কমিটির সদস্যদের মধ্যেই মতবিরোধ দেখা দেয়। পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় কমিশন বিষয়টি ভারতের অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে পাঠিয়ে মতামত চায়। পরে অ্যাটর্নি জেনারেল স্পষ্ট জানান, রাজ্য সরকার যে এত দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তাব পাঠাতে দেরি করেছে, তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয় এবং এই বিলম্ব ক্ষমা করার মতো কোনও বিধান ইউপিএসসির হাতে নেই। এমন ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব এমপ্যানেলমেন্টের সুযোগ হারায় বলেও তিনি মত দেন। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের একমাত্র পথ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়া—এই সিদ্ধান্ত জানিয়েই গত ৩১ ডিসেম্বর ইউপিএসসির ডিরেক্টর নন্দ কিশোর কুমার সংশ্লিষ্ট সরকারি চিঠি জারি করেন।
