ভারতে ফেসবুক-গুগল নিষিদ্ধ করতে পারেন ট্রাম্প! সতর্কবার্তা জারি

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে কি বন্ধ হবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ভারতে?

- Advertisement -

বিশ্বজুড়ে আজ স্মার্টফোন মানেই অ্যান্ড্রয়েড আর আইওএস— এই দুই অপারেটিং সিস্টেমের দুনিয়া। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এই দুটি প্রযুক্তিই মূলত বিদেশি নিয়ন্ত্রণে, বিশেষ করে আমেরিকা ও যুক্তরাজ্যের অধীনে। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে ভারতের নামী শিল্পপতি হর্ষ গোয়েঙ্কা এক চিন্তাজনক প্রশ্ন তুলেছেন।

তিনি সম্প্রতি এক্স হ্যান্ডেলের পোস্টে লিখেছেন যে, কল্পনা করুন তো, যদি ট্রাম্প (Trump Warning India) ভারতে ফেসবুক-গুগল নিষিদ্ধ উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে, তাহলে এক্স হ্যান্ডেল থেকে শুরু করে গুগল, ইন্সট্রাগ্রাম, ফেসবুক বা চ্যাটজিপিটি কিছুই ব্যবহার করতে পারবেন না। কি শুনে ভয় লাগছে তো? এখন ভাবুন, আমাদের প্ল্যান বি তাহলে কী হতে পারে? এই এক বাক্যেই যেন প্রযুক্তি মহলে ঝড় তুলে দিয়েছে।

ট্রাম্প কি তাহলে সত্যিই নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে? (Trump Warning India)

ভারতে ফেসবুক-গুগল নিষিদ্ধ, আসলে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ভারতীয় রপ্তানিকৃত পণ্যের উপর প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছেন। দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে কোনও স্থায়ী বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর নেই বললেই চলে। এই প্রেক্ষিতে অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয়দের উপর আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। এমনকি সেই তালিকায় থাকতে পারে প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করার মতো সিদ্ধান্তও। তাই যদি কোনওদিন ঘুম থেকে উঠে দেখেন, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুক হঠাৎ কাজ করছে না— তাহলে অবাক হওয়ার কিছুই নেই!

রাখতে হবে ‘প্ল্যান বি’

এদিন হর্ষ গোয়েঙ্কা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ভারতের কোটি কোটি মানুষ আজ আমেরিকান প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল। যদি কোনও কারণে সেই সিস্টেম হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি মুহূর্তের মধ্যেই ভেঙে পড়বে। তাই বিকল্প প্রযুক্তির দিকেও নজর দেওয়া এখন সময়ের দাবি। গোয়েঙ্কার এই মন্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করে জোহো কর্পোরেশনের মালিক শ্রীধর ভেম্বু জানান, ভারত এখন শুধুমাত্র অ্যাপ নয়, অপারেটিং সিস্টেম ও চিপ প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও সম্পূর্ণভাবে আমদানি নির্ভর। তাঁর মতে, ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তি শক্তি গড়ে তুলতে অন্তত ১০ বছরের একটি জাতীয় মিশন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

--Advertisement--

বর্তমানে ভারতের প্রায় সব প্রযুক্তি খাত—সোশ্যাল মিডিয়া, সার্চ ইঞ্জিন, ক্লাউড স্টোরেজ বা ইন্টারনেট পরিষেবা—সবই মূলত মার্কিন সংস্থার নিয়ন্ত্রণে। অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস দু’টোই আমেরিকার মালিকানাধীন, আর গুগল, মেটা ও মাইক্রোসফটের মতো সংস্থাগুলি বিশ্বের ডিজিটাল ব্যবসাকে বড় পরিসরে প্রভাবিত করছে। এমনকি চিপসেট ও মাইক্রোপ্রসেসরও আসে মার্কিন বা তাইওয়ানের সংস্থা থেকে। ফলে যদি কোনওদিন এই পরিষেবাগুলি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে শুধু সোশ্যাল মিডিয়া নয়, বরং ব্যাংকিং, শিক্ষা, ই-কমার্স—সবকিছুই মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।

ভেম্বুর প্রস্তাব

শ্রীধর ভেম্বু জানিয়েছেন, ভারতকে এখনই নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম, মাইক্রো চিপ, ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং ডিজিটাল সিস্টেম গড়ে তোলার জন্য কাজ করতে হবে। শুধুমাত্র অ্যাপ বানালে কোনও কাজ হবে না। আমাদের প্রযুক্তির ভিতটাও শক্তপোক্ত করতে হবে। এমনকি তিনি আরও যোগ করেছেন, ভারতের প্রযুক্তি স্বাধীনতা শুধুমাত্র অর্থনৈতিক প্রয়োজন নয়, বরং কৌশলগত নিরাপত্তারও প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে। তাই এখন থেকেই প্রযুক্তির উপর বেশি জোর দিতে হবে।

--Advertisement--

🔴 প্রতিনিয়ত সর্বশেষ খবর পেতে এখনই Google-এ সার্চ করুন JKNEWS24 Bangla। পাশাপাশি, আরও দ্রুত আপডেট পেতে এখনই ফলো করুন JKNEWS24 WhatsApp Channel — প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এক ক্লিকে পৌঁছে যাবে আপনার মোবাইলে!

- Advertisement -
Amit Kormokar
Amit Kormokarhttps://jknews24.in
Amit Kormokar একজন অভিজ্ঞ টেক লেখক, যিনি দীর্ঘদিন ধরে স্মার্টফোন, গ্যাজেট এবং নতুন প্রযুক্তি নিয়ে লেখালেখি করছেন। প্রযুক্তির জগতে কী নতুন আসছে, কোন ফিচার সত্যিই ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী—এসব বিষয় সহজ ও মানবিক ভাষায় পাঠকের সামনে তুলে ধরাই তাঁর মূল লক্ষ্য। জটিল টেকনোলজি বিষয়ক তথ্যকেও তিনি সাবলীলভাবে ব্যাখ্যা করতে ভালোবাসেন। সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত গত দুই বছর ধরে। বারাসাত কলেজ থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে গ্র্যাজুয়েশন।
Latest news
- Advertisement -
Related news